কেন্টাকির রিপাবলিকান সিনেটর র্যান্ড পল বলেন, এই শুল্ক ১৯৩০ সালের মহামন্দার মতো পরিস্থিতি তৈরি করতে পারে।
অনেকেই মনে করছেন, ট্রাম্পের সরাসরি বিরোধিতা করার ঝুঁকি নিতে রাজি নয় রিপাবলিকানরা। সিনেটর মাইক রাউন্ডস বলেন, আমি রাজনৈতিক উত্তেজনার মধ্যে এটা করতে চাই না। কিন্তু আমি একমত যে এটা কংগ্রেসের কাজ হওয়া উচিত ছিল।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নতুন শুল্ক ঘোষণার পর শেয়ারবাজারে ধস নামলেও কংগ্রেসে রিপাবলিকান আইনপ্রণেতারা এখনো পুরোপুরি কোনো পদক্ষেপ নিতে রাজি নন। যদিও মার্কিন সংবিধান অনুযায়ী, আমদানি শুল্ক নির্ধারণের ক্ষমতা কংগ্রেসের। তবে বেশিরভাগ রিপাবলিকান এখনো ট্রাম্পের বিরুদ্ধে অবস্থান নিতে দ্বিধায় ভুগছেন। খবর এপি।
ট্রাম্পের শুল্কের কারণে যুক্তরাষ্ট্রে বিভিন্ন পণ্যের দাম বেড়ে যেতে পারে, যাতে ভুক্তভোগী হবেন সাধারণ মার্কিন ভোক্তারা। বিশ্ব অর্থনীতিও মন্দার দিকে যেতে পারে বলে অর্থনীতিবিদরা সতর্ক করেছেন। কংগ্রেসের অনেক রিপাবলিকান সদস্য ট্রাম্পের নীতির সমালোচনা করলেও কোনো কার্যকর বিরোধিতার দিকে যাচ্ছেন না। অনেকে আবার ট্রাম্পের ‘বড় ও সুন্দর বিল’ বাস্তবায়নে মনোযোগী। সিনেটের সংখ্যাগরিষ্ঠ নেতা জন থুন সাংবাদিকদের বলেন, আমি প্রেসিডেন্টকে সন্দেহের সুযোগ না দিয়ে বরং আশাবাদী থাকবো যে, এটা কেবল একটা কৌশল যাতে অন্যান্য দেশ ভালো বাণিজ্য চুক্তির জন্য আলোচনায় আসে।
সিনেটর জন ব্যারাসো বলেন, প্রেসিডেন্ট এক ধরনের ‘চুক্তিবাজ’, তিনি দেশভেদে চুক্তি করতে থাকবেন। তিনি আরো বলেন, ট্রেজারি সেক্রেটারি সিনেট রিপাবলিকানদের আশ্বস্ত করেছেন যে, শুল্ক হার হলো ‘উচ্চতর চাপ প্রয়োগের কৌশল’ এবং শেষ পর্যন্ত তা কমিয়ে আনা হবে। তবে চীন এরইমধ্যে পাল্টা শুল্ক আরোপ করেছে। ট্রাম্প সে ব্যাপারে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ঘোষণা দিয়েছেন, তার নীতি এতে পাল্টাবে না। ট্রাম্প দাবি করেন, বিদেশী বিনিয়োগকারীরা আমেরিকায় বিনিয়োগে আগ্রহী। রিপাবলিকান সিনেটর মিচ ম্যাককনেল বলেন, আমি সবসময়ই বলেছি শুল্ক খারাপ নীতি এবং আমাদের অংশীদারদের সঙ্গে বাণিজ্য যুদ্ধ শ্রমজীবী মানুষদের সবচেয়ে বেশি কষ্ট দেয়। তিনি ও আরো তিন রিপাবলিকান ডেমোক্র্যাটদের সঙ্গে মিলে কানাডার ওপর ট্রাম্পের শুল্ক বাতিল করতে ভোট দিয়েছেন। তবে হাউজ স্পিকার মাইক জনসন সেই প্রস্তাব ভোটে আনতে রাজি নন। নতুন প্রজন্মের কিছু রিপাবলিকান ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ নীতির পক্ষে, এবং তারা আশা করেন, এতে দেশীয় উৎপাদন খাতে সুদিন ফিরে আসবে। মিসৌরির সিনেটর জশ হাওলি বলেন, আমার রাজ্যের কর্মীরা এতে দারুণ খুশি। আমরা বারবার চাকরি হারিয়েছি। কৃষকরাও চায় তাদের পণ্যের ন্যায্য দাম।
ডেমোক্র্যাটদের ভাষ্যে, এই শুল্ক আরোপ আসলে ধনীদের করছাড়ের টাকা তুলতেই চালানো হয়েছে। সিনেটর চাক শুমার বলেন, শুধু ধনীদের কর ছাড় দিতে আমেরিকান পরিবারগুলোর ওপর বছরে ৫ হাজার ডলার বাড়তি খরচ চাপিয়ে দেয়া হচ্ছে। সিনেটর অ্যামি ক্লোবুচার বলেন, রিপাবলিকানরা সত্যিই পুঁজিবাদে বিশ্বাস করলে তারা ভোটে সেটা দেখাক। কেন্টাকির রিপাবলিকান সিনেটর র্যান্ড পল বলেন, এই শুল্ক ১৯৩০ সালের মহামন্দার মতো পরিস্থিতি তৈরি করতে পারে। তিনি কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়া প্রেসিডেন্ট যেন শুল্ক আরোপ করতে না পারেন, সেই মর্মে একটি আইনের প্রস্তাব দিয়েছেন।
আরেক প্রবীণ রিপাবলিকান, আইওয়ার সিনেটর চাক গ্রাসলি একটি দ্বিদলীয় বিল উত্থাপন করেছেন, যাতে প্রেসিডেন্ট শুল্ক আরোপ করলে সেটা ৬০ দিনের মধ্যে কংগ্রেসে অনুমোদন পেতে হবে, না হলে তা বাতিল হবে। গ্রাসলি বলেন, সংবিধান অনুযায়ী শুল্ক নির্ধারণ কংগ্রেসের দায়িত্ব। আমরা সেই ক্ষমতা হারিয়েছি, এখন তা ফেরত আনার সময় হয়েছে। তবে অনেকেই মনে করছেন, ট্রাম্পের সরাসরি বিরোধিতা করার ঝুঁকি নিতে রাজি নয় রিপাবলিকানরা। সিনেটর মাইক রাউন্ডস বলেন, আমি রাজনৈতিক উত্তেজনার মধ্যে এটা করতে চাই না। কিন্তু আমি একমত যে এটা কংগ্রেসের কাজ হওয়া উচিত ছিল। ডেমোক্র্যাট সিনেটর ব্রায়ান শাটজ বলেন, সব সিনেটর যদি সত্যিকার অর্থে নিজের বিবেক ও রাজ্যের স্বার্থে ভোট দিতেন, তাহলে আমরা শুল্ক ক্ষমতা বাতিল করে দিতে পারতাম। তিনি আরো বলেন, অধিকাংশই এটা (শুল্ক নীতি) পছন্দ করছেন না, তারা শুধু এখন ‘ম্যাড কিং’-এর ভয়ে কথা বলছেন না। লুইজিয়ানার রিপাবলিকান সিনেটর জন কেনেডি শুল্ক নীতির কঠোর সমালোচনা করে বলেন, শুল্ক হলো হুইস্কির মতো — সঠিক পরিস্থিতিতে অল্প হুইস্কি সতেজ করে, কিন্তু ভুল পরিস্থিতিতে বেশি হুইস্কি আপনাকে ছাগলে পরিণত করতে পারে।
ক্যাটাগরিঃ অর্থনীতি
ট্যাগঃ
মন্তব্য করুন