ফেব্রুয়ারিতে এশিয়ার সমুদ্রপথে তাপীয় কয়লা (ইস্পাত ও ধাতু শিল্পে ফার্নেসে জ্বালানি হিসেবে ব্যবহৃত কয়লা) আমদানি তিন বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে এসেছে। চীন ও ভারতের চাহিদা কমে যাওয়ায় এ পরিস্থিতির তৈরি হয়েছে। তবে বিশেষজ্ঞরা আশা করছেন, শিল্পোৎপাদন বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সংশ্লিষ্ট দেশে চাহিদা বাড়াবে। ফলে এপ্রিল থেকে তাপীয় কয়লা আমদানি পুনরুদ্ধার হতে পারে। খবর রয়টার্স।
পণ্য বিশ্লেষক সংস্থা কেপলারের তথ্যানুসারে, গত মাসে এশিয়ার সমুদ্রপথে তাপীয় কয়লার আমদানি ১ কোটি ৫৮ লাখ ৫০ হাজার টনে নেমেছে, যা ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারির পর সর্বনিম্ন। এছাড়া জানুয়ারিতে আমদানির পরিমাণ ছিল ২ কোটি ৪২ লাখ টন। ফেব্রুয়ারিতে শীর্ষ ব্যবহারকারী ভারতের আমদানি কমে ৪০ লাখ ৫৬ হাজার টনে দাঁড়িয়েছে, যা ২০২১ সালের ডিসেম্বরের পর সবচেয়ে কম। তবে জানুয়ারিতে আমদানি হয়েছিল ৬০ লাখ ২৬ হাজার টন।
২০২৪ সালের এপ্রিলে শুরু হওয়া অর্থবছরে ভারতের ইস্পাত উৎপাদন কিছুটা বেড়েছে। গত জানুয়ারির শেষ নাগাদ ১০ মাসে ১২ কোটি ৪৮ লাখ টন ইস্পাত উৎপাদনের তথ্য পাওয়া গেছে, যা আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় প্রায় ৪ দশমিক ৫ শতাংশ বেশি।
উচ্চ আমদানি ও ইস্পাত তৈরির কাঁচামাল কোক আমদানির ওপর সরকারি নিষেধাজ্ঞার কারণে সাম্প্রতিক মাসগুলোয় উৎপাদন কমেছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। এছাড়া স্থানীয় প্রস্তুতকারকদের অভ্যন্তরীণভাবে উৎপাদিত কোক ব্যবহারে উৎসাহিত করায় আমদানি কমেছে। সেই সঙ্গে দেশটির ইস্পাত আমদানি ৮০ লাখ ৩০ হাজার টনে পৌঁছেছে, যা অর্থবছরের প্রথম ১০ মাসে রেকর্ড সর্বোচ্চে। এটি এক বছরের আগের একই সময়ের তুলনায় ২০ দশমিক ৩ শতাংশ বেশি। আমদানির উচ্চ স্তরের কারণে সরকার ইস্পাত আমদানির ওপর ১৫-২৫ শতাংশ পর্যন্ত একটি সুরক্ষা শুল্ক বা অস্থায়ী কর প্রবর্তনের প্রস্তাব করেছে।
কেপলারের তথ্যানুসারে, সমুদ্রপথে তাপীয় কয়লার দ্বিতীয় বৃহত্তম আমদানিকারক চীন। ফেব্রুয়ারিতে দেশটির আমদানি ১৮ মাসের মধ্যে সর্বনিম্নে নেমে ২০ লাখ ৮৮ হাজার টন হয়েছে, যা জানুয়ারিতে ছিল ৪০ লাখ ৬০ হাজার টন। প্রতিবেশী মঙ্গোলিয়া থেকে বাড়তি সরবরাহ ও কম ইস্পাত উৎপাদনের কারণে চীনের তাপীয় কয়লার আমদানি কমেছে। চীনের কর্তৃপক্ষ ইঙ্গিত দিয়েছে, এ বছর ইস্পাত উৎপাদন ২০২৪ সালে রেকর্ড ১৩০ কোটি টনের তুলনায় কম হবে, যা তাপীয় কয়লা আমদানির জন্য বেশ মন্দার কারণ বলে মনে হচ্ছে। অবশ্য চীন ফেব্রুয়ারিতে মার্কিন তাপীয় কয়লা আমদানির ওপর ১৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেছে। ফলে তাপীয় কয়লার চাহিদা মেটাতে বেইজিংকে বিকল্প সরবরাহকারী খুঁজতে হবে। মার্কিন তাপীয় কয়লার ওপর চীনের শুল্ক আরোপের ফলে সমুদ্রপথে আমদানি বাড়বে।
ক্যাটাগরিঃ অর্থনীতি
ট্যাগঃ
মন্তব্য করুন