যুক্তরাষ্ট্র ও স্বাগতিক ফ্রান্সের মেয়েদের বাস্কেটবল ফাইনালের মাধ্যমে রোববার প্যারিসের বার্কি অ্যারেনায় গ্রীষ্মকালীন অলিম্পিক গেমসের পর্দা নামে। তবে জমকালো এ আয়োজনের রেশ আরো কয়েক সপ্তাহ থাকবে। এটা অভাবনীয় নয় যে, স্বাগতিক দেশ ফ্রান্সের তো বটেই, অন্য দেশেও এ আয়োজনের আর্থিক দিক আলোচনায় থাকবে।
সিএনএনের প্রতিবেদন অনুসারে, অলিম্পিক ও অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া প্যারা-অলিম্পিক আয়োজন ফ্রান্সের জন্য অসাধারণ কৃতিত্বের হলেও আর্থিকভাবে কড়া হিসাবনিকাশের পথ খুলে দিয়েছে। কেননা বিশ্বের সবচেয়ে বড় ক্রীড়া আসরটি দিন দিন ব্যয়বহুল হয়ে উঠছে। তাই বিশ্লেষকরা বলছেন, অলিম্পিক আয়োজনের ক্ষেত্রে বাজেটের লাগাম টানতে হবে।
সাম্প্রতিক বছরগুলোয় বড় বাজেট, উচ্চ ঋণ, অবকাঠামো বাবদ অতিরিক্ত খরচ, বাসিন্দাদের স্থানান্তর, পরিবেশের ক্ষতির পাশাপাশি রাজনৈতিক সমস্যাও ইস্যু হয়ে দেখা দিয়েছে অলিম্পিকে। তবে আন্তর্জাতিক অলিম্পিক কমিটি (আইওসি) এসব সমস্যার সমাধান করার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছে। প্যারিস অলিম্পিক থেকেই সংস্থাটি খরচ ও পরিবেশের ক্ষতি কমানোর লক্ষ্য হাতে নিয়েছে।
অলিম্পিকের চূড়ান্ত আর্থিক ব্যয় নিয়ে গবেষণা করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের হলি ক্রস কলেজের অর্থনীতির অধ্যাপক ভিক্টর ম্যাথেসন। তিনি বলেন, ‘২০০০ সালের সিডনি অলিম্পিকের পর এটিই হবে প্রথম আয়োজন, যেখানে ব্যয় ১ হাজার কোটি ডলারের নিচে থাকছে। অনেক দেশ অলিম্পিক আয়োজন করতে আগ্রহ দেখাচ্ছে না। কারণ আগের আসরগুলোয় অতিরিক্ত ব্যয়ের তুলনায় আয় হয়নি।’
স্মিথ কলেজের ক্রীড়া অর্থনীতিবিদ অ্যান্ড্রু জিম্বালিস্ট বলেন, ‘১৯৬৮ সালে মেক্সিকো ও ১৯৭২ সালে মিউনিখ অলিম্পিকে মারাত্মক সহিংসতার ঘটনা ঘটে। ১৯৭৬ সালে মন্ট্রিয়ল অলিম্পিকে নাটকীয়ভাবে অতিরিক্ত খরচ হয়। এসব কারণে ১৯৮৪ সালের আয়োজন নিয়ে তেমন আগ্রহ দেখা যায়নি। অতিরিক্ত খরচের মাঝে ব্যতিক্রম ছিল যুক্তরাষ্ট্রের লস অ্যাঞ্জেলেস। এ শহরে বিদ্যমান অবকাঠামো ও স্টেডিয়াম অলিম্পিক আয়োজনে ব্যবহার করা হয়। পাশাপাশি বিভিন্ন বড় কোম্পানি স্পন্সর করে। এর মাধ্যমে সফলও হয় ১৯৮৪ সালের অলিম্পিক। ২১ কোটি ৫০ লাখ ডলার উদ্বৃত্ত নিয়ে আসরটি শেষ করে লস অ্যাঞ্জেলসের আয়োজক কমিটি।’
এরপর অলিম্পিক নিয়ে আবারো আগ্রহ দেখা যেতে শুরু করে। কিছু দেশ তো আয়োজনের অনুমতি পেতে ১০ কোটি ডলারেরও বেশি খরচ করেছে। তবে যখন অনুমতি পেয়েছে তখন বুঝতে পেরেছে যে ব্যয় পূর্বাভাসের চেয়ে অনেক বেশি হবে।
গত মে মাসে প্রকাশিত অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের এক গবেষণা অনুসারে, প্যারিসসহ গত গ্রীষ্ম ও শীতকালীন ছয়টি অলিম্পিকের পাঁচটিতেই মূল্যস্ফীতি সমন্বয়ের পর বাজেটের চেয়ে দ্বিগুণ খরচ হয়েছে। এমন ব্যয়স্ফীতি পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের মতো মেগা প্রকল্পেও দেখা যায় না।
অ্যান্ড্রু জিম্বালিস্ট জানান, চীন ২০০৮ সালে গ্রীষ্মকালীন অলিম্পিকে ৪ হাজার কোটি ডলারেরও বেশি, রাশিয়া ২০১৪ সালে শীতকালীন অলিম্পিকে ৫ হাজার কোটি ডলারের বেশি এবং ব্রাজিল ২০১৬ সালে গ্রীষ্মকালীন আসরে প্রায় ২ হাজার কোটি ডলার খরচ করে। তবে যে আসরের হিসাব করা হোক না কেন, মোট কত খরচ হয়েছে তা শুধু যে ক’দিন খেলা চলেছে তার মধ্যে সীমিত নয়। এতে আরো অনেক বিষয় অন্তর্ভুক্ত থাকে।
স্মিথ কলেজের এ ক্রীড়া অর্থনীতিবিদ জানান, অধিকাংশ ক্ষেত্রেই স্বল্প ও দীর্ঘমেয়াদে যে অর্থনৈতিক ক্ষতি হয় তা আমলে নেয়া হয় না। কিন্তু অবকাঠামো বাবদ ব্যয় হওয়া শ্রম ও অর্থ অর্থনীতিতে ব্যাপক প্রভাব ফেলে। এমনকি ওইসব এলাকার বাসিন্দাদের অন্যত্র সরিয়ে নেয়ারও প্রয়োজন দেখা দেয়। পাশাপাশি বড় আয়োজনের কারণে পরিবেশগত ক্ষতি তো রয়েছেই।
ক্যাটাগরিঃ অর্থনীতি
ট্যাগঃ
মন্তব্য করুন