বৈশ্বিক মোবাইল অ্যাপ্লিকেশন (অ্যাপ) মার্কেটের আকার চলতি বছর ৩৩ হাজার ৬১ কোটি ডলারে পৌঁছবে। বাজার গবেষণা ও পরামর্শদাতা সংস্থা প্রিসিডেন্স রিসার্চের পূর্বাভাস অনুসারে, এ বাজার আগামী এক দশক অর্থাৎ ২০৩৪ সাল নাগাদ ট্রিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে যাবে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চলতি বছর থেকে ২০৩৪ সাল নাগাদ মোবাইল অ্যাপ মার্কেটের সমন্বিত বার্ষিক প্রবৃদ্ধি (সিএজিআর) হতে পারে ১৪ দশমিক ৩৩ শতাংশ। মোবাইল অ্যাপ মার্কেট বাড়ার কারণ হচ্ছে স্মার্টফোন ও অ্যাপ-ভিত্তিক পরিষেবা ব্যবহারের বৃদ্ধি। এর মধ্যে এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলের মোবাইল অ্যাপ মার্কেটের আকার গত বছর ছিল ৯ হাজার ৫৪৩ কোটি ডলার। ২০২৪ সালকে ভিত্তি বছর ধরে পরবর্তী এক দশকের সিএজিআর ১৪ দশমিক ৫০ শতাংশ হারে বাড়বে। এ হিসেবে ২০৩৪ সালে বাজার পৌঁছবে প্রায় ৩৬ হাজার ৯৬৭ কোটি ডলারে। প্রতিবেদন অনুসারে, ২০২৪ সালে বৈশ্বিক মোবাইল অ্যাপ বাজারের আকার ছিল ২৮ হাজার ৯১৭ কোটি ডলারে, যা ২০৩৪ সাল নাগাদ প্রায় ১ লাখ ১০ হাজার ৩৪৮ কোটি ডলারে পৌঁছতে পারে। ২০২৫-৩৪ সাল নাগাদ সমন্বিত বার্ষিক প্রবৃদ্ধি হতে পারে ২১ দশমিক ৫৫ শতাংশ। হালে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ও মেশিন লার্নিংয়ের (এমএল) মাধ্যমে নতুনভাবে সংজ্ঞায়িত হচ্ছে মোবাইল অ্যাপ। বিশেষ করে এআই অ্যালগরিদম যোগ করলে অ্যাপের ইন্টারফেস উন্নত হয়। এটি ব্যবহারকারীর আচরণ ও পছন্দ বিশ্লেষণ করে তার মানানসই অভিজ্ঞতা প্রদান করে। এআই অ্যালগরিদম অ্যাপের সুরক্ষা ব্যবস্থাও উন্নত করে। এছাড়া চ্যাটবটের মতো এআই টুল ব্যবহারকারীর অভিজ্ঞতা উন্নত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এসব প্রযুক্তি রিয়েল-টাইম বা তাৎক্ষণিকভাবে পরিষেবা দিতে পারে। প্রতিবেদনে বলা হয়, স্মার্টফোন ব্যবহার বৃদ্ধি ও আইওটি, এআই, এআর বা ভিআরের মতো উন্নত প্রযুক্তি দ্রুত গ্রহণের কারণে এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলে মোবাইল অ্যাপ মার্কেট দ্রুত বাড়ছে। চীন অ্যাপ ডাউনলোডে এগিয়ে আর ভারত দৈনিক ব্যবহারে শীর্ষে। আয় বৃদ্ধি ও সরকারি সমর্থনের পাশাপাশি সাশ্রয়ী ডাটা প্ল্যান বাজার সম্প্রসারণে ভূমিকা রাখছে। ২০২১ সালে উত্তর আমেরিকা ও ইউরোপ বৈশ্বিক মোবাইল অ্যাপ বাজারের ৬০ শতাংশের বেশি আয় হিস্যা নিয়ে শীর্ষে ছিল। অ্যাপল, আইবিএম ও গুগলের মতো বড় কোম্পানিগুলো তখন নেতৃত্বে ছিল। এর পেছনে ভূমিকা রেখেছে দ্রুত প্রযুক্তি গ্রহণ ও ডিজিটাল রূপান্তরে বড় বিনিয়োগ। এক্ষেত্রে মিডিয়া ও বিনোদন শিল্প ডিজিটাইজেশনের কারণে সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত হয়েছে।
মোবাইল অ্যাপ মার্কেটে উত্তর আমেরিকায় যুক্তরাষ্ট্র শীর্ষে অবস্থান করছে। এক্ষেত্রে এগিয়ে মোবাইল গেম অ্যাপস। ব্যবহারকারীর সংখ্যা বাড়ছে ও ইন-অ্যাপ পুরস্কারের জনপ্রিয়তা থাকায় দেশটি মোবাইল গেমিং অ্যাপের জন্য লাভজনক বাজার হিসেবে উঠবে। প্রধান কোম্পানিগুলোর উপস্থিতি উত্তর আমেরিকার মোবাইল অ্যাপ মার্কেটের প্রবৃদ্ধিতে সহায়তা করছে। বিশ্বব্যাপী মোবাইল অ্যাপ মার্কেটের মধ্যে স্মার্টফোনের জন্য বিভিন্ন অ্যাপ তৈরি ও বিতরণ করা হয়। মোবাইল অ্যাপগুলো প্রধানত অ্যাপল অ্যাপ স্টোর বা গুগল প্লে স্টোরের মাধ্যমে বিতরণ করা হয়। প্রযুক্তিগত অগ্রগতি, যেমন দ্রুততর প্রসেসর, উন্নত সংযোগ ও উন্নয়নশীল দেশে স্মার্টফোনের ব্যবহার বৃদ্ধি, মোবাইল অ্যাপ মার্কেটের সম্প্রসারণ ঘটছে।
ক্যাটাগরিঃ অর্থনীতি
ট্যাগঃ
মন্তব্য করুন