ভুটান, যাকে বলা হয় সুখী মানুষের দেশ বা প্রশান্তির দেশ। ‘প্রশান্তির দেশ’ বলা হয় মূলত এর অনন্য জীবনদর্শন, প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও সামাজিক নীতির জন্য। সে ধারণাকে লক্ষ্য রেখেই দক্ষিণ ভুটানের গিলেফুতে তৈরি হচ্ছে এক নতুন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, যা দেশটির ভবিষ্যৎ বদলে দিতে পারে।
বর্তমান বিশ্বে মাইন্ডফুলনেস বা সচেতন জীবনযাপনের ধারণাটি বেশ জনপ্রিয়। অনেক বিশ্রাম কেন্দ্র, নিরাময় কেন্দ্র এমনকি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র এ ধারণাকে কেন্দ্র করেই তৈরি হয়েছে। কিন্তু ভুটান এবার সম্পূর্ণ একটি নগরী এ থিমে গড়ে তুলতে চাইছে। গিলেফুকে বেছে নেয়া হয়েছে এ প্রকল্পের জন্য, যেখানে নির্মাণ করা হচ্ছে এ অত্যাধুনিক বিমানবন্দর। ডেনমার্কের বিখ্যাত স্থাপত্য প্রতিষ্ঠান ‘বিয়ারকে ইংলস’ এ বিমানবন্দরের নকশা করেছে। এটি মূলত কাঠের তৈরি হীরকাকৃতির স্থাপনা, যা সহজেই সম্প্রসারণ বা সংস্কার করা যাবে। ইংলস এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, একটি বিমানবন্দরই হলো যেকোনো নগরীর প্রথম ও শেষ পরিচয়। তাই এটি বিশেষভাবে নকশা করা হয়েছে, যাতে এটি ভুটানের সুখ-সংস্কৃতির প্রতিফলন ঘটায়।
এ বিমানবন্দরের ডিজাইনে ভুটানের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও ঐতিহ্যকে প্রাধান্য দেয়া হয়েছে। কাঠের তৈরি গঠনগুলো দূর থেকে দেখতে পাহাড়ের মতো মনে হবে, যা ভুটানের হিমালয়ান ল্যান্ডস্কেপের সঙ্গে মিশে যাবে। এছাড়া বিমানবন্দরের নকশায় তিন ধরনের ড্রাগনের প্রতীক ব্যবহার করা হয়েছে, যা ভুটানের অতীত, বর্তমান ও ভবিষ্যৎকে প্রতিনিধিত্ব করে। ভুটান বিশ্বের প্রথম কার্বন-নেগেটিভ দেশ, এ বিমানবন্দরও সে ধারাবাহিকতা বজায় রাখবে। সৌরশক্তির মাধ্যমে এর বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হবে, যা পরিবেশবান্ধব ও টেকসই। বিমানবন্দরটি ৭ লাখ ৩১ হাজার ৯৪৬ বর্গফুট এলাকাজুড়ে বিস্তৃত হবে। প্রতিদিন ১২৩টি ফ্লাইট পরিচালনা করতে সক্ষম হবে। বছরে সর্বোচ্চ ১৩ লাখ যাত্রী এ বিমানবন্দর ব্যবহার করতে পারবেন। গিলেফু এরই মধ্যে একটি ছোট আভ্যন্তরীণ বিমানবন্দরের জন্য পরিচিত, তবে নতুন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরটি এখানে নির্মাণের পেছনে রয়েছে এর সমতল ভূমি ও কৌশলগত অবস্থান। ভারতের সীমান্তের কাছাকাছি হওয়ায় এটি ভুটানের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক ও কূটনৈতিক কেন্দ্র হয়ে উঠতে পারে। এছাড়া রেল ও সড়ক সংযোগের জন্য গিলেফু একটি আদর্শ স্থান। এখনো গিলেফু আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের উদ্বোধনের সুনির্দিষ্ট তারিখ ঘোষণা করা হয়নি। তবে এ বিমানবন্দর শুধু পরিবহন নয়, বরং ভুটানের সামগ্রিক ভবিষ্যৎ রূপান্তরের এক প্রতীক হয়ে উঠতে যাচ্ছে।
ক্যাটাগরিঃ অর্থনীতি
ট্যাগঃ
মন্তব্য করুন