২৭ সেপ্টেম্বর থেকে চীনা ইভি ও সৌর পণ্যে মার্কিন শুল্ক – The Finance BD
 ঢাকা     শনিবার, ০৫ এপ্রিল ২০২৫, ০১:৪০ অপরাহ্ন

২৭ সেপ্টেম্বর থেকে চীনা ইভি ও সৌর পণ্যে মার্কিন শুল্ক

  • ১৫/০৯/২০২৪

চীনা বিদ্যুচ্চালিত গাড়ি (ইভি) ও সৌরবিদ্যুৎ সরঞ্জামের ওপর অতিরিক্ত শুল্ক প্রয়োগের সময়সীমা চূড়ান্ত করেছে যুক্তরাষ্ট্র। ২৭ সেপ্টেম্বর থেকে এ নীতি কার্যকর হবে বলে জানিয়েছে জো বাইডেন প্রশাসন। তাদের দাবি, বেইজিংয়ের অতিরিক্ত উৎপাদনের কৌশল থেকে স্থানীয় শিল্পকে সুরক্ষা দিতে এ ব্যবস্থা নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।
দেশটির ইউনাইটেড স্টেটস ট্রেড রিপ্রেজেন্টেটিভ (ইউএসটিআর) কার্যালয় জানিয়েছে, চীনা ইভির ওপর শতভাগ, সোলার সেলের ওপর ৫০ শতাংশ এবং ইস্পাত, অ্যালুমিনিয়াম, ইভি ব্যাটারি ও প্রধান খনিজ উপকরণের ওপর ২৫ শতাংশ শুল্ক প্রয়োগ হবে। ২৭ সেপ্টেম্বর থেকে প্রয়োগ হতে যাওয়া এ তালিকায় আরো কিছু পণ্য রয়েছে।
ইউএসটিআর বলছে, চীনা সেমিকন্ডাক্টরের ওপর ৫০ শতাংশ শুল্ক প্রয়োগ শুরু হবে ২০২৫ সালে। এর সঙ্গে আরো যুক্ত হবে সোলার প্যানেলে ব্যবহৃত সিলিকন ওয়েফার ও পলিসিলিকন।
নতুন এ ঘোষণার মাধ্যমে সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের শুল্কবিষয়ক পর্যালোচনার সমাপ্তি ঘটল। এতে মে মাসে বর্তমান প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন ঘোষিত শুল্ক অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে। ওই সময় ১ হাজার ৮০০ ডলারের পণ্যের ওপর শাস্তিমূলক এ শুল্ক ধার্য করেন তিনি। এর মধ্যে রয়েছে ইভিতে ব্যবহৃত লিথিয়াম আয়ন ব্যাটারি, খনিজ পদার্থ ও অন্যান্য উপকরণ। এসব ক্ষেত্রে ২৭ সেপ্টেম্বর থেকেই ২৫ শতাংশ শুল্ক প্রয়োগ হবে। তবে ল্যাপটপ ও সেলফোনসহ অন্য কিছু ডিভাইসে প্রযোজ্য হবে ২০২৬ সালের ১ জানুয়ারি।
এ বিষয়ে হোয়াইট হাউজের শীর্ষ অর্থনৈতিক উপদেষ্টা লায়েল ব্রেইনার্ড বলেন, ‘চীনের প্রভাবশালী সরবরাহ চেইনের বিপরীতে মার্কিন ইভি শিল্প যাতে বহুমুখী হয়, তা নিশ্চিত করতে এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছিল।’
তার ভাষ্য অনুসারে, চীনের রাষ্ট্রসমর্থিত ভর্তুকি ও প্রযুক্তি স্থানান্তর নীতি মোকাবেলায় এ ধরনের “কঠোর, নির্দিষ্ট লক্ষ্যযুক্ত” শুল্ক বাধা প্রয়োজন, যা চীনের অতিরিক্ত বিনিয়োগ ও অতিরিক্ত উৎপাদন ক্ষমতাকে খর্ব করবে। কিন্তু বিপরীত দিকে দেখা যাচ্ছে, দেশীয় ইভি, সৌর ও সেমিকন্ডাক্টর খাতের বিকাশে শত শত বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করছে ওয়াশিংটন।
লায়েল ব্রেইনার্ড জানান, ইভির ওপর যুক্তরাষ্ট্রের দেয়া শতভাগ শুল্ক চীনের অন্যায্য ও ব্যয়বহুল সুবিধাকে প্রতিফলিত করে। কারণ বেইজিং তার ইভি খাতকে বিশ্বের অন্যান্য গাড়ির বাজারে আধিপত্য বিস্তারে ব্যবহার করছে।
এদিকে চীন জানিয়েছে, শুল্ক বৃদ্ধির বিরুদ্ধে প্রতিশোধ নেয়া হবে। তাদের যুক্তি, সরকারি সাফল্য নয়, দেশটির ইভি শিল্পের সাফল্যের পেছনে রয়েছে নিত্যনতুন উদ্ভাবন।
শুল্ক বাড়ানোর সিদ্ধান্তের পেছনে খোদ যুক্তরাষ্ট্রে অসন্তুষ্টি রয়েছে। তথ্যপ্রযুক্তিবিষয়ক সংস্থা ইনফরমেশন টেকনোলজি ইন্ডাস্ট্রিজ কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট জেসন অক্সম্যান জানান, বর্ধিত শুল্ক এরই মধ্যে মার্কিন ব্যবসা ও ভোক্তা পর্যায়ে খরচ বাড়িয়েছে ২২ হাজার ১০০ কোটি ডলার। তা সত্ত্বেও চীনের বাণিজ্য নীতি পরিবর্তন করতে সফল হয়নি যুক্তরাষ্ট্র। শুল্ক অব্যাহত রাখার জন্য ইউএসটিআরের সমালোচনা করে বলেন, ‘তারা সাফল্যের প্রমাণ ছাড়াই একটি ভোঁতা ও অকার্যকর হাতিয়ার প্রয়োগ করছে।’
আগামী নভেম্বর যুক্তরাষ্ট্রে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে প্রেসিডেন্ট নির্বাচন। এ নির্বাচনে চীন প্রসঙ্গ বেশ গুরুত্বপূর্ণ। ভাইস প্রেসিডেন্ট ও ডেমোক্রেটিক দলের প্রার্থী কমলা হ্যারিস এবং সাবেক প্রেসিডেন্ট ও রিপাবলিকান প্রার্থী ডোনাল্ড ট্রাম্প দুজন গাড়ি ও ইস্পাত উৎপাদনকারী রাজ্যগুলোয় ভোটারদের প্রতি আকৃষ্ট করতে উচ্চ শুল্ক আরোপের অঙ্গীকার করেছেন। এর মধ্যে ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, সব চীনা আমদানির ওপর ৬০ শতাংশ শুল্ক দেবেন।
চীনা ইভি শিল্পের ওপর এরই মধ্যে ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও কানাডা নতুন আমদানি শুল্ক ঘোষণা করেছে, যা মার্কিন শতভাগ শুল্কের অনুরূপ।
Source : রয়টার্স।

ক্যাটাগরিঃ অর্থনীতি

ট্যাগঃ

মন্তব্য করুন

Leave a Reply




Contact Us