বিশ্বব্যাপী খাদ্যশস্যের সমাপনী মজুদ কমার পূর্বাভাস আইজিসির – The Finance BD
 ঢাকা     শনিবার, ০৫ এপ্রিল ২০২৫, ০২:৪৪ অপরাহ্ন

বিশ্বব্যাপী খাদ্যশস্যের সমাপনী মজুদ কমার পূর্বাভাস আইজিসির

  • ২৩/১১/২০২৪

বিশ্বব্যাপী ২০২৪-২৫ বিপণন বর্ষে খাদ্যশস্যের সমাপনী মজুদ ১০ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে আসবে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে ইন্টারন্যাশনাল গ্রেইন্স কাউন্সিল (আইজিসি)।
বিশ্বব্যাপী ২০২৪-২৫ বিপণন বর্ষে খাদ্যশস্যের সমাপনী মজুদ ১০ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে আসবে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে ইন্টারন্যাশনাল গ্রেইন্স কাউন্সিল (আইজিসি)। সংস্থাটি বলছে, উৎপাদনের তুলনায় ব্যবহার বাড়ায় খাদ্যশস্যের মজুদ কমে যেতে পারে। সম্প্রতি আইজিসির মাসিক শস্যবাজার প্রতিবেদনে এ পূর্বাভাস দেয়া হয়।
প্রতিবেদনে খাদ্যশস্যের (গম, ভুট্টাসহ অন্যান্য দানাদার শস্য) সমাপনী মজুদের পূর্বাভাসও সংশোধন করেছে আইজিসি। আগের মাসের তুলনায় ৮০ কোটি টন কমিয়ে সমাপনী মজুদের পূর্বাভাস ৫৭ কোটি ৬০ লাখ টনে নামিয়ে আনা হয়েছে, যা আগের বছরের তুলনায় ৩ দশমিক ৫ শতাংশ কম।
একই সময়ে খাদ্যশস্য উৎপাদনের পূর্বাভাসেও পরিবর্তন এনেছে আইজিসি। আগের মাসের তুলনায় ৪০ লাখ টন কমিয়ে ২৩১ কোটি ১০ লাখ টন উৎপাদনের পূর্বাভাস দিয়েছে সংস্থাটি। মূলত বার্লি ও গম উৎপাদন কমে যাওয়ায় সামগ্রিক উৎপাদন পূর্বাভাসে পরিবর্তন এসেছে। প্রতিবেদনে আরো বলা হয়, একই সময়ে বিশ্বজুড়ে খাদ্য ও পশুখাদ্য হিসেবে এবং শিল্প খাতে চালের ব্যবহার বাড়বে।
আইজিসি বলছে, গমের সমাপনী মজুদ আগের বছরের তুলনায় ৯০ লাখ টন কমতে পারে। অন্যদিকে ভুট্টার মজুদ এক কোটি টন কমে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। মোট খাদ্যশস্য রফতানি আগের বছরের তুলনায় ৮ শতাংশ কমে ৪১ কোটি ৯০ লাখ টনে দাঁড়াবে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে আইজিসি। পূর্বাভাস বাস্তবায়ন হলে এটি হবে ছয় বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন।
সয়াবিন উৎপাদনের পূর্বাভাস আগের মাসের তুলনায় ২০ লাখ টন কমিয়েছে সংস্থাটি। তবে আগের বছরের তুলনায় ৬ শতাংশ বেড়ে রেকর্ড ৪১ কোটি ৯০ লাখ টনে পৌঁছতে পারে। সয়াবিন ব্যবহারের পরিমাণ ৫ শতাংশ বেড়ে রেকর্ড ৪০ কোটি ৮০ লাখ টনে পৌঁছতে পারে বলেও পূর্বাভাস দেয়া হয়। ফলে ২০২৪-২৫ সালে বিশ্বব্যাপী সয়াবিনের সমাপনী মজুদ ৮ কোটি ২০ লাখ টনে পৌঁছতে পারে, যা ইতিহাসে সর্বোচ্চ।
আইজিসি জানিয়েছে, বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে ভিন্ন ভিন্ন শস্যের উৎপাদন বাড়ার পূর্বাভাস রয়েছে। তবে মোট ব্যবহারও নতুন উচ্চতায় পৌঁছতে পারে। তিন প্রধান শস্য উৎপাদন অঞ্চলে উচ্চ মজুদের সম্ভাবনা রয়েছে।
ভারতের উৎপাদন বাড়ার সম্ভাবনায় ২০২৪-২৫ সালে বৈশ্বিক চাল উৎপাদনের পূর্বাভাস ৪০ লাখ টন বাড়িয়ে রেকর্ড ৫৩ কোটি ৫০ লাখ টনে উন্নীত করা হয়েছে।
আইজিসির গ্রেইন অ্যান্ড অয়েলসিডস প্রাইস ইনডেক্স গত মাসের মতোই ২২৩ পয়েন্টে অপরিবর্তিত রয়েছে, যা ২০২৩-২৪ সালের তুলনায় ১৩ শতাংশ কম। প্রতিবেদনে জানানো হয়, আগের বছরের তুলনায় চালের মূল্যসূচক ১৩ ও সয়াবিনের মূল্যসূচক ২০ শতাংশ কমায় এ পতন ঘটেছে।
এর আগে অক্টোবরের প্রতিবেদনে ২০২৪-২৫ বিপণন বর্ষে বিশ্বব্যাপী খাদ্যশস্য উৎপাদন ২৩১ কোটি ৫০ লাখ টনে পৌঁছানোর পূর্বাভাস দিয়েছিল আইজিসি। সে সময় বলা হয়েছিল, অস্ট্রেলিয়া ও আর্জেন্টিনায় খরার কারণে ফলন ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। ফলে গম ও ভুট্টার মজুদ কমে যাওয়ার পাশাপাশি বাণিজ্যের পরিমাণ কমায় বাজার চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে।
ওই প্রতিবেদনে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) ও রাশিয়ায় উৎপাদনের পূর্বাভাস কমানো হয়। তবে কাজাখস্তানে গম ও তুরস্কে বার্লির উৎপাদন বাড়ার ফলে মাসিক ভিত্তিতে মোট খাদ্যশস্য উৎপাদনের পূর্বাভাস স্থিতিশীল রাখা হয়। প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, পশুখাদ্যের চাহিদা বাড়ায় বিশ্বব্যাপী খাদ্যশস্য ব্যবহার ২৩২ কোটি ৮০ লাখ টনে পৌঁছতে পারে।
খবর : ওয়ার্ল্ডগ্রেইন ডটকম।

ক্যাটাগরিঃ অর্থনীতি

ট্যাগঃ

মন্তব্য করুন

Leave a Reply




Contact Us