বিশ্বজুড়ে অনেক আধুনিক আবাসিক প্রকল্প রয়েছে। যার অনেকগুলো পরিকল্পনা স্তরে আকর্ষণীয় মনে হলেও বাস্তবায়ন হওয়ার পর মুখ থুবড়ে পড়েছে। যেখানে ভর করেছে প্রাণহীনতা ও রুক্ষতা। আর ব্যতিক্রম নজিরের একটি কাতারের ‘দ্য পার্ল’। রাজধানী দোহায় ২০ বছর আগে গড়ে ওঠা এ কৃত্রিম দ্বীপ সাফল্যের মাইলফলক হয়ে দাঁড়িয়ে আছে পৃথিবীর বুকে। রঙিন ভবন, ইতালির ভেনিসের অনুকরণে নির্মিত জলপথ ও বিলাসবহুল ইয়টভর্তি মেরিনার সমন্বয়ে এক অভাবনীয় দৃশ্য তৈরি করেছে দ্য পার্ল। দুবাইয়ের পাম জুমেইরার নির্মাণ শুরুর তিন বছর পর নিজস্ব কৃত্রিম দ্বীপের উদ্যোগ নেয় কাতার। মূলত ভূমি পুনরুদ্ধারের মাধ্যমে গড়ে উঠছে দ্য পার্ল, যা কিনা পরিবেশ সংরক্ষণের দিক থেকেও প্রশংসিত। এটি দেশটির প্রথম নগর উন্নয়ন প্রকল্প, যার মালিকানা আন্তর্জাতিক বিনিয়োগের জন্য উন্মুক্ত করে দেয়া হয়। এ নগরের ডিজাইনে রয়েছে ভূমধ্যসাগরীয় ও আরবীয় স্থাপত্যের সংমিশ্রণ, যেখানে প্রতিটি এলাকা আলাদা পরিচয়ে সমৃদ্ধ। পোর্তো অ্যারাবিয়া ও কুয়ানাত কোয়ার্টার ইউরোপীয় স্থাপত্যশৈলীর অনুকরণে তৈরি। ভেনিস-অনুপ্রাণিত কানাত কোয়ার্টারে রয়েছে জলপথ ও রিয়াল্টো ব্রিজ। আরো আছে বিলাসবহুল অ্যাপার্টমেন্ট, ক্যাফে, রেস্টুরেন্ট ও পর্যটনের জন্য দর্শনীয় স্থান। এছাড়া আছে ফ্লোরেস্তা গার্ডেনস ও মাদিনাত সেন্ট্রাল। আধুনিক সুবিধাসম্পন্ন এ দুটো এলাকায় সুপারমার্কেট, হাসপাতাল, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও বিনোদন কেন্দ্র রয়েছে। দ্য পার্ল পরিবেশ সচেতন নগর উন্নয়নের একটি মডেল। এখানে রয়েছে পুনর্ব্যবহৃত পানির মাধ্যমে পরিচালিত কেন্দ্রীয় শীতলীকরণ ব্যবস্থা, ইলেকট্রিক চার্জিং পয়েন্ট ও পুনর্ব্যবহারযোগ্য বর্জ্য ব্যবস্থাপনা। সাধারণ সমুদ্র থেকে ভূমি পুনরুদ্ধার করলে প্রাকৃতিক উপকূল ও সামুদ্রিক পরিবেশের পরিবর্তন ঘটে। তবে দ্য পার্ল পরিবেশ সংরক্ষণ ও নতুন জীববৈচিত্র্য সৃষ্টি করার চেষ্টা করেছে। দ্বীপটি শুধু আবাসন নয়, বরং কাতারের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক ও পর্যটন কেন্দ্র। আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ, পর্যটক আকর্ষণ ও সুশৃঙ্খল নগরায়ণ এটিকে কাতারের অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ অংশ করে তুলেছে। খবর সিএনএন
ক্যাটাগরিঃ অর্থনীতি
ট্যাগঃ
মন্তব্য করুন