বৈশ্বিক চিপ ও সেমিকন্ডাক্টর শিল্পের আকার ২০৩০ সালের মধ্যে ১ ট্রিলিয়ন (১ লাখ কোটিতে ১ ট্রিলিয়ন) ডলার অতিক্রম করতে পারে। বৈশ্বিক চিপ ও সেমিকন্ডাক্টর শিল্পের আকার ২০৩০ সালের মধ্যে ১ ট্রিলিয়ন (১ লাখ কোটিতে ১ ট্রিলিয়ন) ডলার অতিক্রম করতে পারে। সম্প্রতি প্রযুক্তিবিষয়ক পরামর্শক প্রতিষ্ঠান পিডব্লিউসির এক প্রতিবেদনে এ পূর্বাভাস দেয়া হয়েছে।
ইন্টারন্যাশনাল ইনফরমেশন করপোরেশন (আইডিসি) জানিয়েছে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ও উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন কম্পিউটিংয়ের ক্রমবর্ধমান চাহিদার কারণে সেমিকন্ডাক্টর শিল্পের অভূতপূর্ব এমন প্রবৃদ্ধি দেখা যাবে। আইডিসি তাদের প্রতিবেদনে বলেছে, ক্লাউড সেন্টার ও অন্যান্য বিশেষায়িত শিল্পের অগ্রগতির ফলে আগামী বছর সেমিকন্ডাক্টর খাতের আকার ১৫ শতাংশ বাড়বে। এর মধ্য দিয়ে খাতটির বিকাশে নতুন যাত্রা শুরু হবে। ভূরাজনৈতিক ঝুঁকি, চাহিদা ও সরবরাহে অস্থিরতা এবং বৈশ্বিক স্থবির অর্থনীতি সত্ত্বেও সেমিকন্ডাক্টর খাতের প্রবৃদ্ধি দুই অংকের ঘরেই অবস্থান করবে। আইডিসি বলছে, ২০২৫ সালের মধ্যে দুই ন্যানোমিটার চিপ উৎপাদন একটি নতুন অধ্যায় সূচনা করবে। ফলে তাইওয়ান সেমিকন্ডাক্টর ম্যানুফ্যাকচারিং কোম্পানি (টিএসএমসি), স্যামসাং ও ইন্টেলের মধ্যে প্রতিযোগিতা তীব্র আকার ধারণ করতে পারে।
সেমিকন্ডাক্টর খাতের শীর্ষ প্রতিষ্ঠান এনভিডিয়া সাম্প্রতিক বছরগুলোয় এআই প্রযুক্তিতে ব্যাপক মনোযোগ দিয়েছে। ডাটা সেন্টারের জন্য ক্রমবর্ধমান চাহিদার কারণে চলতি বছরের তৃতীয় প্রান্তিকে রেকর্ড ৩ হাজার ৫১০ কোটি ডলার আয় করেছে কোম্পানিটি। মিজুহো সিকিউরিটিজের তথ্য বলছে, বর্তমানে এআই চিপবাজারের ৭০-৯০ শতাংশ এনভিডিয়ার দখলে। গত সপ্তাহে এর বাজার মূল্য ৩ দশমিক ৪ ট্রিলিয়ন (প্রতি ট্রিলিয়নে ১ লাখ কোটি) ডলারে পৌঁছেছে। অন্যদিকে উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন কম্পিউটিং, স্মার্টফোন, মোবাইল ডিভাইস ও এআই টুলগুলোর জন্য টিএসএমসির উন্নতমানের চিপের চাহিদাও ব্যাপকভাবে বেড়েছে। কোম্পানিটি এনভিডিয়া, অ্যাপল ও ব্রডকমের মতো বড় প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য টিএসএমসি চিপ সরবরাহ করে। এআই চিপের চাহিদা বাড়ার কারণে গত অক্টোবরে টিএসএমসির মুনাফা বার্ষিক ৫৪ শতাংশ বেড়েছে। কোম্পানির মোট মুনাফা পৌঁছেছে ১ হাজার ১ কোটি ডলারে।
যুক্তরাষ্ট্র-চীন প্রতিদ্বন্দ্বিতার মধ্যেও সাপ্লাই চেইনে স্থিতিশীলতা আনতে ও আঞ্চলিক চাহিদা মেটাতে কোম্পানিটি বৈশ্বিক সম্প্রসারণে মনোযোগ দিয়েছে। তারা জাপানে উৎপাদন কেন্দ্র উদ্বোধন করেছে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্র ও জার্মানিতে প্লান্ট স্থাপনের ঘোষণা দিয়েছে। গত সপ্তাহে টিএসএমসির বাজার মূল্য ১ ট্রিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে। সেমিকন্ডাক্টর খাতের আরেক জায়ান্ট ব্রডকম গত এপ্রিলে ক্লাউড সফটওয়্যার ডেভেলপার ভিএমওয়্যার অধিগ্রহণ করেছে। এআই পণ্যের চাহিদা বাড়ায় ব্রডকমের শেয়ার চলতি বছর ১২০ শতাংশের বেশি বেড়েছে। সর্বশেষ তথ্যানুযায়ী, ব্রডকমের বাজার মূল্যও ১ ট্রিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে। টিএসএমসি, এনভিডিয়া ও ইন্টেলের সঙ্গে সহযোগিতায় ডাচ চিপ নির্মাতা এএসএমএল তৃতীয় প্রান্তিকে ৭৫০ কোটি ইউরো (৭৮০ কোটি ডলার) আয় করেছে। কোম্পানিটির বাজার মূল্য পৌঁছেছে ২৮ হাজার ৬০০ কোটি ডলারে। দক্ষিণ কোরিয়ার টেক জায়ান্ট স্যামসাং স্টোরেজ প্রযুক্তি, এআই, ক্লাউড কম্পিউটিং ও মোবাইল গেমিংয়ের প্রসেসর তৈরি করেছে। এটি বেশ কয়েকটি মার্কিন প্রযুক্তি সংস্থার সঙ্গে কাজ করছে এবং সাপ্লাই চেইনের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় যুক্তরাষ্ট্রে বিনিয়োগের পরিকল্পনা করছে। স্যামসাংয়ের বাজার মূলধন গত সপ্তাহের বুধবার পর্যন্ত ছিল ২৪ হাজার ৮০০ কোটি ডলার। চীনে হাইসেন্স, বিরেন ও সেমিকন্ডাক্টর ম্যানুফ্যাকচারিং ইন্টারন্যাশনাল করপোরেশনের (এসএমআইসি) মতো কোম্পানিগুলো চিপ উৎপাদন করছে।
চীনা সরকার গত এক দশকে তার নিজস্ব সেমিকন্ডাক্টর খাত উন্নয়নের জন্য বিনিয়োগ তহবিল, অনুদান, ঋণ কর্মসূচি ও কর অব্যাহতি প্রদান করেছে। এ প্রণোদনার মোট আর্থিক মূল্য ১৯ হাজার কোটি ডলারের বেশি বলে ধারণা করা হয়। বিশ্বব্যাপী চিপ খাত আগামী বছর আরো প্রসারিত হওয়ার পূর্বাভাস দেয়া হয়েছে, যা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তি ও ফাইভজি উন্নয়নের দ্বারা চালিত হবে।
চিপ ও সেমিকন্ডাক্টর হলো আধুনিক প্রযুক্তির মূল ভিত্তি। এগুলোর ব্যবহার স্মার্টফোন, কম্পিউটার, শিল্প যন্ত্রপাতি, ইলেকট্রনিকস, এমনকি সামরিক প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায়ও রয়েছে। চিপ শিল্প অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও বহুমুখী খাতে উদ্ভাবনকে উৎসাহিত করে। ২০২৪ সালে চিপ খাতের উল্লেখযোগ্য সম্প্রসারণ হয়েছে, যার বাজারের আকার ৬০০ বিলিয়ন ডলারেরও বেশি ছাড়িয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। (খবর ঃ আনাদোলু এজেন্সি)।
ক্যাটাগরিঃ অর্থনীতি
ট্যাগঃ
মন্তব্য করুন