জাপানের চলতি হিসাবে গত বছর রেকর্ড উদ্বৃত্ত হয়েছে। দুর্বল ইয়েন বিদেশি বিনিয়োগ সংক্রান্ত মুনাফা বৃদ্ধি করেছে। জাপনানের অর্থ মন্ত্রণালয় জানায়, ২০২৪ সালে দেশের উদ্বৃত্ত ২৯ দশমিক ২ ট্রিলিয়ন ইয়েন (২৯ লাখ ৩০ হাজার কোটি ইয়েন) বা প্রায় ১৯২ বিলিয়ন বা ১৯ হাজার ২৬৭ কোটি ডলারে পৌঁছেছে। ১৯৮৫ সালের পর এটি সর্বোচ্চ। ঐ বছর থেকে এ হিসাব রাখা হচ্ছে। বিশ্বের অন্যান্য দেশের সঙ্গে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ থেকে জাপানের আয়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিমাপক হল চলতি হিসাব।
চলতি হিসাবের তথ্য জাপানের অর্থনৈতিক কাঠামোর পরিবর্তনকে সবার সামনে তুলে ধরেছে। বর্তমানে দেশটি বিদেশি বিনিয়োগ (এফডিআই) ও পোর্টফোলিও বিনিয়োগের মাধ্যমে প্রচুর অর্থ উপার্জন করছে। ফলে বেশিরভাগ অংশীদারের সঙ্গে জাপানের বাণিজ্যিক ভারসাম্য রয়েছে।
প্রাথমিক আয়ের হিসাবের রেকর্ড উদ্বৃত্ত ছিল ৪০ দশমিক ২ ট্রিলিয়ন ইয়েন বা প্রায় ২৬৪ বিলিয়ন ডলার। ইয়েনের মান কমে যাওয়া জাপানি কোম্পানিগুলোর পক্ষে সহায়ক হয়েছে। কেননা তাদের বিদেশি সহযোগী কোম্পানিগুলো থেকে অর্জিত লভ্যাংশের মূল্যকে বাড়িয়েছে। অর্থাৎ দুর্বল ইয়েনের কারণে বৈদেশিক বিনিয়োগ থেকে আয় বেড়েছে, যা বাণিজ্য ঘাটতি সহজে পুষিয়ে দিয়েছে।
ইতিমধ্যে বাণিজ্য খাতে এক বছর আগের তুলনায় কম ঘাটতি দেখা দিয়েছে, যা ছিল ২৫ দশমিক ৬ বিলিয়ন বা ২ হাজার ৫৬০ কোটি ডলার। এছাড়া ২০২৩ সালের তুলনায় চলতি হিসাব উদ্বৃত্ত বেড়েছে ২৯ দশমিক ৫ শতাংশ। এদিকে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের উচ্চমূল্য আমদানির ব্যয় বৃদ্ধি অব্যাহত রেখেছে। তবে গাড়ি এবং সেমিকন্ডাক্টর (চিপ) তৈরির সরঞ্জামের চাহিদা বৃদ্ধির কারণে রপ্তানি বৃদ্ধি পায়।
সবশেষ ২০২২ সালে জাপানের চলতি হিসাবে ঘাটতি দেখা দেয়। তখন সরকারের প্রকাশিত তথ্যে দেখা যায়, দেশটিতে পণ্য রপ্তানির চেয়ে আমদানি বেড়েছে। জ্বালানি ও কাঁচামালের দাম বেড়ে যাওয়াকে এই ঘাটতির মূল কারণ হিসেবে চিহ্নিত করেছেন বিশ্লেষকরা।
খবর: এনএইচকে।
ক্যাটাগরিঃ অর্থনীতি
ট্যাগঃ
মন্তব্য করুন