প্রথমবারের মতো আউন্সে ৩ হাজার ডলার ছাড়িয়েছে স্বর্ণের দাম – The Finance BD
 ঢাকা     শনিবার, ০৫ এপ্রিল ২০২৫, ০২:৩১ পূর্বাহ্ন

প্রথমবারের মতো আউন্সে ৩ হাজার ডলার ছাড়িয়েছে স্বর্ণের দাম

  • ১৬/০৩/২০২৫

আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দাম প্রথমবারের মতো আউন্সপ্রতি ৩ হাজার ডলার ছাড়িয়েছে। ভূরাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার কারণে ব্যবসায়ীরা স্বর্ণের মতো পণ্যে আপৎকালীন বিনিয়োগের দিকে ঝুঁকছেন। খবর রয়টার্স।
স্পট মার্কেটে সাপ্তাহিক লেনদেনের শেষদিন শুক্রবার প্রতি আউন্স স্বর্ণের দাম ৩ হাজার ৪ ডলার ৮৬ সেন্টে পৌঁছায়। এটি চলতি বছর ১৩তম বারের মতো রেকর্ড সর্বোচ্চ। ২০২৪ সালে মূল্যবান ধাতুটির দাম ২৭ শতাংশ বৃদ্ধির পর চলতি বছরের এখন পর্যন্ত তা ১৪ শতাংশ বেড়েছে।
বহুজাতিক ব্যাংক ও আর্থিক পরিষেবা প্রতিষ্ঠান স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ডের বিশ্লেষক সুকি কুপার বলেন, ‘কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর ক্রমাগত স্বর্ণ কেনার কারণে বাজারে চাহিদা বাড়ছে। ভূরাজনৈতিক অনিশ্চয়তা ও শুল্ক আরোপ নিয়ে সিদ্ধান্ত পরিবর্তনের মধ্যে মূল্যবান ধাতুটির প্রতি বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ ঊর্ধ্বমুখী থাকছে।’
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সুরক্ষামূলক বাণিজ্য নীতি বৈশ্বিক বাজার অস্থিতিশীল করে তুলেছে। কানাডাভিত্তিক বিনিয়োগ ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠান স্প্রট অ্যাসেট ম্যানেজমেন্টের সিইও জন সিয়াম্পাগলিয়া বলেন, ‘ইকুইটি বাজারে বিক্রির চাপ ও রাজনৈতিক ঝুঁকি বাড়ার কারণে পশ্চিমা বিনিয়োগকারীরা আবার স্বর্ণে ফিরছে। এটি দাম আরো উচ্চমাত্রায় নিয়ে যেতে পারে।’ তিনি আরো বলেন, ‘স্বর্ণকে আমরা একটি ‘‘বীমা নীতি’’ এবং কঠিন বাজার পরিস্থিতিতে আর্থিক প্রবাহের একটি নির্ভরযোগ্য উৎস হিসেবে বিবেচনা করি।’
উল্লেখ্য, শুল্ক বৃদ্ধি মূল্যস্ফীতি ও বাণিজ্য উত্তেজনা বাড়িয়ে তোলে। ফলে ব্যবসায়ীরা স্বর্ণ খাতে বিনিয়োগ বাড়াতে থাকে। এদিকে নিউইয়র্কের অনুমোদিত ওয়্যারহাউজে স্বর্ণের মজুদ ৪ কোটি ৫ লাখ ৬০ হাজার আউন্সের রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছেছে। কারণ ব্যবসায়ীরা শুল্ক অনিশ্চয়তার মধ্যে তাদের অবস্থান সুরক্ষিত করতে তৎপর। তবে সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোয় স্বর্ণের অন্তর্মুখী প্রবাহ কিছুটা ধীর হয়েছে। বাজার বিশ্লেষকরা জানান, সাম্প্রতিক সময়ে স্বর্ণের দামের ওঠানামার অন্যতম কারণ মার্কিন কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভের (ফেড) সুদহার নীতি। বিনিয়োগকারীরা বর্তমানে ফেডের সুদহার কমানোর বিষয়ে আগের তুলনায় বেশি আশাবাদী। বাজার প্রত্যাশা অনুযায়ী, ২০২৫ সালে তিন দফায় শূন্য দশমিক ২৫ শতাংশ হারে সুদহার কমানো হতে পারে। ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বর থেকে ফেড এরই মধ্যে ১০০ শতাংশীয় পয়েন্ট সুদহার কমিয়েছে। বাজারসংশ্লিষ্টদের ধারণা অনুযায়ী, জুনে ফের সুদহার কমানো শুরু হতে পারে।
বিশ্বব্যাপী বিনিয়োগকারীদের স্বর্ণ কেনার প্রবণতা বাড়ছে। ওয়ার্ল্ড গোল্ড কাউন্সিলের তথ্যানুযায়ী, ফেব্রুয়ারিতে স্বর্ণ-সমর্থিত এক্সচেঞ্জ-ট্রেডেড ফান্ডগুলোয় (ইটিএফ) ২০২২ সালের মার্চের পর সর্বোচ্চ সাপ্তাহিক প্রবাহ রেকর্ড করা হয়েছে। এছাড়া বিশ্লেষকদের মতে, ২০২৫ সালে কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোয় স্বর্ণের চাহিদা আরো বাড়তে পারে। ফ্র্যাঙ্কলিন টেম্পলটনের গ্লোবাল ইনডেক্স পোর্টফোলিও ম্যানেজমেন্টের প্রধান দিনা টিং বলেন, ‘কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলো শুধু ডলারের বিপরীতে সুরক্ষা পেতে নয় বরং তাদের মুদ্রাকে স্বর্ণের সঙ্গে সংযুক্ত করতেও ক্রয় বাড়াতে পারে। অস্ট্রেলিয়াভিত্তিক আর্থিক সেবা প্রতিষ্ঠান ম্যাককয়ার জানায়, যুক্তরাষ্ট্রের বাজেট ঘাটতির উন্নতি না হলে স্বর্ণের মূল্য আউন্সপ্রতি ৩ হাজার ৫০০ ডলার পর্যন্ত পৌঁছতে পারে। গোল্ডম্যান স্যাকস এরই মধ্যে তাদের ২০২৫ সালের স্বর্ণের মূল্য লক্ষ্যমাত্রা বাড়িয়ে আউন্সে ৩ হাজার ১০০ ডলার করেছে।

ক্যাটাগরিঃ অর্থনীতি

ট্যাগঃ

মন্তব্য করুন

Leave a Reply




Contact Us