প্রতিরোধযোগ্য ভুলের কারণে বাড়ছে ক্লাউড অপচয় – The Finance BD
 ঢাকা     শনিবার, ০৫ এপ্রিল ২০২৫, ০৭:৩১ অপরাহ্ন

প্রতিরোধযোগ্য ভুলের কারণে বাড়ছে ক্লাউড অপচয়

  • ১৬/১০/২০২৪

প্রযুক্তি, অর্থ, স্বাস্থ্যসেবাসহ বিভিন্ন খাতের কোম্পানি প্রতি বছর তাদের ক্লাউড ব্যয়ের ২১-৫০ শতাংশ অপচয় করছে, যা বিলিয়ন পাউন্ড ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ক্লাউড গভর্ন্যান্স সলিউশন প্রোভাইডার স্ট্যাকলেটের এক সমীক্ষায় উঠে এসেছে, ৭৮ শতাংশ কোম্পানি অনুমান করে, ক্লাউড পরিষেবার জন্য বিনিয়োগ করা অর্থ সঠিকভাবে ব্যবহার হচ্ছে না। ফলে এর বড় একটা অংশ অপচয় হচ্ছে।
‘স্টেট অব ক্লাউড ইউসেজ অপ্টিমাইজেশান ২০২৪’-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কোম্পানিগুলো ক্লাউড পরিষেবা ব্যবহারের ক্ষেত্রে এমন ভুলের কারণে আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হয়, যা এড়ানো সম্ভব। এ ভুলগুলো মূলত ম্যানুয়াল প্রক্রিয়া, অদক্ষতা, নীতির সঠিক প্রয়োগের অভাব ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) ক্রমবর্ধমান জটিলতার কারণে ঘটে। কিছু কোম্পানি প্রতি মাসে ৫০ হাজার ডলারের বেশি লোকসান করছে। আবার কিছু কোম্পানি বলছে, তাদের মাসিক ক্ষতি ৭৫ হাজার ডলার ছাড়িয়ে গেছে। এসব চ্যালেঞ্জ থাকা সত্ত্বেও বিশ্বব্যাপী পাবলিক ক্লাউড পরিষেবার ওপর ব্যয় ২০২৪ সালে ৮০ হাজার ৫০০ কোটি ডলারে পৌঁছানোর আশা করছে প্রযুক্তিসংশ্লিষ্টরা। এ সংখ্যা ২০২৮ সালের মধ্যে দ্বিগুণ হতে পারে। বাজার গবেষণা সংস্থা ইন্টারন্যাশনাল ডাটা করপোরেশন (আইডিসি) অনুমান করছে যে পাবলিক ক্লাউড বাজার আগামী পাঁচ বছরে বার্ষিক ১৯ দশমিক ৪ শতাংশ হারে বৃদ্ধি পাবে। এ প্রবৃদ্ধিতে প্রধান ভূমিকা রাখবে ‘সফটওয়্যার অ্যাজ আ সার্ভিস’ (এসএএএস), যা মোট ব্যয়ের ৪০ শতাংশেরও বেশি হবে। এসএএএস হলো একটি সফটওয়্যার ডেলিভারি মডেল, যেখানে অ্যাপ্লিকেশনগুলো স্বতন্ত্র কম্পিউটারে ইনস্টল করার পরিবর্তে ক্লাউডে রাখা হয় এবং ইন্টারনেটের মাধ্যমে অ্যাকসেস করা হয়। ব্যবহারকারীরা সাধারণত মাসিক বা বার্ষিক ভিত্তিতে এ পরিষেবার জন্য সাবস্ক্রাইব করেন, ফলে তাদের ইনস্টলেশন, রক্ষণাবেক্ষণ বা আপডেটের চিন্তা করতে হয় না। এসএএএসের উদাহরণ হলো গুগল ওয়ার্কস্পেস, মাইক্রোসফট ৩৬৫ ও সেলসফোর্স। স্ট্যাকলেটের সহপ্রতিষ্ঠাতা ও সিইও ট্রাভিস স্ট্যানফিল্ড বলেছেন, ‘ব্যবসায়িক নেতারা লক্ষ করছেন যে ক্লাউড খরচ দ্রুত বাড়ছে। পাশাপাশি এড়ানো যায় এমন ভুল বাড়ছে, যা ক্লাউড অপচয়ের দিকে পরিচালিত করে।’ তিনি আরো বলেন, ‘এআইয়ের বাড়তি ব্যবহার পরিস্থিতিকে আরো জটিল করছে এবং ক্লাউডের খরচ বাড়িয়ে দিচ্ছে। তাই কোম্পানিগুলোর উচিত ক্লাউড ব্যবহারের ওপর নজর রাখা ও দ্রুত পদক্ষেপ নেয়া, যেন তারা অপচয়ের কারণে হওয়া খরচ কমাতে পারে।’
সমীক্ষায় আরো দেখা গেছে, ক্লাউড খরচ বৃদ্ধির কয়েকটি প্রধান কারণের মধ্যে একটি হলো এআই। ৮২ শতাংশ উত্তরদাতা বলছেন, এআই প্রকল্পগুলো ক্লাউড ব্যবহারে জটিলতা বাড়াচ্ছে। তবে অনেক কোম্পানি স্বীকার করে যে তারা এআই-সম্পর্কিত ক্লাউড ব্যবহার সম্পূর্ণভাবে অপ্টিমাইজ করছে না, যা অতিরিক্ত ডাটা সংরক্ষণ, ভুল আকারের সম্পদ ব্যবহার, পুরনো প্রযুক্তি ব্যবহার ও ব্যয়বহুল এআই পরীক্ষার মতো সমস্যা সৃষ্টি করছে।
কোম্পানিগুলো ক্লাউড অপচয় কমাতে বেশ কয়েকটি চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন হচ্ছে। ৫২ শতাংশ উত্তরদাতা বলেছেন, ক্লাউড ম্যানেজমেন্টের ক্ষেত্রে ম্যানুয়াল প্রক্রিয়াগুলো একটি বড় সমস্যা। এছাড়া ক্লাউড ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ রাখতে জটিলতা তৈরি হচ্ছে। আবার অনেকে বলছেন, সম্পদের ব্যবহার সম্পর্কে পর্যাপ্ত তথ্য না থাকা একটি গুরুতর সমস্যা। এসব সমস্যা ক্লাউড পরিষেবাগুলো কার্যকরভাবে পরিচালনা করতে আরো কঠিন করে তোলে। ‘ফ্লেক্সেরা ২০২৪ ক্লাউড’ প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, ৭৫ শতাংশ প্রতিষ্ঠানে ক্লাউড অপচয় বাড়ছে, যেখানে ক্লাউড বাজেটের ৩২ শতাংশ নষ্ট হচ্ছে। (খবরঃ টেকমনিটর)

ক্যাটাগরিঃ অর্থনীতি

ট্যাগঃ

মন্তব্য করুন

Leave a Reply




Contact Us