ভারতের পুঁজিবাজারে পতনের মধ্য দিয়ে চলতি সপ্তাহ শুরু হয়েছে। সপ্তাহের প্রথম ট্রেডিং সেশনের মতো গতকাল বুধবারও ধস নামে দেশটির পুঁজিবাজারে। প্রধান দুই মূল্যসূচক সেনসেক্স ও নিফটি ৫০-এর পয়েন্ট কমেছে ১ শতাংশের বেশি। এ দিন বাজার খোলার পর থেকে পয়েন্ট কমতে শুরু করে। বেলা যত গড়িয়েছে সেই পতনের মাত্রা আরও গভীর হয়েছে। বাজার বন্ধের সময় ৮৫৬ পয়েন্ট কমে সেনসেক্স রয়েছে ৭৫ হাজার পয়েন্টে। নিফটি৫০ ২৪২ পয়েন্ট কমে অবস্থান করছে ২২ হাজার ৫৫৩ পয়েন্টে।
সেনসেক্স ও নিফটি৫০–এর পাশাপাশি পুঁজিবাজারের অধিকাংশ সেক্টরাল সূচকের পতন হয়েছে। বাজার বন্ধের সময় নিফটি এমএমসিজি, নিফটি ইন্ডিয়া ডিফেন্স এবং নিফটি অটো ছাড়া নিফটির সব ইনডেক্স নেগেটিভে রয়েছে। নিফটি আইটি ইনডেক্স ২ দশমিক ৬৮ শতাংশ কমেছে। নিফটি মেটাল কমেছে ২ দশমিক ২২ শতাংশ। এ দুই খাতের পতন হয়েছে সবথেকে বেশি। বম্বে স্টক এক্সচেঞ্জ এবং ন্যাশনাল স্টক এক্সচেঞ্জের মিড ক্যাপ এবং স্মল ক্যাপ ইনডেক্সও কমেছে। এ পতনের পেছনে বেশ কয়েকটি কারণ চিহ্নিত করেছেন বিশ্লেষকরা।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট হিসাবে দায়িত্ব নেয়ার পর থেকে ডোনাল্ড ট্রাম্প বিভিন্ন দেশের পণ্যে শুল্ক বসানোর হুঁশিয়ারি দিচ্ছেন। ইতিমধ্যে বেশ কয়েকটি পণ্যে অতিরিক্ত আমদানি শুল্ক চাপানোর ঘোষণা করেছেন তিনি। যার জেরে বাণিজ্যযুদ্ধের পরিস্থিতি তৈরি হচ্ছে। ট্রাম্পের শুল্ক ঘোষণা বিশ্বের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিকে ধাক্কা দিয়েছে। ভারতের বাজারেও তার প্রভাব পড়ছে। বিশ্বের বিভিন্ন বাজারের পরিস্থিতিই ঝিমিয়ে রয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, সেনসেক্স, নিফটিও এই পরিস্থিতির শিকার।
ভারতের বাজার থেকে বিনিয়োগ সরিয়ে নেয়ার প্রবণতা এখনও অব্যাহত বিদেশি বিনিয়োগকারীদের মধ্যে। এনএসডিএলের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে দেশটির বাজার থেকে ১ লাখ ১ হাজার ৭৩৭ কোটি রুপি সরিয়েছেন ফরেন ইনস্টিটিউশনাল ইনভেস্টররা, যা পতনকে আরও গভীর করেছে। ওদিকে চীনের বাজারের প্রভাবও পড়েছে ভারতের পুঁজিবাজারে। গত কয়েক দিনে চীনের বাজার বৃদ্ধি দেখা গিয়েছে। অর্থনীতির বৃদ্ধির লক্ষ্যে চীনা সরকার বেশ কিছু ঘোষণাও করেছে। এর জেরে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের একাংশ চীনের বাজারে বিনিয়োগ করছেন। এর প্রভাবে ভারতের বাজারে অস্থিরতা আরও বেড়েছে বলে মত বিশ্লেষকদের।
খবর: দ্য ইকোনমিক টাইমস।
ক্যাটাগরিঃ অর্থনীতি
ট্যাগঃ
মন্তব্য করুন