বর্তমান আইন অনুসারে, যুক্তরাজ্যে ১০০ বছরের কম সময় আগে মৃত ব্যক্তিদের শরীরের টিস্যু সংগ্রহ ও সংরক্ষণের জন্য অনুমতি প্রয়োজন হয়। তবে হিউম্যান টিস্যু অ্যাক্ট ২০০৪ মতে, শুধুমাত্র প্রতিস্থাপনের উদ্দেশ্যে অঙ্গ কেনা-বেচা ও ধারণ নিষিদ্ধ। মানুষের দেহাবশেষ জাদুঘরে প্রদর্শন ও নিলামে বিক্রিত বিরোধীতা করেছেন কয়েকজন ব্রিটিশ আইনপ্রণেতা ও ক্যাম্পেইনার। গত ১২ মার্চ আফ্রিকান পুনঃপ্রতিষ্ঠাবিষয়ক অল-পার্টি পার্লামেন্টারি গ্রুপ (এপিপিজি-এআর) ‘লেইং অ্যানসেস্টরস টু রেস্ট’ শিরোনামের একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। এতে প্রাচীন মিসরীয় মমিসহ বিভিন্ন সময়ের মানুষের দেহাবশেষ বিক্রি ও প্রদর্শন নিষিদ্ধের আহ্বান জানানো হয়। খবর সিএনএনের।
বর্তমান আইন অনুসারে, যুক্তরাজ্যে ১০০ বছরের কম সময় আগে মৃত ব্যক্তিদের শরীরের টিস্যু সংগ্রহ ও সংরক্ষণের জন্য অনুমতি প্রয়োজন হয়। তবে হিউম্যান টিস্যু অ্যাক্ট ২০০৪ মতে, শুধুমাত্র প্রতিস্থাপনের উদ্দেশ্যে অঙ্গ কেনা-বেচা ও ধারণ নিষিদ্ধ।
প্রতিবেদনে আইনপ্রণেতারা জানান, ব্রিটিশ উপনিবেশিক শাসনের সময় অনেক পূর্বপুরুষের দেহাবশেষ সংগ্রহ করা হয়েছিল। এগুলো বর্তমানে ব্রিটিশ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানগুলোতে সংরক্ষিত আছে। আইনপ্রণেতাদের দাবি, এগুলো অভিবাসী সম্প্রদায়ের জন্য মানসিক যন্ত্রণার কারণ হয়ে উঠতে পারে। প্রতিবেদনটি বলছে, ‘ঐতিহাসিকভাবে মমি করা মৃতদেহ ব্রিটেন ও ফ্রান্সের উচ্চবিত্তদের মধ্যে বিলাসবহুল পণ্য হিসেবে বাণিজ্যিকভাবে বিক্রি হতো। এছাড়া ১৯ শতকে ব্রিটিশ ‘মমি আনর্যাপিং পার্টি’তে বিনোদনের জন্য ব্যবহৃত হতো।’ এতে আরো বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক সময়ে মিসরীয় মমিগুলোকে জনপ্রিয় ভূতের চরিত্রে রূপান্তরিত করা হয়েছে, যা মিসরীয় ঐতিহ্যকে পশ্চিমা দর্শকদের কাছে উদ্ভট হিসেবে তুলে ধরেছে। প্রতিবেদনে ১৪টি সুপারিশ করা হয়েছে। এর মধ্যে আছে মানুষের দেহাবশেষের বাণিজ্যকে সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা। এতে হিউম্যান টিস্যু অ্যাক্ট ২০০৪ সংশোধন করে ১০০ বছরের বেশি সময় আগে মৃত ব্যক্তিদের দেহাবশেষকেও অন্তর্ভুক্ত করার কথা বলা হয়েছে। এছাড়া জাতীয় জাদুঘরের পরিচালনা পর্ষদে বিভিন্ন সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিতের সুপারিশ অন্তর্ভুক্ত আছে। তাদের দাবি, পূর্বপুরুষদের দেহাবশেষের তালিকা প্রস্তুত করতে অর্থ বরাদ্দ কর হবে। ২০০৫ সালে যুক্তরাজ্যের সরকার মানুষের দেহাবশেষ সংরক্ষণ ও প্রদর্শনের বিষয়ে জাদুঘরগুলোর জন্য নির্দেশিকা প্রকাশ করেছিল। এতে বলা ছিল, জাদুঘরগুলো অনুরোধের ভিত্তিতে দেহাবশেষ ফেরত দেয়ার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে পারে। বৃহস্পতিবার হাউস অব লর্ডসে এই বিষয়ে আলোচনার সময় ডিপার্টমেন্ট ফর কালচার, মিডিয়া অ্যান্ড স্পোর্টসের জুনিয়র মন্ত্রী ফিয়োনা টুইক্রস বলেন, ‘বিশ্বে অনেক পরিবর্তন এসেছে। তাই ২০০৫ সালের নির্দেশিকাটি এখন আর প্রাসঙ্গিক নয়’। তবে তিনি আশ্বস্ত করেন এ প্রতিবেদনের সুপারিশগুলো সরকার গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করবে। আলোচনায় লেবার পার্টির সদস্য পল বোয়াটেং এ ধরনের ব্যবসাকে ‘জঘন্য অপরাধ’ বলে আখ্যা দিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘এ জঘন্য বাণিজ্য বন্ধ করা উচিত ও আদিবাসী জনগণের পূর্বপুরুষদের দেহাবশেষ তাদের ইচ্ছার বিরুদ্ধে জনসমক্ষে প্রদর্শন বা সংরক্ষণ বন্ধ করা প্রয়োজন।’
ক্যাটাগরিঃ অর্থনীতি
ট্যাগঃ
মন্তব্য করুন