যুক্তরাষ্ট্রের শুল্ক-খড়্গ : আলোচনার আশা দক্ষিণ-পূর্ব এশীয় দেশগুলোর – The Finance BD
 ঢাকা     রবিবার, ০৬ এপ্রিল ২০২৫, ০২:৩৫ পূর্বাহ্ন

যুক্তরাষ্ট্রের শুল্ক-খড়্গ : আলোচনার আশা দক্ষিণ-পূর্ব এশীয় দেশগুলোর

  • ০৫/০৪/২০২৫

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘোষিত নতুন শুল্কনীতিতে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোতে অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা ছড়িয়ে পড়েছে। ট্রাম্পের তালিকাভুক্ত নয়টি দক্ষিণ-পূর্ব এশীয় দেশের মধ্যে ছয়টির ওপর ৩২ থেকে ৪৯ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হয়েছে, যা প্রত্যাশার চেয়ে অনেক বেশি। নতুন ঘোষিত এ শুল্কহার এ অঞ্চলের দেশগুলোর জন্য মারাত্মক হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশেষ করে ভিয়েতনাম, থাইল্যান্ড ও কম্বোডিয়ার মতো রফতানিনির্ভর অর্থনীতিগুলোর জন্য। ভিয়েতনামে ৪৬ শতাংশ, থাইল্যান্ডে ৩৭ শতাংশ ও কম্বোডিয়ায় ৪৯ শতাংশ শুল্ক আরোপের ফলে এসব দেশের শেয়ারবাজারে ধস, মুদ্রার মান হ্রাস ও জরুরি সরকারি বৈঠকের মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।
এ অঞ্চলের দেশগুলো ‘চায়না প্লাস ওয়ান’ কৌশলের মাধ্যমে গত কয়েক বছরে উল্লেখযোগ্য বিনিয়োগ আকর্ষণ করেছিল। কিন্তু ট্রাম্পের এ সিদ্ধান্ত সেই অর্জনকে ঝুঁকিতে ফেলেছে। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন, এ শুল্ক দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার অর্থনৈতিক মডেলকে ভেঙে দিতে পারে। কীভাবে এ সংকট মোকাবেলা করা যায়, তা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনা করতে জরুরি কূটনৈতিক প্রচেষ্টা চালাচ্ছে দেশগুলো।
অ্যাপল, নাইকি ও স্যামসাং ইলেকট্রনিকসের মতো কোম্পানিগুলোর বড় উৎপাদন কেন্দ্র রয়েছে ভিয়েতনামে। গত বছর দেশটির রফতানি আয় ছিল ১৪২ বিলিয়ন ডলার, যা তাদের মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) প্রায় ৩০ শতাংশ। নতুন শুল্কের ফলে ভিয়েতনামের শেয়ারবাজারের সূচক ৬ দশমিক ৭ শতাংশ নেমে গেছে, যা ২০২১ সালের জানুয়ারির পর সবচেয়ে বড় পতন। এছাড়া ভিয়েতনামের মুদ্রা ডংয়ের মানও রেকর্ড নিম্নস্তরে পৌঁছেছে। প্রধানমন্ত্রী ফাম মিন চিন জরুরি মন্ত্রিসভা বৈঠক করে এ পরিস্থিতি মোকাবেলায় একটি টাস্কফোর্স গঠনের নির্দেশ দিয়েছেন। তবে তিনি বলেছেন, এ বছর ৮ শতাংশ প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা অপরিবর্তিত রয়েছে। আন্তর্জাতিক আইনি সংস্থা লুথারের ভিয়েতনাম প্রধান লিফ শ্নাইডার বলেন, ‘ভিয়েতনামের রফতানিনির্ভর অর্থনৈতিক মডেল খুব সফল ছিল, কিন্তু ৪৬ শতাংশ শুল্ক এ মডেলকেই চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলেছে।’
থাইল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী পায়েতংতার্ন সিনাওয়াত্রা বলেছেন, ‘আলোচনার মাধ্যমে শুল্ক কমানোর চেষ্টা করা হবে। আমাদের বিস্তারিত আলোচনা করতে হবে। জিডিপি লক্ষ্য অর্জন ব্যাহত হতে দেয়া যাবে না।’ থাই বাণিজ্যমন্ত্রী পিচাই নারিপথাপান বলেছেন, আলোচনার জন্য তারা প্রস্তুত এবং যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সুসম্পর্কের কারণে ইতিবাচক ফল আশা করছেন। থাইল্যান্ডের শেয়ারবাজার এরই মধ্যে দুর্বল অর্থনীতি ও গত সপ্তাহের ভূমিকম্পের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত ছিল, নতুন শুল্কের কারণে তা আরো ১ দশমিক ১ শতাংশ নেমেছে। মালয়েশিয়ার ওপর ২৪ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হয়েছে। দেশটি প্রতিশোধমূলক ব্যবস্থা নেবে না বলে জানিয়েছে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার কথা বলেছে মালয়েশিয়ার বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। কম্বোডিয়ার ওপর ৪৯ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হয়েছে, যা তাদের পোশাক ও জুতা শিল্পকে ধ্বংসের মুখে ফেলতে পারে।
ভিয়েতনাম এরই মধ্যে শুল্ক এড়াতে যুক্তরাষ্ট্রকে কিছু ছাড় দিয়েছে। যেমন আমদানি শুল্ক কমানো ও বেশি মার্কিন পণ্য কেনার প্রতিশ্রুতি। আমেরিকান চেম্বার অব কমার্সের নির্বাহী পরিচালক অ্যাডাম সিটকফ বলেন, ‘নতুন শুল্কের প্রভাব কমানোর জন্য আলোচনা চলবে বলে আশা করি।’ দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলো এখন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কূটনৈতিক আলোচনার ওপরই বেশি নির্ভর করছে। তবে ট্রাম্প প্রশাসনের কঠোর নীতির মুখে তাদের জন্য সহজ কোনো সমাধান নেই বলেই মনে করছেন বিশ্লেষকরা। খবর রয়টার্স।

ক্যাটাগরিঃ অর্থনীতি

ট্যাগঃ

মন্তব্য করুন

Leave a Reply




Contact Us