জাতীয় নিরাপত্তা উদ্বেগের কারণে যুক্তরাষ্ট্রের সড়কে ইন্টারনেট সংযুক্ত ও স্বনিয়ন্ত্রিত যানবাহনে চীনা সফটওয়্যার ও হার্ডওয়্যার নিষিদ্ধ করার প্রস্তাব দিতে পারে যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য বিভাগ। জাতীয় স্বার্থ রক্ষা ও বিদেশী প্রযুক্তির সঙ্গে সম্পর্কিত সম্ভাব্য ঝুঁকি মোকাবেলার জন্য আরো বৃহত্তর প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে এ পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের চালক ও অবকাঠামো সম্পর্কে চীনা সংস্থাগুলো যে তথ্য সংগ্রহ করছে, তা নিয়ে গুরুতর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে বাইডেন প্রশাসন। তারা ইন্টারনেট সংযুক্ত যানবাহন ও নেভিগেশন সিস্টেমে বিদেশী হস্তক্ষেপের ঝুঁকি নিয়েও চিন্তিত, যা নিরাপত্তার জন্য হুমকি সৃষ্টি করতে পারে। প্রস্তাবিত প্রবিধান চীন থেকে গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগ বা স্বয়ংক্রিয় ড্রাইভিং সফটওয়্যার ও হার্ডওয়্যার ধারণ করে এমন যানবাহন আমদানি ও বিক্রয় নিষিদ্ধ করবে। নাম না প্রকাশের শর্তে সংশ্লিষ্ট দুটি সূত্র এসব তথ্য রয়টার্সকে নিশ্চিত করেছে। যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য সচিব জিনা রাইমন্ডো মে মাসে বলেছিলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের ইন্টারনেট সংযুক্ত যানবাহনে চীনা সফটওয়্যার বা হার্ডওয়্যারের ঝুঁকি উল্লেখযোগ্য।’ তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, ‘রাস্তায় চলমান কোটি কোটি গাড়ির সফটওয়্যার যদি হঠাৎ করে বন্ধ হয়ে যায়, তাহলে এটি সবচেয়ে খারাপ পরিস্থিতিরসৃষ্টি করতে পারে। ফলে ট্রাফিক দুর্ঘটনা বা বিশৃঙ্খলার মতো গুরুতর সমস্যা হতে পারে। কারণ অনেক যানবাহন নিরাপত্তা ও নেভিগেশন ফিচারের জন্য সফটওয়্যারের ওপর নির্ভর করে।’
রয়টার্স বলছে, ইন্টারনেট সংযুক্ত গাড়ি প্রযুক্তির কারণে চীন থেকে যানবাহন আমদানি করা জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি হতে পারে কিনা তা দেখার জন্য চলতি বছর ফেব্রুয়ারিতে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন তদন্তের নির্দেশ দিয়েছিলেন। তিনি জানতে চান, চীনা সফটওয়্যার ও হার্ডওয়্যারগুলো যুক্তরাষ্ট্রের সব যানবাহনে নিষিদ্ধ করা উচিত কিনা। চীনের নীতিগুলো তাদের বিপুলসংখ্যক যানবাহন মার্কিন বাজারে প্রবেশের সুযোগ তৈরি করে দিতে পারে বলে উদ্বেগ প্রকাশ করেন বাইডেন।
যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য বিভাগ জানিয়েছে, তারা নতুন নিয়ম চূড়ান্ত করার আগে জনসাধারণকে মতামত দেয়ার জন্য ৩০ দিন সময় দিতে চায়। যুক্তরাষ্ট্রের রাস্তায় বেশির ভাগ নতুন যানবাহনকে ইন্টারনেট সংযুক্ত হিসেবে বিবেচনা করা হয়, অর্থাৎ তাদের কাছে ইন্টারনেট অ্যাকসেস ও অন্যান্য ডিভাইসের সঙ্গে তথ্য শেয়ার করার প্রযুক্তি রয়েছে। বিভাগটি আরো জানিয়েছে, তারা এ সফটওয়্যার নিষেধাজ্ঞা ২০২৭ সালের যানবাহনে কার্যকর করতে চায় এবং হার্ডওয়্যার নিষেধাজ্ঞা ২০২৯ বা ২০৩০ সালের জানুয়ারিতে শুরু হতে পারে। এ নিষেধাজ্ঞাগুলো কিছু বিশেষ ব্লুটুথ, স্যাটেলাইট ও ওয়্যারলেস ফিচারযুক্ত যানবাহন এবং স্বনিয়ন্ত্রিত যানবাহনের জন্য প্রযোজ্য হবে, যা চালক ছাড়াই চলতে পারে। এছাড়া প্রস্তাবিত নিষেধাজ্ঞা রাশিয়ার মতো প্রতিপক্ষ রাষ্ট্রের ওপরও প্রযোজ্য হবে।
এদিকে জেনারেল মোটরস, টয়োটা, ফক্সওয়াগেন ও হুন্দাইয়ের মতো বড় গাড়ি প্রস্তুতকারকদের প্রতিনিধিত্ব করে এমন একটি ট্রেড গ্রুপ সতর্ক করেছে যে তাদের যানবাহনে হার্ডওয়্যার ও সফটওয়্যার পরিবর্তন করার জন্য একটি উল্লেখযোগ্য পরিমাণ সময় প্রয়োজন হবে। কারণ তাদের যানবাহনগুলো ব্যাপক পরীক্ষা ও প্রকৌশল প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যায় এবং যন্ত্রাংশ বা সিস্টেমগুলো অদলবদল করা সহজ নয়। (খবরঃ রয়টার্স)
ক্যাটাগরিঃ অর্থনীতি
ট্যাগঃ
মন্তব্য করুন