ভিয়েতনামের কারখানায় নবায়নযোগ্য বিদ্যুৎ ব্যবহার করবে জায়ান্ট কোম্পানিগুলো – The Finance BD
 ঢাকা     শনিবার, ০৫ এপ্রিল ২০২৫, ০২:৪৭ অপরাহ্ন

ভিয়েতনামের কারখানায় নবায়নযোগ্য বিদ্যুৎ ব্যবহার করবে জায়ান্ট কোম্পানিগুলো

  • ২৭/০৭/২০২৪

বায়ু ও সূর্যালোকের মতো নবায়নযোগ্য উৎস থেকে উৎপাদিত বিদ্যুৎ ব্যবহারে নতুন লক্ষ্যমাত্রা ঠিক করেছে ভিয়েতনাম। প্রচুর জ্বালানি ব্যবহার করে স্যামসাংসহ এমন বৈশ্বিক কোম্পানিকে এ ধরনের বিদ্যুৎ কেন্দ্র থেকে বিদ্যুৎ কেনার অনুমতি দিতে যাচ্ছে দেশটি। এতে কোম্পানিগুলোর জলবায়ু লক্ষ্যমাত্রা অর্জন সহজ হবে বলে আশা করা হচ্ছে। মূল বিদ্যুৎ গ্রিডের ওপর থেকে অতিরিক্ত চাপ কমাতে এমন পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন ভিয়েতনামের কর্মকর্তারা।
চলতি মাসের শুরুতে এ-সংক্রান্ত ডিরেক্ট পাওয়ার পারচেজ এগ্রিমেন্ট (ডিপিপিএ) অনুমোদন করেছে ভিয়েতনাম সরকার। এর আগে দেশটির ব্যবহারকারীদের বাধ্যতামূলকভাবে রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান ভিয়েতনাম ইলেকট্রনিকস বা ইভিএন এবং এর সহযোগী উৎপাদন কেন্দ্রগুলোর বিদ্যুৎ কিনতে হতো। নতুন চুক্তির ফলে এ নিয়ম আর কার্যকর থাকছে না। দেশটির বিদেশী বিনিয়োগকারীরা আগে থেকে এ দাবি জানিয়ে আসছিলেন।
হ্যানয়ভিত্তিক আন্তর্জাতিক আইনি পরামর্শক প্রতিষ্ঠান অ্যালেনসের অংশীদার গাইলস কুপার বলেন, ‘অনুমোদিত ডিপিপিএ বিদ্যমান অবস্থায় ব্যাপক পরিবর্তন আনবে।’
বিশ্লেষক সংস্থা উড ম্যাকেঞ্জির এশিয়া প্যাসিফিক পাওয়ার রিসার্চের প্রধান কেনঘো লি বলেন, ‘এ ধরনের চুক্তির আওতায় বিশ্বজুড়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন ২০২৩ সাল নাগাদ ২৬ গিগাওয়াটে পৌঁছেছে, যা ২০২১ সালে ছিল ১৫ গিগাওয়াট। চুক্তিভিত্তিক এ বিদ্যুতের ৮০ শতাংশ অস্ট্রেলিয়া ও তাইওয়ানে উৎপাদন হয়।’
চীনের বাইরে সরবরাহ শৃঙ্খল সম্প্রসারণ করতে চায় এমন ব্যবসায়ীদের জন্য ভিয়েতনাম ভালো বিকল্প। ফলে বিদেশী বিনিয়োগ আকর্ষণ ও বিনিয়োগকারীদের স্থিতিশীল ও পরিবেশবান্ধব বিদ্যুতের চাহিদার পরিপ্রেক্ষিতে এ চুক্তির অনুমোদন দিয়েছে ভিয়েতনাম সরকার। বিশ্লেষকরা বলছেন, এতে দেশটিতে আরো সৌর ও বায়ুবিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণ করা হবে, যা পরিবেশবান্ধব বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা বাড়াবে।
দেশটির শিল্প ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের করা এক জরিপে দেখা যায়, প্রায় ২০টি বড় কোম্পানি সরাসরি উৎপাদন কেন্দ্র থেকে পরিবেশবান্ধব বিদ্যুৎ কিনতে আগ্রহী। এর মোট পরিমাণ প্রায় এক গিগাওয়াট সমান।
ভিয়েতনামের সবচেয়ে বড় বিদেশী বিনিয়োগকারী কোম্পানি স্যামসাং। দক্ষিণ কোরীয় কোম্পানিটি মোট উৎপাদনের অর্ধেকই ভিয়েতনামে সম্পন্ন করে। স্যামসাংয়ের লক্ষ্য ২০২৭ সালে তাদের কারখানাগুলোয় শতভাগ নবায়নযোগ্য জ্বালানি ব্যবহার উপযোগী করা। বর্তমান চুক্তি নিয়ে কোম্পানিটি প্রথম ভিয়েতনাম সরকারের সঙ্গে কাজ শুরু করেছিল।
এদিকে অ্যাপলও এ চুক্তিকে স্বাগত জানিয়েছে। এ সংস্কারকে একটি পরিবেশবান্ধব বিদ্যুৎ গ্রিড তৈরির গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বর্ণনা করেছে কোম্পানিটি। এর আগে কভিড-১৯ মহামারীর সময় চীন থেকে কিছু উৎপাদন কেন্দ্র ভিয়েতনামে সরিয়ে এনেছিল অ্যাপল। কোম্পানিটির কার্বন সাপ্লায়ার সলিউশনের প্রধান বেজমা আলজারবু এক বিবৃতিতে বলেন, ‘এতে বিদ্যুৎ সরবরাহকারীরা কার্যকর সুযোগ লাভ করবে, যা ২০৫০ সালের মধ্যে ভিয়েতনামের কার্বন নিরপেক্ষ হওয়ার লক্ষ্যমাত্রার সঙ্গে সংগতিপূর্ণ। একই সঙ্গে ২০৩০ সালের মধ্যে কার্বন নিরপেক্ষ হওয়ার বৈশ্বিক লক্ষ্যমাত্রার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।’
ভিয়েতনাম ২০১৫-২৩ সালের মধ্যে বায়ু ও সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন ১০ গুণ বাড়াতে সক্ষম হয়েছে। দেশটির মোট বিদ্যুতের ১৩ শতাংশ এ ধরনের নবায়নযোগ্য উৎস থেকে সরবরাহ হয়।
তবে ডিপিপিএর সাফল্য নির্ভর করছে ভিয়েতনাম কত দ্রুত বিদ্যুৎ গ্রিডকে হালনাগাদ করতে পারে এর ওপর। প্রসঙ্গত, কয়েক বছর ধরে পরিবেশবান্ধব বিদ্যুৎ উৎপাদনে বৈশ্বিক গতির সঙ্গে তাল রাখতে পারছে না। দেশটি বলছে, এ পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে তাদের প্রায় ১ হাজার ৫০০ কোটি ডলার প্রয়োজন।
সূত্র : এপি।

ক্যাটাগরিঃ অর্থনীতি

ট্যাগঃ

মন্তব্য করুন

Leave a Reply




Contact Us