এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চল চলতি বছর পাবলিক ক্লাউড পরিষেবায় ২৫ হাজার কোটি ডলার ব্যয় করবে বলে পূর্বাভাস দেয়া হয়েছে। এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চল চলতি বছর পাবলিক ক্লাউড পরিষেবায় ২৫ হাজার কোটি ডলার ব্যয় করবে বলে পূর্বাভাস দেয়া হয়েছে। আগের বছরের তুলনায় এশিয়ায় ক্লাউড খরচের বৃদ্ধি দ্রুত হবে এবং এটি ২০২৪ সালের পরিসংখ্যানকে অনেকটা ছাড়িয়ে যাবে। বাজার গবেষণা সংস্থা ইন্টারন্যাশনাল ডাটা করপোরেশনের (আইডিসি) সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।
আইডিসির বিশ্বব্যাপী সফটওয়্যার ও পাবলিক ক্লাউড সেবা খরচ নির্দেশিকা অনুযায়ী, ২০২৫ সালের মধ্যে এশিয়ায় ক্লাউড সেবায় খরচ হবে ২৫০ বিলিয়ন বা ২৫ হাজার কোটি ডলার। ২০২৮ সালের মধ্যে এটি প্রতি বছর ১৪ দশমিক ২ শতাংশ হারে বাড়বে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) ব্যাপক ব্যবহার ও ডিজিটাল রূপান্তরের দিকে অব্যাহত মনোযোগের ফলে এ সময় প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের ক্লাউড কম্পিউটিং বাজার দ্রুত প্রবৃদ্ধি দেখবে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ক্লাউড কম্পিউটিংয়ের দ্রুত প্রবৃদ্ধি শুধু ডাটা ও কাজ ক্লাউডে স্থানান্তর করার বিষয় নয়। ক্লাউড প্রযুক্তি ব্যবহার করে নতুন ধারণা তৈরি ও কার্যকারিতা উন্নত করাও এর অন্তর্ভুক্ত। এখন অনেক ব্যবসা প্রতিষ্ঠান এআই প্রকল্পের জন্য ক্লাউডকে প্রধান হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছে। তারা ক্লাউড-ভিত্তিক এআই পরিষেবা ব্যবহার করে উন্নত অ্যাপ্লিকেশন তৈরি ও চালু করতে পারছে।
আইডিসির ডাটা অ্যান্ড অ্যানালিটিক্স বিভাগের সহযোগী গবেষণা ব্যবস্থাপক মারিও অ্যালেন ক্লেমেন্ট বলেন, ‘এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলের ক্লাউড যাত্রা একটি নতুন পর্যায়ে প্রবেশ করেছে। যদিও ক্লাউড কম্পিউটিংয়ের মৌলিক সুবিধাগুলো এখনো গুরুত্বপূর্ণ, তবে বর্তমানের মূল বিষয় হলো ক্লাউড ও এআইয়ের সমন্বয়। ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানগুলো বুঝতে পারছে যে ক্লাউড শুধু অ্যাপ্লিকেশন চালানোর প্লাটফর্ম নয়, এটি স্মার্ট সমাধান (প্রযুক্তি ব্যবহার করে স্বয়ংক্রিয়ভাবে জটিল সমস্যা সমাধান) তৈরির জন্য অপরিহার্য অবকাঠামো। যারা সমন্বয়কে কার্যকরভাবে ব্যবহার করতে পারবে, তারাই ডিজিটাল অর্থনীতিকে নেতৃত্ব দেবে।’
তিনি জানান, ক্লাউড কম্পিউটিংয়ের বিকাশ অবশ্যই ঊর্ধ্বমুখী, তবে কিছু চ্যালেঞ্জ এখনো রয়েছে। ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানগুলো ডাটার মালিকানা ও ব্যবহারের অধিকার, স্থানীয় আইন ও নিয়মকানুন মেনে চলা এবং দক্ষ এআই পেশাদার খুঁজে পাওয়া নিয়ে উদ্বিগ্ন। এসব সমস্যা সমাধানে ক্লাউড পরিষেবা প্রদানকারীরা স্থানীয় ডাটা সেন্টার নির্মাণ ও দক্ষতার ঘাটতি পূরণে প্রশিক্ষণ প্রোগ্রাম চালু করার মতো পদক্ষেপ নিচ্ছে। কানেক্টিকাটভিত্তিক গবেষণা ও পরামর্শক প্রতিষ্ঠান গার্টনার বলছে, এশিয়ার পাশাপাশি চলতি বছর বিশ্বব্যাপী পাবলিক ক্লাউড পরিষেবায় ব্যয় ছাড়াবে ৭২ হাজার কোটি ডলার। অর্থের এ অংক গত বছরের চেয়ে ২১ দশমিক ৪ শতাংশ বেশি। বিশ্বব্যাপী ক্লাউড অবকাঠামো খাতের জন্য খুব একটা অনুকূলে ছিল না ২০২৩ সাল। তবে গত বছর থেকে হতাশাজনক এ পরিস্থিতি কাটিয়ে উঠছে খাতটি। এর পেছনের কারণ হিসেবে মুখ্য ভূমিকায় আছে প্রযুক্তি দুনিয়ায় এআইয়ের প্রতি বাড়তি আগ্রহ। আইডিসির সর্বশেষ প্রতিবেদন অনুযায়ী, চলতি বছর পাবলিক ক্লাউড পরিষেবায় খরচ বাড়বে বিভিন্ন শিল্পে। এর মধ্যে রয়েছে সফটওয়্যার এবং ইনফরমেশন সার্ভিস, স্বাস্থ্যসেবা, পেশাদার ও ব্যক্তিগত সেবা শিল্প, টেলিযোগাযোগ খাত ও অন্যান্য। আইডিসি ওয়ার্ল্ডওয়াইড সফটওয়্যার অ্যান্ড পাবলিক ক্লাউড সার্ভিসেস স্পেন্ডিং গাইড একটি বিশদ প্রতিবেদন যা বিভিন্ন শিল্প, কোম্পানির আকার, অঞ্চল ও দেশজুড়ে পাবলিক ক্লাউড পরিষেবায় কত ব্যয় করা হচ্ছে তা চিহ্নিত করে। এসব তথ্য আইটি সিদ্ধান্ত গ্রহণকারীদের বুঝতে সাহায্য করে যে পাবলিক ক্লাউড পরিষেবাগুলো কোথায় ও কীভাবে ব্যবহার হচ্ছে।
ক্যাটাগরিঃ অর্থনীতি
ট্যাগঃ
মন্তব্য করুন