কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক স্টার্টআপ এক্সএআইয়ে বিনিয়োগ বাড়াতে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন ইলোন মাস্ক। প্রযুক্তি কোম্পানিটিতে বিদ্যুচ্চালিত গাড়ি (ইভি) নির্মাতা টেসলার ৫০০ কোটি ডলার বিনিয়োগ করা উচিত হবে কিনা তা যাচাইয়ে জরিপের আয়োজনও করেছেন এ ধনকুবের। প্রাথমিক খবরে জানা গেছে, এক্সে আয়োজিত এ জরিপে বিনিয়োগের পক্ষে বেশি ভোট আসছে।
প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে ইভির মূল্যহ্রাস ও এআইয়ের বিভিন্ন প্রকল্পে খরচ বৃদ্ধির কারণে সাম্প্রতিক প্রান্তিকগুলোয় টেসলার আয়-ব্যয়ের ভারসাম্য অনেকটাই ব্যাহত হচ্ছে। চলতি বছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকে (এপ্রিল-জুন) টেসলার মুনাফার পরিমাণ পাঁচ বছরের মধ্যে সর্বনিম্নে নেমে এসেছে।
এ অবস্থায় জরিপ প্রসঙ্গে ইলোন মাস্ক বলেন, ‘এক্সএআইয়ে টেসলার বিনিয়োগের জন্য বোর্ডের অনুমোদন ও শেয়ারহোল্ডারদের ভোটের প্রয়োজন। তাই পরিস্থিতি যাচাই করতেই এ জরিপ।’
টেসলার আয় সম্পর্কিত কনফারেন্স কলে গত সপ্তাহে এক্সএআই প্রসঙ্গে ইলোন মাস্ক বলেন, ‘এটি চালকবিহীন গাড়ি পরিচালনাকে আরো উন্নত করতে ও টেসলার নতুন ডাটা সেন্টার তৈরিতে সহায়ক হবে।’
এক্সএআইয়ের চ্যাটবট গ্রককে টেসলার সফটওয়্যারের সঙ্গে একীভূত করার সুযোগ রয়েছে বলেও জানান ইলোন মাস্ক।
জরিপ শুরুর ৩ ঘণ্টার মধ্যে ভোট দিয়েছে প্রায় ৩ লাখ ৮৬ হাজার জন। তাদের ৭০ শতাংশই নতুন স্টার্টআপটিতে বিনিয়োগের পক্ষে মত দিয়েছেন।
বিশ্বের শীর্ষ ধনী ইলোন মাস্ক চ্যাটজিপিটির বিকল্প গড়ে তোলার আশায় গত বছর এক্সএআই চালু করেছিলেন। স্টার্টআপটি মে মাসে প্রায় ৬০০ কোটি ডলারের তহবিল সংগ্রহ করেছে। এক্সএআইয়ের পোস্ট-মানি ভ্যালুয়েশনের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ৪০০ ডলার। স্টার্টআপটির পেছনে সিলিকন ভ্যালি-ভিত্তিক বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠান আন্দ্রেসেন হোরোভিটজ ও সেকোইয়া ক্যাপিটালের সমর্থন রয়েছে।
মাইক্রো ব্লগিং প্লাটফর্ম এক্সের এক-চতুর্থাংশ বিনিয়োগকারী এক্সএআইতে বিনিয়োগ করবে বলে এর আগে পরিকল্পনা করেছিলেন ইলোন মাস্ক। টেসলা থেকে অন্যান্য কিছু সংস্থায় সম্পদ সরিয়ে নিতে পারেন বলে যে গুঞ্জন ছিল, কনফারেন্স কলে এবার সে উদ্বেগও উড়িয়ে দেন তিনি।
গত জুনে এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল যে, টেসলার জন্য নির্ধারিত কয়েক হাজার এআই চিপ এক্সএআই ও এক্সে পাঠানোর জন্য এনভিডিয়াকে বলেছিলেন ইলন মাস্ক। তখন এ ধনকুবের বলেছিলেন, ‘টেসলার ডাটা সেন্টার পূর্ণ এবং নতুন চিপ রাখার কোনো জায়গা নেই।’
এক্সে প্রায়ই বিভিন্ন জরিপ করে থাকেন মাস্ক। তার টেসলার শেয়ারের ১০ শতাংশ বিক্রি করা উচিত কিনা সে সম্পর্কেও তিনি ২০২১ সালে টুইটার ব্যবহারকারীদের মধ্যে একটি জরিপ করেছিলেন। ভোটের কিছুদিন পরই মাস্ক শেয়ার বিক্রি শুরু করেন।
Source: Reuters
ক্যাটাগরিঃ অর্থনীতি
ট্যাগঃ
মন্তব্য করুন