বিশ্বব্যাপী এআর-ভিআরের বাজার পুনরুদ্ধার, প্রবৃদ্ধি ১২.৮% – The Finance BD
 ঢাকা     শনিবার, ০৫ এপ্রিল ২০২৫, ১২:১৭ অপরাহ্ন

বিশ্বব্যাপী এআর-ভিআরের বাজার পুনরুদ্ধার, প্রবৃদ্ধি ১২.৮%

  • ২২/১২/২০২৪

চলতি বছরের তৃতীয় প্রান্তিকে (জুলাই-সেপ্টেম্বর) বৈশ্বিক এআর ও ভিআরের বাজার বেড়েছে ১২ দশমিক ৮ শতাংশ। টানা দুই প্রান্তিক বিক্রি নিম্নমুখী থাকার পর সেপ্টেম্বরে শেষ হওয়া প্রান্তিকে প্রবৃদ্ধি দেখল বাজারটি। বাজার গবেষণা সংস্থা ইন্টারন্যাশনাল ডাটা করপোরেশনের (আইডিসি) গত সোমবারের প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে আসে। আইডিসির ওয়ার্ল্ডওয়াইড কোয়ার্টারলি অগমেন্টেড অ্যান্ড ভার্চুয়াল রিয়েলিটি হেডসেট ট্র্যাকারের তথ্যানুযায়ী, এ প্রবৃদ্ধির প্রধান চালিকাশক্তি ছিল মাত্র একটি কোম্পানি—মেটা।
গত প্রান্তিকে এআর-ভিআরের বাজারে শীর্ষ পাঁচ কোম্পানির মধ্যে ৭০ দশমিক ৮ শতাংশ হিস্যা নিয়ে প্রথমে আছে মেটা। গত বছর একই সময় ‘কুয়েস্ট ২’ হেডসেট বাজার থেকে ধীরে ধীরে সরিয়ে নেয়ার কারণে মেটার এআর-ভিআর ডিভাইস বিক্রি কমে যায় প্রায় ২২ দশমিক ৭ শতাংশ। এরপর কিছুটা সময় লাগলেও, এ বছর ‘কুয়েস্ট ৩’ হেডসেট দিয়ে বাজারে নিজের জায়গা তৈরি করে নিয়েছে কোম্পানিটি। এটি সম্ভব হয়েছে বিস্তৃত কনটেন্ট (গেম, অ্যাপস) ও প্রাইম ডের মতো বিশেষ ছাড় এবং বিক্রয় ইভেন্টের কারণে। সনির পিএসভিআর টু ৬ দশমিক ৭ শতাংশ বাজার হিস্যা নিয়ে এ তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে আছে। শীর্ষ পাঁচের তালিকায় বাকি কোম্পানিগুলো হলো অ্যাপল, বাইটড্যান্স ও এক্সরিয়াল।
এআর-ভিআর হেডসেট বাজারে শীর্ষ পাঁচ কোম্পানির মোট বাজার হিস্যা ৯০ শতাংশের বেশি। তবে কিছু কোম্পানির ভবিষ্যৎ এখনো অনিশ্চিত বলে ধারণা করছে আইডিসি। সংস্থাটির গবেষণা ব্যবস্থাপক জিতেশ উবরানি বলেন, ‘সনি ও বাইটড্যান্সের হেডসেট বিক্রি ধীরগতিতে কমে যাচ্ছে। ফলে সুযোগ তৈরি হচ্ছে এক্সরিয়াল ও ভিচারের মতো কোম্পানিগুলোর। এগুলো গেমারদের আকৃষ্ট করছে এবং হার্ডওয়্যার ও সফটওয়্যার উভয় ক্ষেত্রেই উদ্ভাবন নিয়ে আসছে।’
মেটার কুয়েস্ট ৩-এর মতো মিক্সড রিয়ালিটি ডিভাইস বহুমুখী কার্যকারিতার কারণে হেডসেটের অন্যান্য বিভাগের তুলনায় এগিয়ে আছে। আইডিসির পূর্বাভাস অনুযায়ী, মিক্সড রিয়ালিটি হেডসেটের বিক্রি ২০২৫ সালে ২১ দশমিক ৭ শতাংশ বেড়ে ৭৭ লাখ ইউনিট ছাড়িয়ে যাবে। এটি আগামীতেও প্রযুক্তির বাজারে সবচেয়ে বড় বিভাগ হয়ে উঠবে। মিক্সড রিয়ালিটির বাইরে, এক্সটেন্ডেড রিয়ালিটি (এক্সআর) ডিভাইস দ্বিতীয় বৃহত্তম বিভাগ হবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে।
উরবানি আরো বলেন, ‘এআই ও হেডস-আপ ডিসপ্লেসহ চশমা এমন স্মার্ট ডিভাইস, যা সরাসরি ব্যক্তির দৃষ্টির সামনে তথ্য প্রদর্শন করতে পারে। সেই সঙ্গে এগুলো এআই ব্যবহার করে কাজ আরো সহজ করে তোলে। যেমন এটি দিকনির্দেশ দেয়া, ভাষা অনুবাদ করা বা রিয়াল টাইমে নোটিফিকেশন প্রদর্শন করতে পারে, যা ফোনের দিকে না তাকিয়েই করা সম্ভব।’ অ্যান্ড্রয়েড এক্সআর, বিভিন্ন স্টার্টআপ ও মেটার মতো বড় কোম্পানির সমন্বয়ে ২০২৫ সালের মধ্যে এক্সটেন্ডেড রিয়ালিটি (এক্সআর) হেডসেটের বাজারের আকার দ্বিগুণেরও বেশি হবে বলে প্রত্যাশা আইডিসির। এছাড়া ২০২৮ সালের শেষ পর্যন্ত এটি প্রতি বছর গড়ে ৮৫ দশমিক ৭ শতাংশ হারে বাড়বে।
তবে ট্রু অগমেন্টেড রিয়ালিটি হেডসেট, যেমন মেটার ওরিয়ন জনপ্রিয় হতে আরো সময় নেবে। কারণ এগুলোর জন্য অত্যন্ত উন্নত প্রযুক্তি এবং আরো ভালো ব্যাটারি ও ডিসপ্লে সিস্টেম প্রয়োজন, যা এখনো বড় পরিসরে পাওয়া মুশকিল ও সাশ্রয়ী নয়।

ক্যাটাগরিঃ অর্থনীতি

ট্যাগঃ

মন্তব্য করুন

Leave a Reply




Contact Us