চীনা মালিকানাধীন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম টিকটক কেনার বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রশাসন চারটি আলাদা গ্রুপের সঙ্গে আলোচনা চলছে বলে জানিয়েছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সব বিকল্পই ভালো বলে মনে করেন তিনি। চারটি কোম্পানিই এ অধিগ্রহণে আগ্রহী দেখিয়েছে বলে জানান তিনি।
ীনা মালিকানাধীন এ অ্যাপটির মাসিক ব্যবহারকারী প্রায় ১৭ কোটি আমেরিকান। যুক্তরাষ্ট্রে টিকটকের ভবিষ্যৎ এখন অনিশ্চিত। কারণ গত ১৯ জানুয়ারি একটি আইন কার্যকর হয়, যার মাধ্যমে টিকটকের মালিক বাইটড্যান্সকে তাদের যুক্তরাষ্ট্রের ব্যবসা বিক্রি করতে বলা হয় বা এ সময়ের মধ্যে বিক্রি না করলে নিষিদ্ধ হওয়ার ঝুঁকির মধ্যে পড়তে হতো। জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে এ নির্দেশ দেয় যুক্তরাষ্ট্র। তবে গত ২০ জানুয়ারি প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব নেয়ার পর ট্রাম্প এক নির্বাহী আদেশে আইনটির প্রয়োগ ৭৫ দিন পিছিয়ে দেয়ার নির্দেশ দেন।
টিকটক নিয়ে শিগগির কোনো চুক্তি হতে পারে কি না, এমন প্রশ্নের উত্তরে এয়ারফোর্স ওয়ানে সাংবাদিকদের ট্রাম্প বলেন, এটা হতে পারে। আমরা চারটি আলাদা গ্রুপের সঙ্গে আলোচনা করছি এবং অনেকেই এটি কিনতে আগ্রহী। চারটি গ্রুপই ভালো। টিকটক এবং বাইটড্যান্সকে গণমাধ্যমের পক্ষ থেকে মন্তব্যের জন্য অনুরোধ করা হলেও তারা সরাসরি উত্তর দেয়নি। তবে প্ল্যাটফর্মটি বিক্রির কোনো পরিকল্পনা নেই বলে বারবার জানিয়েছে বাইটড্যান্স।
বিশ্বের অন্যতম জনপ্রিয় ভিডিও শেয়ারিং প্ল্যাটফর্মটির মালিকানা অর্জনের ক্ষেত্রে ব্যাপকসংখ্যক বিনিয়োগকারী, প্রযুক্তি ও বিনোদনজগতের ব্যক্তিত্বদের আকৃষ্ট করেছে। এর মধ্যে লস অ্যাঞ্জেলেস ডজার্সের সাবেক মালিক ফ্র্যাঙ্ক ম্যাককোর্ট রয়েছেন, যারা এ দ্রুত-বর্ধনশীল ব্যবসায় আগ্রহ দেখিয়েছেন। ম্যাককোর্টের এ অধিগ্রহণ প্রচেষ্টায় আগ্রহ প্রকাশ করেছেন রেডিটের সহপ্রতিষ্ঠাতা ও ভেঞ্চার ক্যাপিটালিস্ট অ্যালেক্সিস ওহানিয়ান। ফ্রাংক ম্যাককোর্টের টিকটক কেনার উদ্যোগে কৌশলগত পরামর্শদাতা হিসেবে যুক্ত হয়েছে তিনি।
ম্যাককোর্ট বলেন, তিনি বিস্তৃত অভিজ্ঞতা নিয়ে এসেছেন। তার সোশ্যাল মিডিয়ার গতিপথ এবং এর ভবিষ্যৎ সম্পর্কে একটি গভীর ধারণা রয়েছে। ফ্রাংক ম্যাককোর্ট আরও বলেন, ওহানিয়ান তার ‘প্রজেক্ট লিবার্টি’ নামে টিকটকের যুক্তরাষ্ট্রের ব্যবসা কেনার প্রস্তাব প্রচারে সাহায্য করবেন। ম্যাককোর্ট জানান, তিনি টিকটক বিডের ব্যাপারে হোয়াইট হাউসে ব্যাপক তথ্য পাঠিয়েছেন, যার মধ্যে অর্থায়ন, প্রযুক্তির প্রতি তার দৃষ্টিভঙ্গি এবং বিড কীভাবে জাতীয় নিরাপত্তা ইস্যুগুলোকে সমাধান করে, সে সম্পর্কে বিস্তারিত অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
ম্যাককোর্টের এই উদ্যোগ ‘পিপলস বিড’ নামে পরিচিত। কারণ এটি ব্যবহারকারীদের ডেটা ব্যবহারের ওপর আরও বেশি নিয়ন্ত্রণ দিতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। ওহানিয়ান জানান, এই প্রকল্পে কাজ করতে এবং মানুষের ডেটার ওপর অধিক নিয়ন্ত্রণ দিতে তিনি অনেক আগ্রহী।
বর্তমানে টিকটকের চীনা প্যারেন্ট কোম্পানি বাইটড্যান্স হালকাভাবে এ প্রক্রিয়ায় জড়িত রয়েছে এবং তারা এখনো বিক্রির জন্য নির্দিষ্ট কোনো সম্পদ বা মূল্য নির্ধারণ করেনি। ম্যাককোর্ট জানিয়েছেন, বিক্রি করার চেয়ে টিকটক বন্ধ করারও সিদ্ধান্ত নিতে পারে বাইটড্যান্স।
অন্যান্য বিডারের মধ্যে রয়েছে প্রযুক্তি উদ্যোক্তা জেসি টিন্সলির নেতৃত্বাধীন বিনিয়োগকারীদের একটি দল, যার মধ্যে ইউটিউব তারকা মিস্টারবিস্ট (যার আসল নাম জিমি ডোনাল্ডসন) এবং ওয়াইমিংয়ের উদ্যোক্তা রিড রাসনার রয়েছেন। বিশ্লেষকরা অনুমান করছেন, টিকটকের মূল্য প্রায় ৫০ বিলিয়ন ডলার হতে পারে।
এর আগে টিকটক কেনার বিষয়ে আগ্রহ দেখায় প্রযুক্তি খাতের বৃহৎ প্রতিষ্ঠান মাইক্রোসফট। টিকটক অধিগ্রহনের জন্য মাইক্রোসফট কোনো প্রস্তুতি নিচ্ছে কিনা এ বিষয়ে জানতে চাইলে ট্রাম্প বলেছিলেন, ভিডিও শেয়ারিং ওই প্লাটফর্মটি কেনার জন্য মাইক্রোসফটের সাথে আরও কয়েকটি প্রতিষ্ঠানেরও আগ্রহ রয়েছে। টিকটক অধিগ্রহণে নাম জড়ায় বিশ্বের শীর্ষ ধনী ইলন মাস্কের। তবে টিকটক কিনতে আগ্রহী নন বলে জানিয়েছেন মাস্ক। অনলাইনে প্রকাশিত এক ভিডিওতে মাস্ক বলেন, আমি টিকটকের জন্য কোনো বাজি ধরিনি। যুক্তরাষ্ট্রে টিকটক থাকলে আমি কী করব তা নিয়ে আমার কোনো পরিকল্পনাও নেই।
খবর: এবিসি নিউজ।
ক্যাটাগরিঃ অর্থনীতি
ট্যাগঃ
মন্তব্য করুন