বন্দর কার্যক্রম থেকে ব্যাপক মুনাফা অর্জনের ঘোষণা দিয়েছে হংকংভিত্তিক সিকে হাচিসন। আলোচিত এ কনগ্লোমারেট সম্প্রতি মার্কিন সংস্থার ব্ল্যাকরকের সঙ্গে ২ হাজার ২৮০ কোটি ডলারের একটি চুক্তির ঘোষণা দিয়েছে। যার মাধ্যমে সিকে হাচিসনের অধিকাংশ ব্যবসা হাতবদল হচ্ছে, যদিও এ চুক্তির তুমুল সমালোচনা করেছে বেইজিং। সিকে হাচিসন জানিয়েছে, আগের বছরের তুলনায় বন্দর ব্যবসায় মুনাফা ২০২৪ সালে ২৪ শতাংশ বেড়ে হয়েছে ১ হাজার ৩১০ কোটি হংকং ডলার বা ১৭০ কোটি ডলার।
কোম্পানিটি ব্ল্যাকরক নেতৃত্বাধীন কনসোর্টিয়ামের কাছে নিজেদের নিয়ন্ত্রণাধীন ৫৩টি বন্দর থেকে ৪৩টি বিক্রি করছে, এর মধ্যে পানামা খালের দুটি বন্দরও রয়েছে। তবে চীনের বন্দরগুলো সিকে হাচিসনের নিয়ন্ত্রণে থাকবে। পানামা খালের ওপর চীনের প্রভাব নিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সমালোচনার পর সিকে হাচিসন বন্দর ব্যবসার বড় অংশ বিক্রি করে দিচ্ছে। যদিও তারা এ সিদ্ধান্তে ট্রাম্পের সমালোচনার প্রভাব থাকার বিষয়টি অস্বীকার করেছে। চুক্তি সম্পাদনের পর থেকে সিকে হাচিসন ও এর বিলিয়নেয়ার প্রতিষ্ঠাতা লি কা-শিং বেইজিং থেকে সমালোচনার সম্মুখীন হচ্ছেন। বিষয়টি পুনরায় বিবেচনার অনুরোধও করা হয়েছে। তবে আর্থিক ফলাফল ঘোষণার সময় বিক্রির কোনো তথ্য উল্লেখ করেনি এবং কোনো বিশ্লেষক ব্রিফিংও অনুষ্ঠিত হয়নি।
চলতি মাসে সিকে হাচিসনের শেয়ারদর বেড়েছে ১৫ শতাংশ। এর কারণ হিসেবে এমন খবর সামনে আনা হচ্ছে, বিক্রি থেকে সিকে হাচিসন নগদ ১ হাজার ৯০০ কোটি ডলার পাবে এবং এর মধ্যে কিছু অর্থ শেয়ারহোল্ডারদের মধ্যে বিতরণ করা হবে। অবশ্য চূড়ান্ত চুক্তি ২ এপ্রিল স্বাক্ষরিত হওয়ার কথা। সিকে হাচিসন কেম্যান দ্বীপপুঞ্জে নিবন্ধিত। বেইজিং বা হংকং কর্তৃপক্ষ কীভাবে এ চুক্তি বন্ধ করতে পারে তা এখনো স্পষ্ট নয়। কারণ চুক্তির অন্তর্ভুক্ত ৪৩টি বন্দর হংকং ও চীনের বাইরে অবস্থিত। তবে চুক্তিটি নিরাপত্তা লঙ্ঘন বা অ্যান্টিট্রাস্ট আইন ভঙ্গ করছে কিনা তা তদন্ত করছে চীনা কর্তৃপক্ষ। সিকে হাচিসনের আয়ের ছোট একটি অংশ আসে চীন ও হংকং থেকে, গত বছর যা ছিল গ্রুপের মোট আয়ের ১২ শতাংশ। অন্যদিকে ইউরোপ ও যুক্তরাজ্য প্রায় ৫২ শতাংশ আয় এসেছে।
খবর এফটি।
ক্যাটাগরিঃ অর্থনীতি
ট্যাগঃ
মন্তব্য করুন