অর্থনীতিতে ‘অপ্রত্যাশিত ঝাঁকুনি’ মোকাবেলায় প্রস্তুত চীন – The Finance BD
 ঢাকা     শনিবার, ০৫ এপ্রিল ২০২৫, ০১:০৯ পূর্বাহ্ন

অর্থনীতিতে ‘অপ্রত্যাশিত ঝাঁকুনি’ মোকাবেলায় প্রস্তুত চীন

  • ২৪/০৩/২০২৫

যুক্তরাষ্ট্রের শুল্কনীতির প্রধান লক্ষ্য হয়ে উঠেছে দেশটির প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী চীন। যুক্তরাষ্ট্রের শুল্কনীতির প্রধান লক্ষ্য হয়ে উঠেছে দেশটির প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী চীন। বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনীতিটিও বিধিনিষেধ আরোপে বসে নেই। এরই মধ্যে বিভিন্ন ক্ষেত্রে পাল্টা শুল্কের কথা জানিয়েছে দিয়েছে। এর সঙ্গে ব্যবসায়ীদের আশ্বস্ত করে বলছে, অর্থনীতিতে যেকোনো ‘অপ্রত্যাশিত ঝাঁকুনি’ মোকাবেলার জন্য প্রস্তুত চীন। খবর এফটি।
প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের অধীনে চীনের অর্থনীতি পরিচালনার দায়িত্বে রয়েছেন প্রধানমন্ত্রী লি চিয়াং। বেইজিংয়ে গতকাল বিদেশী ব্যবসায়ীদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন তিনি। এ সময় মার্কিন শুল্ক বাধার দিকে ইঙ্গিত করে চীনের প্রস্তুতির কথা বলেন লি চিয়াং। তার মতে, বিশ্বজুড়ে অনিশ্চয়তা ও অস্থিরতা বাড়ছে। তবে বিভক্তির বিপরীতে চীন বিশ্বায়ন ও বহুপক্ষীয়তার সঠিক পথই বেছে নেবে। লি চিয়াং বলেন, ‘প্রধানত বাহ্যিক উৎস থেকে আসবে, আমরা এমন সম্ভাব্য অপ্রত্যাশিত ঝাঁকুনির জন্য প্রস্তুতি নিয়েছি।’
তিনি বলেন, ‘ইতিহাসের সঠিক দিকে, ন্যায্যতা ও ন্যায়বিচারের দিকে দৃঢ়ভাবে দাঁড়াবে চীন এবং কঠিন পরিস্থিতির মধ্যেও ন্যায়সংগতভাবে কাজ করবে।’ চীনা আমদানি পণ্যের ওপর আগামী ২ এপ্রিল থেকে অতিরিক্ত শুল্ক কার্যকর করতে পারে যুক্তরাষ্ট্র। একই সঙ্গে বিশ্বব্যাপী ঘোষিত রেসিপ্রোকাল ট্যারিফ বা পারস্পরিক শুল্ক একই দিন থেকে প্রযোজ্য হচ্ছে। ধারণা করা হচ্ছে, কোনো প্রকার ছাড় দেয়ার পক্ষে নন ডোনাল্ড ট্রাম্প। যখন দেশগুলো তাদের পাল্টা শুল্কের প্রভাব মোকাবেলার প্রস্তুতি নিচ্ছে এবং চীনা বিনিয়োগকারীরা মনোবল ফেরানোর চেষ্টা করছেন, তখনই সামনে এল চীনা প্রধানমন্ত্রীর এমন বক্তব্য।
সম্প্রতি দ্বিতীয় মেয়াদে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব নেয়ার পর চীনা পণ্যের ওপর অতিরিক্ত ১০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেন ট্রাম্প। এরপর দ্বিতীয় দফা মিলিয়ে দেশটির পণ্যে মোট শুল্কের হার ২০ শতাংশে পৌঁছেছে। হোয়াইট হাউজের বক্তব্য চীনের যেসব কোম্পানি ফেন্টানিল তৈরির উপাদান সরবরাহ করে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়ার জন্য চাপ প্রয়োগ করতেই অতিরিক্ত শুল্ক আরোপের এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। ফেন্টানিল একটি প্রাণঘাতী কৃত্রিম ওপিওয়েড, যা যুক্তরাষ্ট্রে মাদকের মহামারী সৃষ্টি করেছে। অবশ্য শি জিনপিং দ্রুত প্রতিক্রিয়ায় বলেছিলেন, এ ধরনের পদক্ষেপে কোনো পক্ষই বিজয়ী হতে পারে না। চীনও নিজেদের স্বার্থরক্ষার জন্য পদক্ষেপ গ্রহণ করবে। ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রেসিডেন্ট হওয়ার পর থেকে যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যে শীর্ষ পর্যায়ে খুব বেশি আলোচনা হয়নি। তবে শি জিনপিং ও ডোনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যে একটি ফোনালাপ এতে একমাত্র ব্যতিক্রম। গত সপ্তাহে ট্রাম্প বলেছিলেন, ‘অদূর ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্রে আসবেন শি জিনপিং।’ তবে সংশ্লিষ্টদের বরাতে এফটির খবরে বলা হয়েছে, প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের যুক্তরাষ্ট্র সফর নিয়ে তাদের মধ্যে কোনো আলোচনা হয়নি। এদিকে প্রধানমন্ত্রী লি চিয়াংয়ের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের মন্টানা অঙ্গরাজ্যের সিনেটর স্টিভ ডেইনসের সঙ্গে সাক্ষাতের কথা রয়েছে। স্টিভ ডেইনস আগে চীনে ব্যবসা করতেন। এরই মধ্যে মার্কিন এ সিনেটর চীনের ভাইস প্রিমিয়ার হ্য লিফেংয়ের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন। এটিও শীর্ষ মার্কিন আইনপ্রণেতা ও একজন উচ্চপদস্থ চীনা কর্মকর্তার মধ্যে বিরল বৈঠক। ডেইনসের অফিস জানিয়েছে, তিনি হ্য লিফেংয়ের সঙ্গে বৈঠকে চীনকে ফেন্টানিল তৈরির জন্য ব্যবহৃত রাসায়নিকের প্রবাহ বন্ধ করতে ট্রাম্পের আহ্বান পুনর্ব্যক্ত করেছেন। এছাড়া শিগগিরই যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যে আরো উচ্চ পর্যায়ের আলোচনা অনুষ্ঠিত হওয়ার আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন তিনি।

ক্যাটাগরিঃ অর্থনীতি

ট্যাগঃ

মন্তব্য করুন

Leave a Reply




Contact Us