ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে রাশিয়ার ওপর পশ্চিমাদের দেয়া নিষেধাজ্ঞা দেশটির আকাশ পরিষেবার ক্ষেত্রে বড় ধরনের প্রভাব ফেলেছে।
ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে রাশিয়ার ওপর পশ্চিমাদের দেয়া নিষেধাজ্ঞা দেশটির আকাশ পরিষেবার ক্ষেত্রে বড় ধরনের প্রভাব ফেলেছে। স্থানীয় একটি ব্যবসাবিষয়ক সংবাদপত্রের বরাত দিয়ে আরটি জানিয়েছে, দেশটির এয়ারলাইনস খাতে ৬৬টি এয়ারবাস রয়েছে, যার মধ্যে অর্ধেকের বেশি বা ৩৪টি বর্তমানে হ্যাঙ্গারে বসিয়ে রাখা হয়েছে। পরিষেবার বাইরে থাকা এয়ারবাসগুলো হলো এ৩২০নিও ও এ৩২১নিও মডেলের।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নিষেধাজ্ঞার কারণে আকাশযানের সঠিকভাবে রক্ষণাবেক্ষণ করা অসম্ভব হয়ে পড়েছে। বিশেষ করে ইঞ্জিনের সমস্যা সমাধান সামাল দেয়া যাচ্ছে না। যন্ত্রাংশ প্রাপ্তি ও মেরামতের সমস্যার কারণে সাম্প্রতিক মাসগুলোয় একে একে অর্ধেক এয়ারবাসকে পরিষেবা থেকে সরিয়ে নেয়া হয়েছে।
কিছু এয়ারবাস নিও উড়োজাহাজে মার্কিন কোম্পানি প্র্যাট অ্যান্ড হুইটনি উৎপাদিত ইঞ্জিন ব্যবহার করা হয়েছে। অন্য কিছু ইঞ্জিন সরবরাহ করেছে ফরাসি-মার্কিন নির্মাতা সিএফএম ইন্টারন্যাশনাল।
যুক্তরাষ্ট্র, ইইউ ও তাদের মিত্রদের নিষেধাজ্ঞা আরোপের আগে এভিয়েশন খাতে বড় বাজার ছিল রাশিয়া। মূলত বোয়িং ও এয়ারবাস থেকে জেট কিনে এনে ভাড়া দেয়া হতো রুশ এয়ারলাইনস কোম্পানিকে। কিন্তু ব্যাপক বিধিনিষেধ রুশ অপারেটরদের পশ্চিমা সরবরাহকারীদের থেকে খুচরা যন্ত্রাংশ ও রক্ষণাবেক্ষণ পরিষেবা পেতে বাধা দিচ্ছে।
কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে স্থানীয় সংবাদমাধ্যমটি আরো জানিয়েছে, কিছু উড়োজাহাজ পরবর্তী ভ্রমণ মৌসুম শুরু হওয়া পর্যন্ত হ্যাঙ্গারে থাকবে। ওই সময় সর্বোচ্চ সংখ্যক ফ্লাইট চালু থাকবে দেশটিতে। তবে বসিয়ে রাখা এয়ারবাসের অর্ধেক পরিষেবায় আর না ফেরার মতো ঝুঁকিতে রয়েছে বলে জানা গেছে।
নিষেধাজ্ঞার প্রভাবে সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়েছে রাশিয়ার তৃতীয় বৃহত্তম এয়ারলাইন এস সেভেন। সংস্থাটির অধীনে রয়েছে ৩৯টি এ৩২নিও ও এ৩২১নিও এয়ারবাস। এর মধ্যে ৩১টি বসিয়ে রাখতে বাধ্য হয়েছে। এ আকাশযানগুলো তিন থেকে সাত বছরের পুরনো। এস সেভেনের ২০টিরও বেশি এয়ারবাসে ইনস্টল করা ইঞ্জিন এরই মধ্যে কর্মক্ষম আয়ুষ্কালের শেষ পর্যায়ে পৌঁছে গেছে।
রাশিয়ার বৃহত্তম এয়ারলাইনস কোম্পানি অ্যারোফ্লটের বহরে রয়েছে নয়টি এয়ারবাস নিও জেট, এর মধ্যে দুটিকে গ্রাউন্ড করতে হয়েছে। এছাড়া ইউরাল এয়ারলাইনস ১১টি উড়োজাহাজের একটি স্থগিত করেছে। আরো সাতটি জেট পরিচালনা করছে নর্ডউইন্ড এয়ারলাইনস, স্মার্টভিয়া ও নর্থ-ওয়েস্ট এয়ারকোম্পানি।
সূত্রগুলো জানিয়েছে, শিগগিরই এয়ারবাসের রক্ষণাবেক্ষণে প্রয়োজনীয় পরিষেবা প্রয়োজন। নইলে ২০২৬ সালের মধ্যে রাশিয়ায় থাকা এয়ারবাসের উড়োজাহাজগুলো একে একে অবসর নিতে শুরু করবে।
পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞার পর রাশিয়ায় আন্তর্জাতিক ভ্রমণ রাতারাতি কমে যায়। তবে চলতি বছরে ব্যবসায়িক ও পর্যটন ভ্রমণে কিছুটা গতি ফিরেছে। সেদিক থেকে উড়োজাহাজ সংকট
ক্যাটাগরিঃ অর্থনীতি
ট্যাগঃ
মন্তব্য করুন