আন্তর্জাতিক পণ্যবাজারে গত সপ্তাহে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। এ সময় ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা ও অন্যান্য কারণে মূল্যবান ও ব্যবহারিক ধাতুর দাম বেড়েছে। এদিকে সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক মন্দার নিয়ে উদ্বেগ কিছুটা কমেছে। অন্যদিকে বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনীতির দেশ চীনে অর্থনৈতিক কার্যকলাপ কমায় বিশ্বব্যাপী নিম্নমুখী হয়েছে অন্যান্য পণ্যের দাম।
ফেডারেল ব্যাংক সুদহার কমাতে পারে এ সম্ভাবনা বাড়ছে। এছাড়া বিশ্বব্যাপী ভূরাজনৈতিক উত্তেজনার কারণে গত সপ্তাহে স্বর্ণের দাম আউন্সপ্রতি রেকর্ড ২ হাজার ৫০৯ ডলারে পৌঁছেছে। ব্যাংক অব জাপানের সাবেক বোর্ড মেম্বার মাকোতো সাকুরাই বলেন, ‘ফেডারেল ব্যাংক সুদহার বাড়াবে না এ সম্ভাবনায় মূল্যবান ধাতুর দাম বাড়ছে। গত সপ্তাহে স্বর্ণ আউন্সপ্রতি ৩ দশমিক ২ শতাংশ, রুপা ৫ দশমিক ৭, প্লাটিনাম ৩ দশমিক ৩ ও প্যালাডিয়ামের দাম ৪ দশমিক ৮ শতাংশ বেড়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের শ্রমবাজার শক্তিশালী হওয়ায় ব্যবহারিক ধাতুর বিষয়ে উদ্বেগ কমেছে। তবে সরবরাহ নিয়ে ঝুঁকির উদ্বেগে ধাতুটির দাম বেড়েছে।
বিশ্বের বৃহত্তম তামা উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর একটি চীনের শানডং প্লান্ট। এটি বন্ধ হয়ে যাওয়া এবং জাম্বিয়া ও কঙ্গোর উত্তেজনায় আফ্রিকার রফতানিতে সম্ভাব্য বাধার কারণে সরবরাহ উদ্বেগ আরো বেড়েছে। গত সপ্তাহে তামা পাউন্ডপ্রতি ৪ দশমিক ১ শতাংশ, নিকেল ১ দশমিক ৯, সিসা দশমিক ৩, দস্তা ১ দশমিক ২ ও অ্যালুমিনিয়ামের দাম ২ দশমিক ৯ শতাংশ বেড়েছে।
এদিকে কৃষিপণ্যের মধ্যে শীর্ষ উৎপাদনকারী দেশ যুক্তরাষ্ট্র ও ব্রাজিলে উৎপাদন বাড়ার সম্ভাবনায় সয়াবিন ও ভুট্টার দাম কমেছে। এছাড়া ভুট্টার দাম কমার পেছনে চীনের চাহিদা কমার সম্ভাবনাও ভূমিকা রেখেছে। গত সপ্তাহে সয়াবিনের বুশেলপ্রতি (৬০ পাউন্ড) দাম ৯ দশমিক ৫ ডলারে নেমেছে, যা ২০২০ সালের পর সর্বনিম্ন। ূঅন্যদিকে শিকাগো মার্কেন্টাইল এক্সচেঞ্জে গমের দাম বুশেলে ১ দশমিক ৬ শতাংশ বেড়েছে। ভুট্টা দশমিক ৭ শতাংশ, সয়াবিন ৪ দশমিক ৭ ও চালের দাম কমেছে ১ দশমিক ৮ শতাংশ।
এদিকে ব্রাজিলে তুষারপাতের উদ্বেগে বিশ্বব্যাপী কফির দাম বেড়েছে। অন্যদিকে পশ্চিম আফ্রিকায় উৎপাদন বাড়ার সম্ভাবনায় কমেছে কোকোর দাম। গত সপ্তাহে ইন্টারকন্টিনেন্টাল এক্সচেঞ্জে প্রতি পাউন্ড কফির দাম বেড়েছে ২ দশমিক ৪ শতাংশ। তুলার দাম কমেছে ১ দশমিক ৬ ও চিনি ২ দশমিক ১ শতাংশ। একই সময়ে কোকোর দাম কমেছে টনপ্রতি ৩ দশমিক ৯ শতাংশ।
যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভ (ফেড) সুদহার বাড়াবে কিনা তা নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে। এর মধ্যে দেশটিতে জুলাইয়ে এক মাসের ব্যবধানে ভোক্তা মূল্য সূচক (সিপিআই) দশমিক ২ এবং এক বছরের ব্যবধানে ২ দশমিক ৯ শতাংশ বেড়েছে। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে আশঙ্কার চেয়ে কম বেড়েছে মূল্যস্ফীতির হার। এরই মধ্যে বার্ষিক মুদ্রাস্ফীতি টানা চতুর্থ মাসে কমেছে। ২০২১ সালের মার্চের পর সর্বনিম্নে নেমেছে। ফলে ব্যাংকটি কর্মসংস্থান বাড়ানোর দিকে আরো বেশি মনোযোগী হবে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের খুচরা বিক্রিও জুলাইয়ে ১ শতাংশ বেড়েছে।
এ খবরের পরিপ্রেক্ষিতে আর্থিক বাজারের অনুমান অনুসারে, ফেড আগামী সেপ্টেম্বরে সুদহার ৫০ শতাংশীয় পয়েন্ট কমাতে পারে। চলতি বছরের শেষ পর্যন্ত ব্যাংকটির সুদহার মোট ১০০ শতাংশীয় পয়েন্ট কমানোর কথা ছিল।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রডিউসার প্রাইস ইনডেক্স (পিপিআই) জুলাইয়ে আগের মাসের তুলনায় দশমিক ১ শতাংশ এবং গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ২ দশমিক ২ শতাংশ বেড়েছে।
এদিকে চীনে শিল্পোৎপাদন বেড়েছে ৫ দশমিক ১ শতাংশ। বেকারত্বের হার বেড়েছে ৫ দশমিক ২ শতাংশ, যা আশঙ্কার চেয়ে বেশি। একই সময়ে চীনা খুচরা বিক্রি ২ দশমিক ৭ শতাংশ বেড়েছে। এতে আগের মন্দার আশঙ্কার পর দেশের অর্থনীতি পুনরুজ্জীবিত হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। (খবরঃ আনাদোলু এজেন্সি)
ক্যাটাগরিঃ অর্থনীতি
ট্যাগঃ
মন্তব্য করুন