চলতি বছরে আকরিক লোহার গড় মূল্য টনপ্রতি ৯৫ ডলারে নামতে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে মার্কিন আর্থিক প্রতিষ্ঠান গোল্ডম্যান স্যাকস। এতে অবদান রাখবে বছরের শেষ নাগাদ ইস্পাত তৈরির গুরুত্বপূর্ণ উপাদানটির কমে আসা দাম। ওই সময় টনপ্রতি আকরিক লোহার দাম হতে পারে ৮৫ ডলার।
বিশ্লেষকরা বলছেন, মজুদ কমাতে সরবরাহকারীরা যদি উত্তোলন পাঁচ কোটি টন কাটছাঁট করে তাহলে দাম আরো কমবে। গোল্ডম্যান স্যাকস একই প্রতিবেদনে পূর্বাভাস দিয়েছে, আকরিক লোহার গড় মূল্য আগামী বছরে আরো কমতে পারে। ২০২৬ সালে ধাতুটির গড় মূল্য হবে টনপ্রতি ৮৫ ডলার। যদিও এর আগে প্রতিষ্ঠানটি টনপ্রতি ৯০ ডলার গড় মূল্যের পূর্বাভাস দিয়েছিল, কিন্তু এবার সংশোধন করে কমিয়ে এনেছে। মূলত আকরিক লোহার মজুদ বাড়ছে দেখে বিশ্লেষকরা ভবিষ্যতে দাম কমার সম্ভাবনা দেখছেন।
বিশ্বের সবচেয়ে বড় ইস্পাত উৎপাদনকারী ও আকরিক লোহার আমদানিকারক দেশ চীনে সম্প্রতি উৎপাদন কমেছে। এতে আকরিক লোহার মজুদ বাড়ছে। সরবরাহ চাহিদার চেয়ে মজুদ বেশি হওয়ায় ধাতুটির দাম কমবে। মূলত চীনে ইস্পাতের উৎপাদন কমে যাওয়ায় ভবিষ্যতে আকরিক লোহার দাম কমার পূর্বাভাস দিয়েছে আর্থিক প্রতিষ্ঠানটি। মূলত প্রত্যাশা ও বাস্তবতার মধ্যে আটকে আছে চীনের আকরিক লোহা ও ইস্পাত শিল্প। খাতসংশ্লিষ্টরা সামগ্রিক পরিস্থিতির উন্নতি হবে বলে আশা করছেন। কিন্তু বাজারের তথ্য ভিন্ন কথা বলছে। চলতি সপ্তাহে চীনের জাতীয় পরিসংখ্যান ব্যুরোর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দেশটির সম্পত্তির দাম, বিনিয়োগ ও বিক্রি কমেছে। এ থেকে সহজেই আকরিক লোহা ও ইস্পাত শিল্পের বর্তমান পরিস্থিতি সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যায়। জানুয়ারি-ফেব্রুয়ারির তথ্যানুযায়ী, গত বছরের একই সময়ের তুলনায় সম্পত্তিতে বিনিয়োগ ৯ দশমিক ৮ শতাংশ ও বিক্রি ৫ দশমিক ১ কমেছে। এছাড়া নতুন নির্মাণ কমেছে ২৯ দশমিক ৬ শতাংশ, যা ২০২৪ সালে ছিল ২৩ শতাংশ। ফিউচার মার্কেটে আকরিক লোহার দাম গতকাল টানা তৃতীয় দিনে কমেছে। চীনে ধাতুটির চাহিদার পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ বাড়ায় দরপতন ঘটেছে। চীনের ডালিয়ান কমোডিটি এক্সচেঞ্জে (ডিসিই) মে মাসের সরবরাহ চুক্তিতে ধাতুটির দাম ১ দশমিক ৪৮ শতাংশ কমে টনপ্রতি ৭৬৫ ইউয়ান (১০৫ ডলার) নির্ধারণ হয়েছে। এদিকে চুক্তিটি সেশনের শুরুতে টনপ্রতি ৭৬১ দশমিক ৫ ইউয়ানে পৌঁছে, যা ১৩ জানুয়ারির পর সবচেয়ে কম দাম। সিঙ্গাপুর এক্সচেঞ্জে এপ্রিলের সরবরাহ চুক্তিতে আকরিক লোহার দাম টনপ্রতি ১ দশমিক ৫৮ শতাংশ কমে ১০০ ডলার ৫৫ সেন্টে নেমেছে। এর আগে ১২ মার্চ সবচেয়ে কম দাম ১০০ ডলার ১৫ সেন্টে পৌঁছায়। চীনের ফিউচার মার্কেটের বিশ্লেষক চু জিনলি বলেন, ‘নতুন নির্মাণের তীব্র পতন বাজারের আস্থা কমিয়ে দিয়েছে। ফলে বিনিয়োগকারীরা আরো সতর্ক হয়ে ঝুঁকি এড়ানোর মনোভাব গ্রহণ করছেন। ইস্পাতের বাজার উন্নতির জন্য নির্মাতাদের মধ্যে উৎপাদন কমানো অথবা প্রত্যাশার চেয়ে বেশি চাহিদা থাকতে হবে।’ মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নতুন নতুন শুল্ক আরোপের কারণে বিশ্বব্যাপী বাণিজ্যযুদ্ধ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। এ কারণে ভবিষ্যৎ চাহিদা নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে, আর এর প্রভাব দামেও পড়ছে। খবর রয়টার্স ও বিজনেস রেকর্ডার।
ক্যাটাগরিঃ অর্থনীতি
ট্যাগঃ
মন্তব্য করুন