এসময় প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প একটি প্রোটোটাইপ তুলে ধরেন, যার ওপর তার ছবি এবং ‘দ্য ট্রাম্প কার্ড’ লেখা ছিল। ট্রাম্প সাংবাদিকদের জানান, বিশেষ এই ভিসা সম্ভবত ‘দুই সপ্তাহেরও কম সময়ের মধ্যে’ পাওয়া যাবে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বৃহস্পতিবার (৩ এপ্রিল) প্রথম ‘গোল্ড কার্ড’ ভিসা উন্মোচন করেছেন, যার দাম ৫ মিলিয়ন ডলার। এসময় প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প একটি প্রোটোটাইপ তুলে ধরেন, যার ওপর তার ছবি এবং ‘দ্য ট্রাম্প কার্ড’ লেখা ছিল। ট্রাম্প সাংবাদিকদের জানান, বিশেষ এই ভিসা সম্ভবত ‘দুই সপ্তাহেরও কম সময়ের মধ্যে’ পাওয়া যাবে।
তিনি বলেন, ‘আমিই এর প্রথম ক্রেতা। খুব এক্সাইটিং, তাই না?’
এর আগে, দ্বিতীয় মেয়াদে দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রথম ক্যাবিনেট বৈঠক শেষে ট্রাম্প সাংবাদিকদের জানান, নতুন ভিসাটি কার্যত গ্রিন কার্ডের মতোই হবে, যা অভিবাসীদের যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ীভাবে বসবাস ও কাজের সুযোগ দেবে। তবে এটি শুধুমাত্র ‘উচ্চ পর্যায়ের’ ব্যক্তিদের জন্য প্রযোজ্য হবে। এই বিলিয়নিয়ার প্রাক্তন রিয়েল এস্টেট টাইকুন, যিনি তার দ্বিতীয় মেয়াদে অবৈধ অভিবাসীদের বহিষ্কারকে একটি অগ্রাধিকার হিসেবে বিবেচনা করেছেন, বলেছেন যে নতুন এই কার্ডটি উচ্চমূল্যে মার্কিন নাগরিকত্ব পাওয়ার পথ সুপম করবে। তিনি গত ফেব্রুয়ারিতে বলেছিলেন, তার প্রশাসন ‘সম্ভবত এক মিলিয়ন’ এই কার্ড বিক্রি করার পরিকল্পনা করেছে। তবে ধনী রুশরাও এই কার্ড পাবেন কি-না এ বিষয়ে তিনি নিশ্চিত কিছু জানাননি।
ধনী রুশদের কাছে এই কার্ড বিক্রি করার কথা বিবেচনা করবেন কি-না এমন প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেন, ‘হ্যাঁ, সম্ভবত। আমি কিছু রুশ ধনীকে চিনি, যারা খুব ভালো মানুষ।’ ট্রাম্প বলেন, ‘যারা ৫ মিলিয়ন ডলার দিতে পারবে, তারা কর্মসংস্থানও সৃষ্টি করবে’। ‘এটি ঝড়ের গতিতে বিক্রি হবে। এটি লুফে নেয়ার মতো সুযোগ’, যোগ করেন ট্রাম্প। ট্রাম্পের বাণিজ্য সচিব হাওয়ার্ড লুটনিক সেসময় বলেন, নতুন এই গোল্ড ভিসা বর্তমান বিদেশি বিনিয়োগকারীদের জন্য থাকা ভিসা প্রোগ্রামের স্থান নেবে, তবে বিস্তারিত কিছু জানাননি। বিশ্বের বহু দেশ বিনিয়োগের বিনিময়ে নাগরিকত্ব বা স্থায়ী বসবাসের সুযোগ দেয়। ইউরোপের পর্তুগালের মতো দেশগুলো ৫ লাখ ইউরো বিনিয়োগকারীদের জন্য ‘গোল্ডেন ভিসা’ প্রদান করে, যা স্থায়ী বসবাসের অনুমতি দেয়। ট্রাম্প বলেন, বিভিন্ন কোম্পানি এই ভিসা ব্যবহার করে বিদেশি কর্মী নিয়োগ দিতে পারবে। তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের দেশে দক্ষ লোক দরকার, আমরা উৎপাদনশীল মানুষ চাই।’
বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে গ্রিন কার্ডধারীরা পাঁচ বছর পর নাগরিকত্বের জন্য আবেদন করতে পারেন। ট্রাম্প ইঙ্গিত দেন, এই উচ্চমূল্যের ভিসার মাধ্যমে প্রাপ্ত অর্থ মার্কিন ঋণ পরিশোধে ব্যবহার করা যেতে পারে। লুটনিক জানান, নতুন গোল্ড কার্ড ভিসা প্রোগ্রাম বর্তমান ইবি-৫ ভিসার পরিবর্তে চালু করা হবে, যা প্রায় ১ মিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ এবং অন্তত ১০টি পূর্ণকালীন কর্মসংস্থান তৈরি করলে স্থায়ী বাসিন্দার মর্যাদা দেয়। ইবি-৫ প্রোগ্রামকে ‘দুর্বলভাবে পরিচালিত’ উল্লেখ করে লুটনিক বলেন, নতুন গোল্ড কার্ড ভিসা আরও উন্নততর হবে। তিনি বলেন, ‘আমরা নিশ্চিত করব, এদের মধ্যে বিশ্বমানের নাগরিক থাকবে।’
তবে এই ভিসার জন্য আবেদনকারীদের কীভাবে বাছাই করা হবে, কোনো নিষেধাজ্ঞা থাকবে কি-না বা সর্বোচ্চ কতটি ভিসা ইস্যু করা হবে—এ সম্পর্কে এখনও পরিষ্কার কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। ২০২৪ অর্থবছরে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর রেকর্ড ১২ হাজারেরও বেশি ইবি-৫ ভিসা ইস্যু করেছিল। মার্কিন কংগ্রেস ১৯৯২ সালে ইবি-৫ প্রোগ্রামটি চালু করেছিল। এর মাধ্যমে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের গ্রিন কার্ড দেওয়া হতো, যদি তারা কমপক্ষে ১০ লাখ ৫০ হাজার ডলার বা অর্থনৈতিকভাবে বিপদগ্রস্ত এলাকায় ৮০ লাখ ডলার বিনিয়োগ করে, যাতে মার্কিন কর্মীদের জন্য চাকরি তৈরি হয়। বিভিন্ন বড় সম্পত্তি উন্নয়ন প্রকল্পে অর্থায়ন করার জন্য ট্রাম্প ও তার পরিবারের সাথে সম্পর্কিত ব্যবসাগুলো এই প্রোগ্রাম ব্যবহার করেছে। প্রোগ্রামটি ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদে কংগ্রেসের আইনপ্রণেতাদের (ডেমোক্র্যাটিক ও রিপাবলিকান) সমালোচনার মুখে পড়ে। অনেকেই বলেছিলেন, এটি (ইবি-৫) নিজ উদ্দেশ্য থেকে বিচ্যুত হয়েছে এবং সংস্কারের প্রয়োজন। ২০১৯ সালে ট্রাম্প প্রশাসন চিহ্নিত অর্থনৈতিক অঞ্চলের জন্য বিনিয়োগের পরিমাণ কমপক্ষে ৯০ লাখ ডলার এবং অন্য এলাকায় ১৮০ লাখ ডলার করার প্রস্তাব দেয়। কিন্তু ২০২১ সালে একজন ফেডারেল বিচারক সেটি বাতিল করেন, কারণ এই নিয়ম অনুমোদন দেওয়া হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগের সচিবকে সঠিকভাবে নিয়োগ করা হয়নি। ২০২২ সালে বাইডেন প্রশাসনের সময় এই প্রোগ্রাম আবারও চালু করে এবং বিনিয়োগের বর্তমান পরিমাণ ঠিক করা হয়।
ক্যাটাগরিঃ অর্থনীতি
ট্যাগঃ
মন্তব্য করুন