যুক্তরাষ্ট্রসহ অন্য দেশের কোম্পানিগুলো কোটি কোটি ডলার ব্যয়ে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) মডেল উন্নয়নের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। এমন সময় মাত্র ৫৬ লাখ ডলার ব্যয়ে এআই মডেল তৈরি করে তাদের উচ্চ ব্যয়কে প্রশ্নের মুখে ফেলে দিয়েছে চীনা কোম্পানি ডিপসিক। তবে এআই খাতেই নিজেদের ভবিষ্যৎ দেখছে বড় প্রযুক্তি জায়ান্টগুলো। ফলে চলতি বছরও এআই অবকাঠামো নির্মাণে বিপুল অংকের বিনিযোগ করতে যাচ্ছে তারা। এ তালিকায় আছে অ্যামাজন ও অ্যালফাবেট বা মেটার মতো কোম্পানিগুলো। খবর এফটি।
জানা গেছে, ২০২৪ সালে মাইক্রোসফট, অ্যালফাবেট (গুগলের মূল কোম্পানি), অ্যামাজন ও মেটা মিলে মোট ২৪ হাজার ৬০০ কোটি ডলার খরচ করেছে, যা এর আগের বছর ছিল ১৫ হাজার ১০০ কোটি ডলার। কোম্পানিগুলোর পূর্বাভাস, চলতি বছর এ ব্যয় ৩২ হাজার কোটি ডলার ছাড়িয়ে যেতে পারে। এআই মডেলের গবেষণায় এগিয়ে থাকতে এসব কোম্পানি ডাটা সেন্টার নির্মাণ ও শক্তিশালী চিপ ব্যবহার করছে। কোম্পানিগুলোর গত বছরের শেষ প্রান্তিকের প্রতিবেদনে এসব তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে।
কোম্পানিগুলোর বিপুল বিনিয়োগের নেতৃত্বে আছে অ্যামাজন। মার্কিন রিটেইল জায়ান্টের চলতি বছর ১০ হাজার কোটি ডলার ব্যয়ের পরিকল্পনা রয়েছে। ২০২৩ সালে যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ চার প্রযুক্তি কোম্পানির ব্যয় ৬৩ শতাংশ বেড়ে ইতিহাসের সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছায়। সম্প্রতি প্রতিষ্ঠানগুলোর শীর্ষ নির্বাহীরা ঘোষণা দেন, তারা এআইয়ে বিনিয়োগ আরো বাড়াবেন। বিশাল এ ব্যয় নিয়ে অনেকের সন্দেহ থাকলেও এটিকে প্রযুক্তির ভবিষ্যৎ হিসেবে দেখছেন তারা। যদিও ডিপসিক বাজারে আসার পর বিনিয়োগকারীরা এসব কোম্পানির শেয়ার বিক্রি করতে শুরু করেছেন। মাইক্রোসফট ও অ্যালফাবেট তাদের ক্লাউড ব্যবসায় প্রত্যাশিত প্রবৃদ্ধি অর্জন করতে ব্যর্থ হয়েছে। তাছাড়া মূলধন ব্যয় ব্যাপকভাবে বাড়িয়ে দিয়েছে কোম্পানি দুটি। ফলে তাদের বাজার মূল্য একদিনে ২০ হাজার কোটি ডলার কমে গেছে। গত বুধবার অ্যালফাবেটের শেয়ারদর একদিনেই ৮ শতাংশ কমেছে, যা ১০ বছরে সর্বোচ্চ পাঁচ দরপতনের একটি। অ্যালায়েন্সবার্নস্টেইনের মার্কিন বাজার বিশ্লেষক জিম টিয়ার্নি জানান, এক সময় ‘ম্যাগনিফিসেন্ট সেভেন’ (যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ সাত প্রযুক্তি কোম্পানি) নিয়ে যে উন্মাদনা ছিল, এখন তা নিয়ে সন্দেহ দেখা দিয়েছে। বিনিয়োগকারীরা এখন বাস্তবে ফলাফল দেখতে চায়। এআই প্রযুক্তির বিপুল সম্ভাবনা রয়েছে। তবে বিনিয়োগকারীরা চিন্তিত, কোম্পানিগুলোর বিশাল বিনিয়োগ থেকে প্রত্যাশিত আয় না এলে মুনাফায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে। তাছাড়া অতিরিক্ত এআই বিনিয়োগের ফলে অন্য ব্যবসায়িক ক্ষেত্রগুলোর তহবিল সংকটে পড়তে পারে। এতে ক্ষতি পুষিয়ে নেয়ার সুযোগও কম থাকবে বিনিয়োগকারীদের জন্য। টেক জায়ান্ট গুগল এখন পর্যন্ত জানায়নি, কত মানুষ জেমিনি চ্যাটবট ব্যবহার করছে এবং এ থেকে কী পরিমাণ আয় এসেছে। অন্যদিকে মাইক্রোসফটের কো-পাইলট এখনো অনেক ত্রুটিপূর্ণ ও ব্যয়বহুল। ফলে অনেক প্রতিষ্ঠান এটি ব্যবহার করতে আগ্রহী নয়। টিয়ার্নি বলেন, ‘যদি আমরা দেখি গুগল বা মাইক্রোসফটের ক্লাউড ব্যবসার প্রবৃদ্ধি কিংবা কো-পাইলটের গ্রহণযোগ্যতা বাড়ছে, তাহলে বিনিয়োগকারীরা বিপুল ব্যয়ের বিষয়টি সহজভাবে নিতে পারবে। কিন্তু এর মধ্যে ডিপসিকের আরো সস্তা ও সাধারণ এআই মডেল বাজারে এলে বিনিয়োগকারীদের উদ্বেগ আরো বাড়বে। প্রসঙ্গত, সাম্প্রতিক উদ্বেগের অন্যতম প্রধান কারণ ডিপসিকের আর১ মডেল। চীনের এ গবেষণা প্রতিষ্ঠান দাবি করেছে, তারা গুগল ও ওপেনএআইয়ের মতো দক্ষতাসম্পন্ন একটি মডেল তৈরি করেছে, কিন্তু অনেক কম খরচে। সবচেয়ে বড় বিষয় হলো, তারা এনভিডিয়ার অত্যাধুনিক চিপ ছাড়াই এটি করেছে। ফলে এনভিডিয়ার শেয়ারের দাম একদিনেই ১৭ শতাংশ কমে গেছে এবং কোম্পানির বাজার মূল্য ৬০ হাজার কোটি ডলার কমেছে। এখন পর্যন্ত তারা এ ক্ষতির সামান্য অংশই পুনরুদ্ধার করতে পেরেছে।
ক্যাটাগরিঃ অর্থনীতি
ট্যাগঃ
মন্তব্য করুন