২০২৫-’২৬ আর্থিক বছরে ভারতের জিডিপি বৃদ্ধির হার দাঁড়াবে ৬.৫ শতাংশ। সমীক্ষক সংস্থা ‘ফিচ রেটিং’-এর পূর্বাভাস ঘিরে পড়ে গিয়েছে শোরগোল।
২০২৫-’২৬ আর্থিক বছরে ভারতের মোট অভ্যন্তরীণ উৎপাদন (গ্রস ডোমেস্টিক প্রোডাক্টস বা জিডিপি) বৃদ্ধির হার দাঁড়াবে ৬.৫ শতাংশ। পরের অর্থবর্ষে (পড়ুন ২০২৬-’২৭) সেটা আরও কমে ৬.৩ শতাংশে নেমে আসবে। ৩১ মার্চের মুখে এ কথা জানাল সমীক্ষক সংস্থা ‘ফিচ রেটিং’। আগামী আর্থিক বছরের ক্ষেত্রে এ দেশের জিডিপি বৃদ্ধির হার অপরিবর্তিত রেখেছেন তাঁরা। তবে ২০২৬-’২৭ অর্থবর্ষে আগের পূর্বাভাসের তুলনায় সূচক ১০ বেসিস পয়েন্ট বাড়বে বলে আশাবাদী সমীক্ষকেরা।
‘ফিচ’-এর পূর্বাভাসে, ’২৬ আর্থিক বছরে ‘অর্থনৈতিক সহযোগিতা ও উন্নয়ন সংস্থা’র (অর্গানাইজ়েশন ফর ইকোনমিক কো-অপারেশন অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট বা ওইসিডি) বৃদ্ধির সূচক ৬.৪ শতাংশ থাকবে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। কিন্তু এটি ৬.৭ শতাংশ পর্যন্ত বাড়বে বলে ইতিমধ্যেই দাবি করেছে রিজ়ার্ভ ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়া বা আরবিআই। অর্থাৎ কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্কের তুলনায় এই ক্ষেত্রে বৃদ্ধি কমবে বলে মনে করছেন ফিচের সমীক্ষকেরা।
চৈত্রের পোড়া গরমে চাহিদা বাড়ল এসি-ফ্যান-কুলারের! দেদার বিক্রিতে স্টকে বাড়তি ঝলক
চলতি বছরের মার্চে ‘ইকোনমিক আউটলুক রিপোর্ট’ প্রকাশ করে ফিচ রেটিং। সেখানে সমীক্ষক সংস্থাটি বলেছে, ডোনাল্ড ট্রাম্প মার্কিন প্রেসিডেন্ট হওয়ার পর থেকেই প্রত্যাশার চেয়ে বেশি আক্রমণাত্মক বাণিজ্যিক নীতি নিয়েছে ওয়াশিংটন। কিন্তু অবস্থানগত কারণে এতে খুব বেশি বিপদে পড়বে না নয়াদিল্লি। এ বছরের ফেব্রুয়ারিতে সংসদে পেশ করা বাজেটে আয়করে বিপুল ছাড়ের কথা ঘোষণা করেন কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন। বিশ্লেষকের একাংশের দাবি, এতে আমজনতার পকেটে থাকবে অতিরিক্ত টাকা। ফলে বাজারে বৃদ্ধি পাবে ভোগ্যপণ্যের বিক্রি। ভারতের আর্থিক বৃদ্ধিতে এটি সাহায্য করবে বলে মনে করছেন ‘ফিচ’-এর সমীক্ষকেরা।
২০২৪ সালের ডিসেম্বর ত্রৈমাসিকে এদেশের জিডিপি বৃদ্ধির হার দাঁড়ায় ৬.২ শতাংশ। ২০২৪-’২৫ আর্থিক বছরের দ্বিতীয় ত্রৈমাসিকে এটি ছিল ৫.৬ শতাংশ, গত সাতটি প্রান্তিকের নিরিখে যা সর্বনিম্ন। সম্প্রতি এদেশের অর্থনীতি নিয়ে আর্থিক সংস্থা ‘মর্গান স্ট্যানলি’র করা পূর্বাভাস নিয়ে দুনিয়া জুড়ে পড়ে গিয়েছে হইচই। তাদের দাবি, আর মাত্র তিন বছরের মধ্যেই বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম অর্থনীতির দেশে পরিণত হবে ভারত। অর্থাৎ ২০২৮ সালের মধ্যে নয়াদিল্লির আর্থিক বৃদ্ধির হার ৫.৭ লক্ষ কোটি ডলারে গিয়ে পৌঁছোবে।
২০২৩ সালে ভারতীয় অর্থনীতির আকার ছিল সাড়ে তিন লক্ষ কোটি ডলার। আগামী বছর সেটাই বেড়ে ৪.৭ লক্ষ কোটি ডলারে পৌঁছোবে বলে মনে করা হচ্ছে। দেশের আর্থিক বৃদ্ধির হার ওই অঙ্ক ছুঁয়ে ফেললে বিশ্বের চতুর্থ বৃহত্তম অর্থনীতির ঘরে ঢুকে পড়বে ভারত। নয়াদিল্লির সামনে থাকবে তিনটি মাত্র দেশ। সেগুলি হল, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, চিন এবং জার্মানি। ২০২৮ সালের মধ্যে এই দৌড়ে বার্লিন পিছিয়ে পড়বে বলে স্পষ্ট করেছে ‘মর্গান স্ট্যানলি’।
সূত্র : আনন্দবাজার পত্রিকা
ক্যাটাগরিঃ অর্থনীতি
ট্যাগঃ
মন্তব্য করুন