বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দাম আগামী তিন মাসে পৌঁছতে পারে আউন্সপ্রতি ৩ হাজার ২০০ ডলারে। এর পেছনে ভূমিকা রাখতে পারে কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর শক্তিশালী চাহিদা ও এক্সচেঞ্জ-ট্রেডেড ফান্ডের (ইটিএফ) চাহিদা বৃদ্ধি। সম্প্রতি প্রকাশিত এক নোটে এমন পূর্বাভাস দিয়েছে আন্তর্জাতিক আর্থিক পরিষেবা ও ব্যাংকিং প্রতিষ্ঠান সিটিগ্রুপ। খবর রয়টার্স।
এর আগে প্রতিষ্ঠানটি আগামী তিন মাসে আউন্সপ্রতি স্বর্ণের দাম ৩ হাজার ডলারে পৌঁছার পূর্বাভাস দিয়েছিল। সিটি বিশ্লেষকরা নোটে জানান, যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন নীতির কারণে আগামী দিনগুলোয় স্বর্ণ খাতে বিনিয়োগ চাহিদা উল্লেখযাগ্য হারে বেড়ে গিয়েছিল। তাই বছর শেষে মূল্যবান ধাতুটির দাম পৌঁছতে পারে আউন্সপ্রতি ৩ হাজার ৫০০ ডলারে।
ভূরাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা এবং যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভের (ফেড) সুদহার কমানোর সম্ভাবনায় আউন্সপ্রতি ৩ হাজার ডলারের ওপরে স্বর্ণ বেচাকেনা হচ্ছে। তবে গত সপ্তাহের লেনদেনের শেষদিনে মূল্যবান ধাতুটির দাম ১ শতাংশ কমেছে। এর পেছনে ভূমিকা রেখেছে ডলারের বিনিময় হার বৃদ্ধি। এছাড়া অর্জিত মুনাফা নিশ্চিত করতে বিনিয়োগকারীরা বিক্রি বাড়িয়েছেন। এটিও দাম কমার অন্যতম কারণ। উল্লেখ্য, বাজারে কোনো পণ্যের দাম সর্বোচ্চে পৌঁছে গেলে বিনিয়োগকারীরা তাদের লাভের একটি অংশ বিক্রি করে দেন, যেন মুনাফা নিশ্চিত করা যায়। স্পট মার্কেটে গত শুক্রবার স্বর্ণের দাম আগের দিনের তুলনায় কমে আউন্সপ্রতি ৩ হাজার ১৫ ডলার ৪৩ সেন্টে বেচাকেনা হয়েছে। এদিন যুক্তরাষ্ট্রের ফিউচার মার্কেটে মূল্যবান ধাতুটির দাম কমেছে দশমিক ৭ শতাংশ। প্রতি আউন্সের মূল্য স্থির হয়েছে ৩ হাজার ২১ ডলার ৪০ সেন্টে। মারেক্স বিশ্লেষক এডওয়ার্ড মেয়ার বলেন, ‘বাজার পরিস্থিতি কিছু সময়ের জন্য স্থিতিশীল হয়েছে। মুনাফা নিশ্চিতে সরবরাহ বাড়িয়েছেন ব্যবসায়ীরা।’
উল্লেখ্য, যুক্তরাষ্ট্রে ডলারের বিনিময় হার দশমিক ৩ শতাংশ বেড়ে দুই সপ্তাহের সর্বোচ্চে পৌঁছেছে। ডলারের বিনিময় হার বেড়ে গেলে বিদেশী ক্রেতাদের জন্য স্বর্ণ আরো ব্যয়বহুল হয়ে ওঠে। ফলে চাহিদা কমায় দামে প্রভাব ফেলে। জ্যানার মেটালের ভাইস প্রেসিডেন্ট ও সিনিয়র মেটাল স্ট্র্যাটেজিস্ট পিটার গ্রান্ট বলেন, ‘বাণিজ্য উদ্বেগ ও ভূরাজনৈতিক ঝুঁকির কারণে চলমান আপৎকালীন বিনিয়োগ চাহিদা এখনো প্রধান চালিকাশক্তি।’ এদিকে স্পট মার্কেটে শুক্রবার রূপার দাম ১ দশমিক ৭ শতাংশ কমে আউন্সপ্রতি ৩২ ডলার ৯৭ সেন্টে নেমেছে। এ সময় প্লাটিনামের দাম ছিল ৯৭৩ ডলার ৪৫ সেন্ট। প্যালাডিয়ামের দাম দশমিক ১ শতাংশ বেড়ে আউন্সে ৯৫৩ ডলার ১৪ সেন্টে পৌঁছেছে।
ক্যাটাগরিঃ অর্থনীতি
ট্যাগঃ
মন্তব্য করুন