চীনের সিঙ্গেলস ডে শপিং উৎসবে শ্লথ অর্থনীতির প্রভাব – The Finance BD
 ঢাকা     শনিবার, ০৫ এপ্রিল ২০২৫, ০২:৪৫ অপরাহ্ন

চীনের সিঙ্গেলস ডে শপিং উৎসবে শ্লথ অর্থনীতির প্রভাব

  • ১৩/১১/২০২৪

ভ্যালেন্টাইনস ডের বিপরীতে চীনে নব্বইয়ের দশক থেকে সিঙ্গেলস ডে উদযাপন শুরু হয়েছিল। ব্যবসায়িক সম্ভাবনার কথা চিন্তা করে ২০০৯ সালের পর আলিবাবাসহ বড় ই-কমার্স কোম্পানিগুলো উৎসবের দিনগুলোয় ভ্যালেন্টাইনস ডের বিপরীতে চীনে নব্বইয়ের দশক থেকে সিঙ্গেলস ডে উদযাপন শুরু হয়েছিল। ব্যবসায়িক সম্ভাবনার কথা চিন্তা করে ২০০৯ সালের পর আলিবাবাসহ বড় ই-কমার্স কোম্পানিগুলো উৎসবের দিনগুলোয় কেনাকাটায় বিশেষ ছাড় দেয়া শুরু করে। তখন থেকে জনপ্রিয় হওয়া শুরু করে সিঙ্গেলস ডে শপিং। চীনে রীতিমতো উৎসবে পরিণত হয়েছে দিনটি। কিন্তু চলতি বছর ম্লান সিঙ্গেলস ডে শপিং। কেননা দুর্বল অর্থনীতির কারণে চীনাদের কাছে হাত খুলে খরচ করার মতো অর্থ নেই। ফলে চলতি বছর জৌলুস হারিয়েছে সঙ্গীহীন মানুষের উদযাপনের দিনটি।
প্রতি বছর ১১ নভেম্বর ঘটা করে উদযাপন হয় শপিং উৎসবটি। অবশ্য এর আগে থেকে উৎসবের তোড়জোড় শুরু হয়। আলিবাবার পর উৎসব ঘিরে জেডি ডটকম ও পিনডুয়োডুয়োও দিনটি উপলক্ষে ছাড় দেয়া শুরু করেছে। এতে আন্তর্জাতিক মহলেও এর পরিচিতি বেড়েছে।
ই-কমার্স প্লাটফর্মগুলো বিক্রি বাড়ানোর জন্য সপ্তাহ খানেক আগে থেকে প্রচারণা শুরু করে। কিন্তু আবাসন সংকট ও মুদ্রাস্ফীতি হ্রাসজনিত চাপে ভুগছে চীনা অর্থনীতি। প্রচারণা সত্ত্বেও ক্রেতারা আর আগের মতো উন্মাদনা নিয়ে এ উৎসবে কেনাকাটা করেননি। আগ্রহ ছিল না ব্যবসায়ীদের মধ্যেও। ফলে প্রবৃদ্ধির জন্য এখন বিদেশের বাজারের দিকে তাকিয়ে আছে চীনা ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানগুলো।
বেইজিংয়ের একটি ফিটনেস সেন্টারের মালিক ওয়াং হাইহুয়া বলেন,”‘আমি এবার দৈনন্দিন প্রয়োজনীয় সামগ্রী কেনার জন্য মাত্র কয়েকশ ইউয়ান খরচ করেছি।’ শিয়ান শহরের একটি নাপিতের দোকানের মালিক ঝাং জিওয়েই বলেন, ‘দু-তিন বছর আগে সিঙ্গেলস ডেতে আমি অনেক কিছু কিনতাম। একবার একটি মোবাইল ফোনও কিনেছিলাম। কিন্তু মহামারীর পরে আয় কমে যাওয়ায় আমি তা বন্ধ করে দিয়েছি। এবার কিছুই কিনছি না।’
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বেইজিংয়ের সাম্প্রতিক অর্থনৈতিক উদ্দীপনা ভোক্তাদের আস্থা বাড়াতে তেমন প্রভাব ফেলতে পারেনি। সাংহাইয়ের চায়না মার্কেট রিসার্চ গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক শন রেইন বলেন, ‘মানুষ খরচ করতে আগ্রহী নয়। তারা দামি পণ্য কেনা কমিয়ে দিয়েছে। সত্যি বলতে দুর্বল অর্থনীতির কারণে সবকিছুরই দামই কম। সিঙ্গেলস ডে শপিংয়ে খুব বেশি ছাড় পাওয়ার সুযোগ নেই। তাই উৎসবের প্রবৃদ্ধিও কম হবে।’ রেইন জানান, খেলাধুলার পোশাক ও ফিটনেস সামগ্রী কিছু ক্ষেত্রে ভালো বিক্রি হয়েছে। কারণ গ্রাহক বেশি দামি পণ্যের বিপরীতে সাশ্রয়ী পণ্যের দিকে ঝুঁকেছে।
এদিকে খাসির মাংস প্রক্রিয়াকরণ কোম্পানির মালিক দু বাওনিয়ান বলেন, ‘ক্রেতারা তাদের ব্যয় সংকোচন করায় গত বছরের তুলনায় মোট বিক্রি ১৫ শতাংশ কমেছে।’ ডাটা সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান সিনটুনের তথ্য বলছে, গত বছর প্রধান ই-কমার্স প্লাটফর্মগুলোর পণ্য বিক্রিমূল্য ২ শতাংশ বেড়ে ১ দশমিক ১৪ ট্রিলিয়ন ইউয়ান (১৫ হাজার ৬৪০ কোটি ডলার) হয়েছে। কভিড-১৯-এর আগে বৃদ্ধির হার ২ অংকের ঘরে চলে যেত।
আগে জেডিনেট ও আলিবাবা উৎসবে মোট বিক্রির তথ্য প্রকাশ করত। তবে পরিসংখ্যান প্রকাশ বন্ধ করে দিয়েছে তারা। এ প্রেক্ষাপটে দেশীয় বাজারের মন্দার প্রভাব মোকাবেলা করতে ই-কমার্স প্লাটফর্মগুলো বিদেশী বাজারে সম্প্রসারণের দিকে মনোযোগ দিচ্ছে। তারা বিনামূল্যে পণ্য পাঠানোসহ বিদেশী ব্যবসায়ীদের সহজে বিক্রি করার সুযোগ দিচ্ছে। (খবরঃ জাপান টুডে)

ক্যাটাগরিঃ অর্থনীতি

ট্যাগঃ

মন্তব্য করুন

Leave a Reply




Contact Us