মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা ও বাণিজ্য সম্পর্কিত অনিশ্চয়তায় স্বর্ণকে নিরাপদ আশ্রয়স্থল হিসেবে দেখছেন ব্যবসায়ীরা। সেই সঙ্গে ফেডারেল রিজার্ভের সুদহার সম্পর্কিত সিদ্ধান্তেরও অপেক্ষা করছেন তারা। এর প্রভাবে আপৎকালীন বিনিয়োগ হিসেবে চাহিদা বেড়ে গতকাল রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছেছে স্বর্ণের দাম।
যুক্তরাষ্ট্রে এদিন স্পট মার্কেটে আউন্সপ্রতি স্বর্ণের দাম দশমিক ২ শতাংশ বেড়ে ৩ হাজার ৪১ ডলার ৩৭ সেন্টে পৌঁছে। তবে লেনদেনের শুরুতে সর্বোচ্চ ৩ হাজার ৪২ ডলার ৯৫ সেন্টে ওঠে। অন্যদিকে ফিউচার মার্কেটে আউন্সপ্রতি দশমিক ৩ শতাংশ বেড়ে ৩ হাজার ৪৮ ডলার ৭০ সেন্টে দাঁড়িয়েছে। বাজার বিশ্লেষণকারী প্রতিষ্ঠান কেএমসি ট্রেডের প্রধান বাজার বিশ্লেষক টিম ওয়াটারার বলেছেন, ‘ব্যবসায়ীরা স্বর্ণকে এমন সম্পদ হিসেবে দেখছেন, যা শুল্ক সম্পর্কিত অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা মোকাবেলার জন্য প্রস্তুত।’
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দফায় দফায় শুল্ক আরোপের ফলে বিনিয়োগকারীরা অর্থনৈতিক মন্দা এবং মন্দার উচ্চ ঝুঁকির বিষয়ে চিন্তিত। যার কারণে ব্যাপকভাবে মূল্যস্ফীতি সৃষ্টি হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। এদিকে গতকালই দুদিনের নীতিনির্ধারণী বৈঠক শেষ করার কথা যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভের। এতে সুদহার ৪ দশমিক ২৫ থেকে ৪ দশমিক ৫০ শতাংশের মধ্যে অপরিবর্তিত থাকার সম্ভাবনা বেশি বলে মনে করছিলেন বিশ্লেষকরা, যা স্বর্ণের মূল্যবৃদ্ধিতে সহায়ক হতে পারে।
স্বর্ণের দাম বাড়ার আরেকটি কারণ হচ্ছে ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা। বিশেষত ইসরায়েলি হামলা ও তার ফলস্বরূপ গাজার পরিস্থিতি। এ পরিস্থিতি নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে স্বর্ণের চাহিদা আরো বাড়িয়েছে। তবে শুধু স্বর্ণ নয়, দাম বেড়েছে অন্যান্য ধাতব পদার্থেরও। বুধবার স্পট রুপার দাম প্রতি আউন্সে দশমিক ১ শতাংশ বেড়ে ৩৪ ডলার ৫ সেন্ট হয়েছে। আর প্যালাডিয়ামের দাম দশমিক ১ শতাংশ বেড়ে ৯৬৮ ডলার ২০ সেন্টে পৌঁছেছে।
খবর রয়টার্স।
ক্যাটাগরিঃ অর্থনীতি
ট্যাগঃ
মন্তব্য করুন