নতুন শুল্ক কার্যকর হলে আইফোনের দাম ৩০ থেকে ৪০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়তে পারে, যদি অ্যাপল এই বাড়তি ব্যয় গ্রাহকদের ওপর চাপিয়ে দেয়।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নতুন শুল্ক নীতির কারণে আইফোনের দাম উল্লেখযোগ্য হারে বাড়তে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন শুল্ক বিশ্ব বাণিজ্যে বড় পরিবর্তন আনতে পারে, যার প্রভাব সবচেয়ে বেশি পড়বে কনজ্যুমার ইলেকট্রনিক পণ্যের ওপর। আইফোনও এর ব্যতিক্রম নয়। তাদের হিসাব অনুযায়ী, নতুন শুল্ক কার্যকর হলে আইফোনের দাম ৩০ থেকে ৪০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়তে পারে, যদি অ্যাপল এই বাড়তি ব্যয় গ্রাহকদের ওপর চাপিয়ে দেয়।
অ্যাপলের বেশিরভাগ আইফোন এখনো চীনে তৈরি হয়, যেখানে নতুন শুল্কের হার ৫৪ শতাংশ পর্যন্ত। এ অবস্থায় অ্যাপলকে হয় বাড়তি ব্যয় নিজেই বহন করতে হবে, নয়তো তা গ্রাহকদের ওপর চাপিয়ে দিতে হবে। বৃহস্পতিবার, শেয়ারবাজারে এই শঙ্কার প্রভাব পড়েছে; অ্যাপলের শেয়ারমূল্য ৯ দশমিক ৩ শতাংশ কমে গেছে, যা ২০২০ সালের মার্চের পর একদিনে সবচেয়ে বড় পতন। অ্যাপল বছরে প্রায় ২২ কোটি আইফোন বিক্রি করে, যার প্রধান বাজার যুক্তরাষ্ট্র, চীন ও ইউরোপ। বর্তমানে, যুক্তরাষ্ট্রে আইফোন ১৬ মডেলের সর্বনিম্ন দাম ৭৯৯ ডলার, যা নতুন শুল্কের কারণে বিশ্লেষকদের মতে ১১৪২ ডলারে পৌঁছাতে পারে। এছাড়া, আইফোন ১৬ প্রো ম্যাক্সের দাম ১৫৯৯ ডলার থেকে বেড়ে ২৩০০ ডলার হতে পারে।
ট্রাম্প এর আগেও চীনা পণ্যের ওপর শুল্ক আরোপ করেছিলেন, যার লক্ষ্য ছিল যুক্তরাষ্ট্রে উৎপাদন ফিরিয়ে আনা বা তা মেক্সিকোর মতো নিকটবর্তী দেশে স্থানান্তরিত করা। তবে তখন অ্যাপল কিছু পণ্যের জন্য শুল্ক মওকুফ করিয়ে নিতে পেরেছিল। এবার এখনো কোনো ছাড় দেওয়া হয়নি। রোজেনব্ল্যাট সিকিউরিটিজের বিশ্লেষক বার্টন ক্রকেট বলেন, ‘আমরা ভেবেছিলাম আমেরিকার প্রতীষ্ঠান হিসেবে অ্যাপলকে বিশেষ ছাড় দেওয়া হবে, কিন্তু বাস্তবতা তার বিপরীত হচ্ছে।’ আইফোন ১৬ই, যা ফেব্রুয়ারিতে কম দামে বাজারে এসেছিল, তার বর্তমান মূল্য ৫৯৯ ডলার। নতুন শুল্ক কার্যকর হলে এর দাম বেড়ে ৮৫৬ ডলারে পৌঁছাতে পারে। অন্যান্য অ্যাপল ডিভাইসের দামও একইভাবে বাড়তে পারে।
অ্যাপল এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি। তবে বেশির ভাগ গ্রাহক মোবাইল অপারেটরদের মাধ্যমে কয়েক বছরের কিস্তিতে ফোন কেনেন। বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক সময়ে আইফোনের বিক্রি কমছে, কারণ অ্যাপলের নতুন এআই-ভিত্তিক ফিচারগুলো যথেষ্ট আকর্ষণ সৃষ্টি করতে পারেনি।
সিএফআরএ রিসার্চের বিশ্লেষক অ্যাঞ্জেলো জিনো মনে করেন, অ্যাপলের পক্ষে ৫ থেকে ১০ শতাংশের বেশি দাম বাড়ানো কঠিন হবে। তিনি বলেন, ‘আমরা মনে করি অ্যাপল বড় কোনো মূল্যবৃদ্ধি করবে না, অন্তত এই বছরের শরৎকাল পর্যন্ত, যখন আইফোন ১৭ বাজারে আসবে।’
যদিও অ্যাপল ইতোমধ্যে কিছু উৎপাদন ভিয়েতনাম ও ভারতে সরিয়ে নিয়েছে, তবে সেসব দেশও শুল্কের আওতায় পড়েছে—ভিয়েতনামে ৪৬ শতাংশ এবং ভারতে শতাংশ। কাউন্টারপয়েন্ট রিসার্চের সহপ্রতিষ্ঠাতা নিল শাহের মতে, শুল্ক ক্ষতিপূরণ করতে হলে অ্যাপলকে গড়ে ৩০ শতাংশ দাম বাড়াতে হবে। এতে আইফোনের চাহিদা হ্রাস পেতে পারে এবং দক্ষিণ কোরিয়ার স্যামসাং সুবিধাজনক অবস্থানে চলে যেতে পারে, কারণ দক্ষিণ কোরিয়ার ওপর শুল্কের হার তুলনামূলক কম। রোজেনব্ল্যাট সিকিউরিটিজের ক্রকেট বলেন, ‘আমাদের হিসাব অনুসারে, ট্রাম্পের নতুন শুল্ক অ্যাপলের জন্য ৪০ বিলিয়ন ডলারের ক্ষতি ডেকে আনতে পারে। তবে আমরা এখনো মনে করি, আলোচনার মাধ্যমে অ্যাপল, চীন ও হোয়াইট হাউস কোনো সমাধানে পৌঁছাবে।’ তিনি আরও বলেন, ‘ট্রাম্পের পক্ষে অ্যাপলের মতো একটি আমেরিকান প্রতীষ্ঠানকে চাপে ফেলা কল্পনা করা কঠিন, তবে পরিস্থিতি সত্যিই কঠিন হয়ে উঠছে।’
ক্যাটাগরিঃ অর্থনীতি
ট্যাগঃ
মন্তব্য করুন