মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রস্তাবে পরস্পরের জ্বালানি অবকাঠামোয় সাময়িকভাবে হামলা বন্ধে সম্মত হয়েছে রাশিয়া ও ইউক্রেন। ফলে বিশ্ববাজারে রুশ জ্বালানি তেলের সরবরাহ বাড়ার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে, যার ফলাফল হিসেবে বুধবার বিশ্ববাজারে কমেছে জ্বালানি তেলের দাম। এছাড়া প্রভাব পড়েছে শস্যবাজারে।
ফিউচার মার্কেটে গতকাল অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের আন্তর্জাতিক বাজার আদর্শ ব্রেন্টের দাম ১৯ সেন্ট বা দশমিক ৩ শতাংশ কমে ব্যারেলপ্রতি ৭০ ডলার ৩৭ সেন্টে বিক্রি হয়েছে। অন্যদিকে মার্কিন বাজার আদর্শ ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েটে (ডব্লিউটিআই) দাম ২০ সেন্ট বা দশমিক ৩ শতাংশ কমে ৬৬ ডলার ৭০ সেন্টে বিক্রি হয়েছে।
পণ্যবাজার বিশ্লেষক সংস্থা আইজির বাজার কৌশলবিদ ইয়েপ জুন রঙের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় হওয়া রাশিয়া-ইউক্রেন চুক্তিটি একটি চূড়ান্ত সমাধানের দিকে ইতিবাচক পদক্ষেপ। ইউক্রেনীয় জ্বালানি স্থাপনাগুলোয় আক্রমণ বন্ধ হলে জ্বালানি তেল সরবরাহে ব্যাঘাত কমবে। যার প্রভাব পড়বে দামে। বিশ্বের শীর্ষ জ্বালানি তেল সরবরাহকারী দেশের একটি রাশিয়া। কিন্তু যুদ্ধের শুরু থেকে দেশটির জ্বালানি তেলের ওপর নিষেধাজ্ঞা থাকায় সরবরাহ কমে যায়। বিশ্লেষকরা বলেছেন, সম্ভাব্য যুদ্ধবিরতির ফলে মস্কোর জ্বালানির ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা শিথিল হতে পারে, যা জ্বালানি তেল সরবরাহ বাড়াতে এবং দাম কমাতে সাহায্য করবে।
কানাডা, মেক্সিকো ও চীনের ওপর মার্কিন শুল্ক মন্দার আশঙ্কা বাড়িয়েছে বলে অভিমত বিশ্লেকদের, যা অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের চাহিদার ওপর প্রভাব ফেলবে। এছাড়া মধ্যপ্রাচ্যে গাজায় ইসরায়েলের হামলা ও হুথি-মার্কিন উত্তেজনায় বৃহত্তর অঞ্চলটি থেকে জ্বালানি তেল সরবরাহ হুমকির মুখে পড়েছে। এতে বাজারে অস্থিরতা দেখা দিতে পারে। বুধবার এক বিবৃতিতে বাজার বিশ্লেষণকারী প্রতিষ্ঠান গোল্ডম্যান স্যাকসের বিশ্লেষকরা বলেছেন, মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা বৃদ্ধি সত্ত্বেও জ্বালানি তেলের বাজারে দামের পতন মনোযোগ আকর্ষণ করছে।
যদিও মার্কিন অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের মজুদের তথ্য মিশ্র চিত্র তুলে ধরেছে। মঙ্গলবার আমেরিকান পেট্রোলিয়াম ইনস্টিটিউটের পরিসংখ্যানের বরাত দিয়ে বাজার সূত্র জানিয়েছে, ১৪ মার্চ শেষ হওয়া সপ্তাহে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের মজুদ ৪০ লাখ ৫৯ হাজার ব্যারেল বেড়েছে। অন্যদিকে পেট্রলের মজুদ ১ লাখ ৭১ হাজার ব্যারেল এবং ডিস্টিলেট মজুদ ২০ লাখ ১৫ হাজার ব্যারেল কমেছে।
এদিকে রাশিয়া-ইউক্রেন জ্বালানি যুদ্ধবিরতির প্রভাব পড়েছে শস্যবাজারেও। এরই মধ্যে কমেছে গম ও ভুট্টার দাম। শিকাগো বোর্ড অব ট্রেডের (সিবিওটি) সর্বাধিক সক্রিয় চুক্তি অনুসারে, গমের দাম বুশেলপ্রতি দশমিক ৯ শতাংশ কমে ৫ ডলার ৬০ সেন্ট হয়েছে। আর ভুট্টার দাম দশমিক ২ শতাংশ কমে ৪ দশমিক ৫৭৭৫ ডলার হয়েছে। এছাড়া শীর্ষ শস্য রফতানিকারক রাশিয়ার ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা সরে যাওয়ার সম্ভাবনায় বাড়তে পারে সরবরাহ। এতে শস্যবাজার আগামীতে নিম্নমুখী হবে বলেই পূর্বাভাস বিশ্লেষকদের।
খবর রয়টার্স।
ক্যাটাগরিঃ অর্থনীতি
ট্যাগঃ
মন্তব্য করুন