এশিয়ার চালের বাজারে চলতি সপ্তাহে মিশ্র প্রবণতা দেখা গেছে। এ সময় থাইল্যান্ডে চালের দাম দুই বছরেরও বেশি সময়ের মধ্যে সর্বনিম্নে নেমেছে। এশিয়ার চালের বাজারে চলতি সপ্তাহে মিশ্র প্রবণতা দেখা গেছে। এ সময় থাইল্যান্ডে চালের দাম দুই বছরেরও বেশি সময়ের মধ্যে সর্বনিম্নে নেমেছে। খাতসংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, কম চাহিদা ও সরবরাহ বৃদ্ধির কারণে দেশটিতে ভোগ্যপণ্যটির দামে এ নিম্নমুখিতা দেখা গেছে। অন্যদিকে চলতি সপ্তাহে ভারতে চালের রফতানি মূল্য ২১ মাসের সর্বনিম্ন স্তরের কাছাকাছি স্থিতিশীল রয়েছে। একই সঙ্গে টনপ্রতি ৪০০ ডলারের কমে বিক্রি হয়েছে ভিয়েতনামের চাল।
থাইল্যান্ডে চলতি সপ্তাহে ৫ শতাংশ খুদযুক্ত চালের দাম কমে টনপ্রতি ৪০৫ ডলারে নেমেছে, যা ২০২২ সালের অক্টোবরের পর সর্বনিম্ন। গত সপ্তাহে দেশটিতে একই মানের চাল টনে ৪০৫-৪০৮ ডলারে বেচাকেনা হয়েছিল। ব্যাংককের এক ব্যবসায়ী বলেন, ‘চাহিদা আগের তুলনায় কমেছে। আগামী দুই-তিন মাস এ ধারা অব্যাহত থাকতে পারে।’ তিনি আরো বলেন, ‘নিয়মিত ক্রেতারা কেবল প্রয়োজন অনুযায়ী ক্রয় করছেন। বাজারে অতিরিক্ত সরবরাহ রয়েছে। ভারত ও মিয়ানমারেও চালের দাম উল্লেখযোগ্য হারে কমেছে। এটি অত্যন্ত উদ্বেগজনক।’
ভারতের ৫ শতাংশ খুদযুক্ত চালের দাম চলতি সপ্তাহে ছিল টনপ্রতি ৪০৩-৪১০ ডলার, যা গত সপ্তাহের তুলনায় অপরিবর্তিত। কলকাতাভিত্তিক একটি গ্লোবাল ট্রেড হাউজের এক ডিলার বলেন, ‘পাকিস্তান ও ভিয়েতনাম উল্লেখযোগ্য হারে সাদা চাল বিক্রি বাড়িয়েছে। এটি সেদ্ধ চালের দামেও প্রভাব ফেলেছে।’ ভারত চলতি মাসের শুরুতে শতভাগ খুদযুক্ত চাল রফতানির অনুমতি দিয়েছে। এর আগে ২০২২ সালের সেপ্টেম্বর থেকে পণ্যটির রফতানি নিষিদ্ধ ছিল।
ভিয়েতনাম ফুড অ্যাসোসিয়েশনের দেয়া তথ্যানুযায়ী, ভিয়েতনামের ৫ শতাংশ খুদযুক্ত চাল বৃহস্পতিবার টনপ্রতি ৩৯৪ ডলারে পৌঁছেছে, যা গত সপ্তাহের টনে ৩৯২ ডলারের তুলনায় কিছুটা বেশি। হো চি মিন সিটির এক ব্যবসায়ী জানান, দাম কিছুটা বাড়লেও চাহিদা এখনো কম। তাই বাজার কার্যক্রমে মন্দা দেখা গেছে।
ভিয়েতনামের বাণিজ্যমন্ত্রী বুধবার সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোকে ফিলিপাইন ও চীনে চাল রফতানি প্রচার ত্বরান্বিত করতে এবং নতুন বাজার খোঁজার জন্য সক্রিয়ভাবে কাজ করার নির্দেশ দিয়েছেন।
এদিকে বাংলাদেশে চালের অভ্যন্তরীণ দাম এখনো বেশি। দেশে আমদানি বৃদ্ধি ও মজুদ শক্তিশালী করার সরকারি প্রচেষ্টার পরেও ভোক্তাদের ওপর চাপ তৈরি হচ্ছে।
সরকার ভিয়েতনাম, মিয়ানমার ও পাকিস্তান থেকে সরকারি পর্যায়ে চুক্তি এবং আন্তর্জাতিক দরপত্রের মাধ্যমে চাল সংগ্রহ করছে। তবে স্থানীয় বাজারে মূল্যহ্রাসের আশঙ্কায় বেসরকারি ব্যবসায়ীরা চাল কম আমদানি করছেন।
খবর : বিজনেস রেকর্ডার।
ক্যাটাগরিঃ অর্থনীতি
ট্যাগঃ
মন্তব্য করুন