জাপানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইওয়াইয়া তাকেশি ও চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই, একটি কৌশলগত ও পারস্পরিক লাভজনক সম্পর্ক এগিয়ে নিতে সহযোগিতা করতে সম্মত হয়েছেন। গতকাল শনিবার বিকেলে টোকিওতে, ইওয়াইয়া ও ওয়াং প্রায় এক ঘন্টার এক বৈঠকে মিলিত হন। আলোচনার শুরুতে ইওয়াইয়া বলেন যে, জাপান ও চীন উভয়েরই একে অপরের সাথে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ রাখার পাশাপাশি এই অঞ্চল ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি তাদের দায়িত্ব পালনের জন্য একসাথে ভূমিকা পালন করা প্রয়োজন। ইওয়াইয়া আরও বলেন যে, জাপান ও চীন পারস্পরিক সহযোগিতা ও সমন্বয়ের সম্ভাবনা সর্বাধিক নিশ্চিত করতে চাইলে এমন একটি সম্পর্ক গড়ে তোলা গুরুত্বপূর্ণ যেখানে অভিন্ন চ্যালেঞ্জ ও অমীমাংসিত সমস্যা সমাধানের জন্য খোলামেলা আলোচনার সুযোগ পাওয়া যাবে। ওয়াং’এর ভাষ্যমতে, জাপান ও চীন অনিশ্চয়তায় ভরা আন্তর্জাতিক পরিবেশের মুখোমুখি রয়েছে। তিনি বলেন যে, ইতিহাসের মুখোমুখি হয়ে ও ভবিষ্যতের দিকে নজর দিয়ে পারস্পরিক আস্থার ভিত্তিতে অভিন্ন স্বীকৃতি নির্মাণের মাধ্যমে পারস্পরিক সম্পর্কের সঠিক দিকনির্দেশনা বজায় রাখার পাশাপাশি দুই দেশের উচিত হবে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক উন্নত করা এবং উন্নয়নের চেষ্টার প্রক্রিয়ায় সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করা। ইওয়াইয়া এবং ওয়াং, বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ ও উদ্বেগ কমাতে পদক্ষেপ গ্রহণে সম্মত হন। তারা এমন একটি সম্পর্ক গড়ে তোলার লক্ষ্যে সহযোগিতা ও অংশীদারিত্ব বৃদ্ধিতেও সম্মত হন যার লক্ষ্য হচ্ছে অভিন্ন কৌশলগত স্বার্থ তৈরি ও গঠনমূলক ও স্থিতিশীল সম্পর্ক গড়ে তোলা। দুই মন্ত্রী, পরিবেশ বান্ধব অর্থনীতি এগিয়ে নেয়া এবং ক্রমবর্ধমান বয়োবৃদ্ধ সমাজের প্রতি সাড়া দেয়ার মতো বিস্তৃত খাতে পারস্পরিক সহযোগিতা এগিয়ে নিতে সম্মত হন। ইওয়াইয়া, পূর্ব চীন সাগরে জাপানের সেনকাকু দ্বীপমালার আশেপাশের পরিস্থিতি ও চীনা সামরিক বাহিনীর তৎপরতা জোরদার করার বিষয়ে জাপানের উদ্বেগ প্রকাশ করেন। জাপান এই দ্বীপমালা নিয়ন্ত্রণ করে। চীন ও তাইওয়ান দ্বীপগুলোর মালিকানা দাবি করে। জাপান সরকার এই অবস্থান বজায় রেখে চলেছে যে এক্ষেত্রে সার্বভৌমত্বের কোনও বিষয় নেই। গত ডিসেম্বরে ওকিনাওয়া জেলার ইয়োনাগুনি দ্বীপের দক্ষিণে জাপানের একান্ত অর্থনৈতিক অঞ্চলের ভেতরে স্থাপন করা হয়েছে বলে নিশ্চিত হওয়া একটি বয়া সরিয়ে নিতেও চীনের প্রতি আহ্বান জানান ইওয়াইয়া। Source: NHK WORLD JAPAN
ক্যাটাগরিঃ অর্থনীতি
ট্যাগঃ
মন্তব্য করুন