ভারতে চালের রফতানি মূল্যে নিম্নমুখিতা অব্যাহত – The Finance BD
 ঢাকা     শনিবার, ০৫ এপ্রিল ২০২৫, ০২:৩২ পূর্বাহ্ন

ভারতে চালের রফতানি মূল্যে নিম্নমুখিতা অব্যাহত

  • ১৬/০৩/২০২৫

ভারতে চালের রফতানি মূল্য এখনো ২১ মাসের সর্বনিম্নে। এর পেছনে ভূমিকা রাখছে নিম্নমুখী চাহিদা ও অন্যান্য চাল রফতানিকারক দেশের সঙ্গে প্রতিযোগিতা বৃদ্ধি। এদিকে ভিয়েতনামে চলতি সপ্তাহে চালের দাম কিছুটা বেড়েছে। ভারতের ৫ শতাংশ খুদযুক্ত সেদ্ধ চালের দাম চলতি সপ্তাহে টনপ্রতি ৪০৩-৪১০ ডলার নির্ধারণ হয়েছে। গত সপ্তাহে এ পণ্য টনে ৪০৯-৪১৫ ডলারে বেচাকেনা হয়েছে।
এর আগে ভারত মজুদ কমাতে শতভাগ খুদযুক্ত চাল রফতানির অনুমতি দিয়েছে। খাতসংশ্লিষ্টরা জানান, শতভাগ খুদযুক্ত চাল রফতানির ফলে বিশ্বের বৃহত্তম চাল রফতানিকারক দেশ ভারতের অতিরিক্ত মজুদ কমবে। পাশাপাশি এটি আফ্রিকার দরিদ্র দেশগুলোর জন্য কম দামে চাল সরবরাহের সুযোগ তৈরি করবে। এছাড়া এশিয়ার পশুখাদ্য ও ইথানল উৎপাদনকারীরাও এ চাল ব্যবহার করতে পারবে। ভারতে ২০২২ সালে কম বৃষ্টিপাতের কারণে উৎপাদন সংকটের আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল। ফলে সে বছরের সেপ্টেম্বরে দেশটির সরকার শতভাগ খুদযুক্ত চাল রফতানি নিষিদ্ধ করে। ২০২৩ সালে অন্যান্য চাল রফতানির ওপরও বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়। পরবর্তী সময়ে রেকর্ড ফসল উৎপাদনের ফলে সরবরাহ পরিস্থিতি উন্নত হওয়ায় শতভাগ খুদযুক্ত ছাড়া অন্যান্য চাল রফতানির ওপর বিধিনিষেধ তুলে নেয়া হয়। ব্যবসায়ীদের মতে, ক্রেতারা বিকল্প সরবরাহকারীদের কাছ থেকে চাল কিনতে শুরু করেছে। এতে ভারতের চালের দামের ওপর চাপ তৈরি হয়েছে। নয়াদিল্লির এক গ্লোবাল ট্রেড হাউজের ডিলার বলেন, ‘‌তারা খুব কম দাম বলছেন। কারণ পাকিস্তান ও ভিয়েতনাম কম দামে চাল বিক্রি করছে।’ ভিয়েতনাম ফুড অ্যাসোসিয়েশনের দেয়া তথ্যানুযায়ী, বৃহস্পতিবার দেশটিতে ৫ শতাংশ খুদযুক্ত চালের দাম ছিল টনপ্রতি ৩৯২ ডলার, গত সপ্তাহে যা ছিল ৩৮৯ ডলার। এক ব্যবসায়ী জানান, ভিয়েতনামের মেকং ডেল্টা অঞ্চলের কৃষকরা তাদের শীত-বসন্ত মৌসুমের ফসলের প্রায় অর্ধেক সংগ্রহ করেছেন। তবে সরকারের চাল ক্রয় ও মজুদ পরিকল্পনার স্পষ্ট কোনো প্রভাব এখনো দেখা যাচ্ছে না। এদিকে থাইল্যান্ডেও চলতি সপ্তাহে নিম্নমুখী ছিল চালের দাম। দেশটিতে ৫ শতাংশ খুদযুক্ত চাল গত সপ্তাহের টনপ্রতি ৪১৫ ডলার থেকে কমে ৪০৫-৪০৮ ডলারে নেমে এসেছে। সংশ্লিষ্টরা জানান, মুদ্রার বিনিময় হার পরিবর্তনের কারণে চালের এমন দরপতন দেখা গেছে। ব্যাংককের এক ব্যবসায়ী বলেন, ‘ভিয়েতনাম ও ভারতের চালের দাম থাইল্যান্ডের তুলনায় অনেক কম। তাই পর্যাপ্ত সরবরাহ থাকলেও চাহিদা নিম্নমুখী।’
আরেক ব্যবসায়ী বলেন, ‘‌ভারত ও কম্বোডিয়ার মতো দেশগুলো থেকে নতুন চালের সরবরাহ বাড়ায় এ বছর থাইল্যান্ডের চালের চাহিদা আরো কমতে পারে। বিশেষ করে নিয়মিত গ্রাহকদের কাছ থেকে চাহিদা স্থিতিশীল থাকলেও মুদ্রার উত্থান-পতন চলমান থাকায় দাম টনপ্রতি ৪১০ ডলারের বেশি হবে না।’ এদিকে বাংলাদেশে আমদানি ও মজুদ বৃদ্ধির প্রচেষ্টা সত্ত্বেও চালের দাম এখনো বেশি। দেশে ভিয়েতনাম, মিয়ানমার ও পাকিস্তান থেকে সরকারের সঙ্গে চুক্তি ও আন্তর্জাতিক টেন্ডারের মাধ্যমে চাল ক্রয় করা হচ্ছে। খবর বিজনেস রেকর্ডার।

ক্যাটাগরিঃ অর্থনীতি

ট্যাগঃ

মন্তব্য করুন

Leave a Reply




Contact Us