নির্বাচন যত এগিয়ে আসছে ডেমোক্র্যাটিক ও রিপাবলিকান পার্টির প্রচারণায় দেখা যাচ্ছে অর্থের ছড়াছড়ি। গত তিন মাসে এক বিলিয়ন ১০০ কোটি ডলারের বেশি অর্থ সংগ্রহ করেছেন ডেমোক্র্যাটিক প্রেসিডেন্ট প্রার্থী কমলা হ্যারিস, যা গত প্রান্তিকে রিপাবলিকান প্রার্থী ডোনাল্ড ট্রাম্পের সংগ্রহের চেয়ে তিনগুণ বেশি।
হ্যারিসের অর্থ সংগৃহীত হয়েছে মূলত তৃণমূল পর্যায়ের দাতাদের কাছ থেকে। অন্যদিকে ট্রাম্পের প্রচারণায় অর্থের জোগান দিয়েছেন বড় ব্যবসায়ীরা।
নির্বাচনী সভা, সমাবেশ ও বিজ্ঞাপন সবকিছুতেই উত্তরসূরিদের মতো প্রচুর পরিমাণ অর্থ খরচ করতে হচ্ছে ডেমোক্র্যাট প্রার্থী হ্যারিস ও রিপাবলিকান প্রার্থী ডোনাল্ড ট্রাম্পকে। অন্যান্য সব অঙ্গরাজ্যের পাশাপাশি সুইং অঙ্গরাজ্যগুলোর টিভি চ্যানেলগুলোয় অসংখ্য নির্বাচনী বিজ্ঞাপন প্রচার করছে উভয় প্রার্থীর নির্বাচনী প্রচার শিবির। এক্ষেত্রে নিজেদের পছন্দের প্রার্থীর সমর্থনে অনুদান দিচ্ছেন তৃণমূল থেকে বড় সব পর্যায়ের দাতারা।
ডেমোক্র্যাট প্রার্থী কমলা হ্যারিসের প্রচারণায় মূলত তৃণমূল পর্যায়ের দাতারা অর্থ সহায়তা দিচ্ছেন। এছাড়া ইউনিয়ন ও পলিটিক্যাল অ্যাকশন কমিটির মতো প্রথাগত উৎস থেকেও অনুদান পাচ্ছে হ্যারিসের প্রচার শিবির। অনুদানের উৎসের দিক দিয়ে হ্যারিস শিবিরের থেকে ভিন্ন পথে হাঁটছে ট্রাম্প শিবির। তৃণমূল পর্যায়ের দাতা নয়, ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রচারণায় অর্থের জোগান দিচ্ছেন বড় বড় ব্যবসায়ী দাতা ও বিলিয়নেয়াররা। ট্রাম্পের প্রচারণায় স্পেসএক্স ও টেসলার কর্ণধার ইলন মাস্ক দিয়েছেন ৭৫ মিলিয়ন বা সাড়ে সাত কোটি ডলার। অন্যদিকে ক্যাসিনো সাম্রাজ্যের মালিকানায় থাকা মিরিয়াম এইডেলসন ট্রাম্পের নির্বাচনী প্রচারণায় অনুদান দিয়েছেন ১০০ মিলিয়ন বা ১০ কোটি ডলার। বিলিয়নেয়ার ও মিলিয়নেয়ার দাতারা সুপার প্যাকগুলোকে এই অর্থ সহায়তার ঘোষণা দেন। এই সুপার প্যাকগুলো রিপাবলিকান পার্টির তৃণমূল পর্যায় থেকে অর্থ সহায়তা না পাওয়ার শূন্যতা পূরণে কাজ করে।
এদিকে হ্যারিসের পক্ষেও বড় দাতাদের কাছ থেকে আসছে অনুদানের অর্থ। তার নির্বাচনী প্রচারণায় সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একটি প্যাকে ৫০ মিলিয়ন বা পাঁচ কোটি ডলার দিয়েছেন মাইক্রোসফটের প্রতিষ্ঠাতা বিল গেটস। এছাড়া নিউইয়র্কের সাবেক মেয়র বিলিয়নেয়ার মাইকেল ব্ল–মবার্গও হ্যারিসের প্রচারণায় অর্থ সহায়তা দিয়েছেন।
বিশ্লেষকদের মতে, সবচেয়ে বেশি অনুদান পাওয়া প্রার্থীই প্রতিযোগিতায় এগিয়ে থাকেন। তবে তা যে সবসময়ই নির্বাচনে তার জয় নিশ্চিত করবে, এমনটা ভাবার কোনো কারণ নেই। আল গোর ও হিলারি ক্লিনটনেরও সংগৃহীত অনুদানের পরিমাণ অন্যদের চেয়ে বেশি ছিল। কিন্তু তারা শেষ পর্যন্ত ইলেকটোরাল ভোটে পরাজিত হন। এমন ঘটনা এই নির্বাচনে ঘটলেও অবাক হওয়ার কিছু থাকবে না বলে মনে করছেন তারা।
এদিকে জর্জিয়ার জেবুলনে বিলিভার্স অ্যান্ড ব্যালোটস ফেইথ টাউন হলে এক নির্বাচনী সমাবেশে সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, দেশের ধর্মপ্রাণ খ্রিষ্টানরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে কেন্দ্রে গিয়ে ভোট দিলে আগামী নির্বাচনে কেউই রিপাবলিকানদের হারাতে পারবে না। প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হয়ে মূল্যস্ফীতি থেকে সাধারণ মানুষকে মুক্তি দেয়ার অঙ্গীকার করে ট্রাম্প বলেছেন, আমেরিকান ড্রিম ফিরিয়ে আনবেন তিনি। ডেমোক্র্যাটিক প্রার্থী কমলা হ্যারিস দেশ ধ্বংস করে ফেলছেন বলে দাবি করে সাবেক প্রেসিডেন্ট বলেছেন, গণতন্ত্রের জন্য মূর্তিমান হুমকি ভাইস প্রেসিডেন্ট।
আগামী ৫ নভেম্বর ক্ষমতায় যেতে পারলে সবাইকে সঙ্গে নিয়ে দেশকে আবারও সঠিক পথে ফিরিয়ে আনার প্রতিশ্রুতিও দেন ট্রাম্প। এদিকে পেনসিলভেনিয়ার টাউন হলে সিএনএন আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে রিপাবলিকান প্রার্থী সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ফ্যাসিবাদী হিসেবে উল্লেখ করেছেন ডেমোক্র্যাটিক প্রার্থী ও ভাইস প্রেসিডেন্ট হ্যারিস। অনুষ্ঠানে সীমান্ত সংকট নিরসনে যেসব পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে, তাও তুলে ধরেন ডেমোক্র্যাটিক এই প্রার্থী। সিএনএনের ওই অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, ট্রাম্পের সঙ্গে দীর্ঘদিন কাজ করেছেন, এমন ব্যক্তিরাই তাকে ফ্যাসিস্ট হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
খবর: সিএনবিসি।
ক্যাটাগরিঃ অর্থনীতি
ট্যাগঃ
মন্তব্য করুন