ইয়েমেনে হুথি বিদ্রোহীদের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের হামলার পর সোমবার (১৬ মার্চ) জ্বালানি তেলের দাম এক শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। ইরান সমর্থিত এই গোষ্ঠী লোহিত সাগরে জাহাজের ওপর আক্রমণ না থামালে হামলা অব্যাহত থাকবে বলে হুমকি দিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। ফলে পরিস্থিতির আরও অবনতি হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা। সোমবার (১৭ মার্চ) ব্রিটিশ বার্তাসংস্থা রয়টার্স এ খবর জানিয়েছে। রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়, আন্তর্জাতিক মানদণ্ড ব্রেন্ট ফিউচার্সের মূল্য ৭২ মার্কিন সেন্ট বা এক দশমিক শূন্য দুই শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ব্যারেল প্রতি ৭১ দশমিক ৩০ মার্কিন ডলারে পৌঁছেছে। এছাড়া,মার্কিন মানদণ্ড ইউএস ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট ক্রুড ফিউচার্সের মূল্যও ৭২ সেন্ট বৃদ্ধি পেয়ে হয়েছে ব্যারেল প্রতি ৬৭ দশমিক ৯ ডলার।
হোয়াইট হাউজের ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রত্যাবর্তনের পর এটি মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের বৃহত্তম সামরিক অভিযান। সর্বশেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত, মার্কিন বিমান হামলায় অন্তত ৫৩ জনের প্রাণহানির খবর জানিয়েছে হুথি পরিচালিত ইয়েমেনি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মার্কিন কর্মকর্তা রয়টার্সকে জানিয়েছেন, এই অভিযান আগামী কয়েক সপ্তাহ অব্যাহত থাকতে পারে। লোহিত সাগরে বাণিজ্যিক জাহাজে দীর্ঘদিন ধরে হামলা চালিয়ে আসছে হুথিরা। এতে বৈশ্বিক বাণিজ্যে ক্ষতি হওয়ার পাশাপাশি তাদের প্রতিহত করতে মার্কিন সেনাবাহিনীকে বাড়তি খরচ করতে হয়েছে। এর আগে, টানা তিন সপ্তাহের দরপতনের পর গত সপ্তাহে তেলের দাম প্রথমবারের মতো কিছুটা বেড়েছিল। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে অন্যান্য দেশের বাণিজ্য রেষারেষির কারণে বৈশ্বিক অর্থনীতিতে শ্লথগতির আশঙ্কায় ওই মূল্যবৃদ্ধি হয় বলে মন্তব্য করেছেন বিশেষজ্ঞরা। আর্থিক প্রতিষ্ঠান গোল্ডম্যান স্যাকসের বিশ্লেষকরা তেলের চাহিদা কমতে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছেন। তাদের ধারণা, চীন, মেক্সিকো ও কানাডার ওপর শুল্ক আরোপের কারণে মার্কিন অর্থনীতিতে মন্দা দেখা দিতে পারে, বিশ্ববাণিজ্যে যার প্রভাব পড়তে পারে।
ক্যাটাগরিঃ অর্থনীতি
ট্যাগঃ
মন্তব্য করুন