মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, অন্য দেশগুলো যদি ”অসাধারণ’ কোনো প্রস্তাব বা সুবিধা দিতে পারে, তবে তিনি আরোপিত শুল্ক কমাতে প্রস্তুত আছেন। কিছু শীর্ষ কর্মকর্তা কড়া অবস্থানে থাকলেও এমন প্রস্তাব পেলে হোয়াইট হাউস আলোচনায় প্রস্তুত আছে বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি। বৃহস্পতিবার এক অনুষ্ঠানে ট্রাম্প তার শুল্কনীতি দৃঢ়ভাবে সমর্থন করেন। যদিও শেয়ারবাজারে তখন বিশাল ধস নেমেছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, সুদহার কমছে—এতে তিনি খুশি করেছে। তার বিশ্বাস, এই অর্থনৈতিক অস্থিরতা কেটে যাবে। ‘শুল্ক আমাদের দরকষাকষিতে দারুণ শক্তি দেয়,’ বলেন ট্রাম্প। তিনি আরও বলেন, ‘সব দেশই আমাদের ফোন করেছে।’
শুল্ক আরোপের অবস্থান থেকে সরে আসার কথা ভাবছেন কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, সেটা কিছু বিষয়ের ওপর ‘নির্ভর করছে’।
‘কেউ যদি বলে, তারা আমাদের অসাধারণ কিছু দেবে—তাহলে, হ্যাঁ। তারা যদি আমাদের ভালো কিছু দেয়,’ বলেন তিনি। তবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট এ-ও জানান, সামনে আরও শুল্ক আরোপ করা হবে। ট্রাম্প বলেন, ‘চিপ খাতে খুব শিগগিরই শুরু হচ্ছে। ফার্মাসিউটিক্যালসে আসছে। আমার মনে হয়, এমন মাত্রায় [শুল্ক আসছে] যা আগে দেখা যায়নি। আমরা এখন ফার্মাকে গুরুত্ব দিয়ে দেখছি। এটা আলাদা একটা ক্যাটাগরি। খুব শিগগিরই আমরা এ বিষয়ে ঘোষণা দেব।’
শুক্রবার ভারতের ফার্মাসিউটিক্যাল শেয়ারে ধস নেমেছে। এশিয়াজুড়ে শেয়ারবাজারেও ধস নেমেছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের ইনডেক্স ফিউচারেও পতন হয়েছে। ডলার আরও দুর্বল হয়েছে। শেয়ারবাজারে করোনা মহামারি-পরবর্তী সবচেয়ে বড় ধস দেখা দেওয়ার পরপরই এসব মন্তব্য করলেন ট্রাম্প। বৃহস্পতিবার মাত্র একদিনেই এসঅ্যান্ডপি ৫০০ প্রায় ২.৫ ট্রিলিয়ন ডলার হারিয়েছে। ছোট কোম্পানিগুলোর রাসেল ২০০০ সূচকেও ধস নেমেছে। ট্রাম্পের বাণিজ্য নীতির কারণে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতি ধাক্কা খেতে পারে—এমন আশঙ্কায় শেয়ারবাজারে পতন হচ্ছে। ট্রাম্প আরও বলেছেন, তিনি চীনকে শুল্কছাড় দিতে পারেন, যদি বেইজিং টিকটকের মূল কোম্পানি বাইটড্যান্সকে প্ল্যাটফর্মটির যুক্তরাষ্ট্রের বাজারের অংশ বিক্রি করার অনুমোদন দেয়। ট্রাম্প আর সময় না বাড়ালে শনিবারই এই ভিডিও অ্যাপ বিক্রির সময় ফুরাবে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট অবশ্য বলেছেন, তারা ‘চুক্তির খুব কাছাকাছি’ আছেন। ট্রাম্প বলেন, তিনি দিনভর বিভিন্ন দেশের সরকারপ্রধান ও ব্যবসায়িক নেতাদের সঙ্গে শুল্কছাড় নিয়ে কথা বলেছেন। বৃহস্পতিবার কয়েকটি গাড়ি উৎপাদনকারী কোম্পানির সিইওর সঙ্গেও কথা বলেছেন—তবে তাদের নাম প্রকাশ করেননি। তিনি বলেন, ‘আমার মনে হয়, আমাদের বাজার আবার ফুলে উঠবে। একটু সময় দিতে হবে।’
মার্কিন প্রেসিডেন্ট আরও বলেন, জ্বালানির দাম কমেছে—যা তিনি ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন। ‘একটা ভালো ব্যাপার হচ্ছে সুদের হার কমছে, মুদিদোকানের পণ্যের মতো। ডিমের দামও কমছে—এটা ভালো ব্যাপার। আর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, গ্যাসোলিনের দাম কমছে,’ বলেন তিনি। মার্কিন প্রেসিডেন্ট আরও দাবি করেন, যুক্তরাজ্য তার নতুন শুল্কনীতিতে খুশি। যুক্তরাজ্যের পণ্যের ওপর সর্বনিম্ন ১০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হয়েছে। অন্যদিকে ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত দেশগুলোর ওপর আরোপ করা হয়েছে ২০ শতাংশ শুল্ক।
ক্যাটাগরিঃ অর্থনীতি
ট্যাগঃ
মন্তব্য করুন