এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) খাতে ব্যয় চলতি বছরে ১ দশমিক ৪ ট্রিলিয়ন ডলারে পৌঁছবে, যা ২০২৮ সাল পর্যন্ত প্রতি বছর ৫ দশমিক ৮ শতাংশ হারে বাড়বে।
এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) খাতে ব্যয় চলতি বছরে ১ দশমিক ৪ ট্রিলিয়ন ডলারে পৌঁছবে, যা ২০২৮ সাল পর্যন্ত প্রতি বছর ৫ দশমিক ৮ শতাংশ হারে বাড়বে। বৈশ্বিক বাজার গবেষণা ও পর্যবেক্ষণ প্রতিষ্ঠান ইন্টারন্যাশনাল ডাটা করপোরেশনের (আইডিসি) প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে। সেখানে বলা হচ্ছে, স্পষ্টত লাভবান হওয়া যাবে ও ভবিষ্যতের অনিশ্চয়তার বিরুদ্ধে স্থিতিশীলতা গড়ে তোলা যাবে, এমন বিনিয়োগকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে খাতটি।
এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলের ব্যবসাগুলো অর্থনৈতিক পরিবর্তনের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিতে তাদের প্রযুক্তি কৌশল সমন্বয় করছে। দ্রুত সম্প্রসারণের পরিবর্তে তারা বর্তমানে প্রযুক্তিকে আরো কার্যকর ও কৌশলগতভাবে ব্যবহার করার ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে। তবে আইসিটি খাতে ব্যয় এখনো শক্তিশালী অবস্থায় রয়েছে।
আইডিসির সহযোগী গবেষণা ব্যবস্থাপক মারিও অ্যালেন ক্লিমেন্ট বলেন, ‘এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলের ব্যবসাগুলো প্রযুক্তি গ্রহণের নতুন এক পর্যায়ে প্রবেশ করছে। ব্যবসাগুলো এখন আর শুধু নতুন প্রযুক্তি কেনার দিকে মনোযোগ দিচ্ছে না। বরং সেগুলো নির্দিষ্ট সমস্যা সমাধান ও স্পষ্ট ফলাফল অর্জনের জন্য প্রযুক্তিকে কৌশলগতভাবে ব্যবহার করছে। উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি ও গ্রাহক অভিজ্ঞতা উন্নত করার জন্য বাস্তবসম্মত বিনিয়োগের ওপর বেশি গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে।’
এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলের আইসিটি খাতের খরচের প্রায় ৮০ শতাংশ আসে শীর্ষ ১০টি দ্রুত-বর্ধনশীল শিল্প থেকে। ব্যবসাগুলো ডিজিটাল রূপান্তর, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) বাস্তবায়ন ও সাইবার নিরাপত্তা শক্তিশালীকরণের মাধ্যমে আইসিটি খাতে বিনিয়োগ করছে, যাতে তারা প্রযুক্তিগতভাবে উন্নত ও প্রতিযোগিতামূলক থাকতে পারে।
বাণিজ্য নিষেধাজ্ঞা, বৈশ্বিক উত্তেজনা ও সাইবার নিরাপত্তা ঝুঁকির মতো চ্যালেঞ্জ থাকা সত্ত্বেও প্রতিষ্ঠানগুলো প্রযুক্তিগত সক্ষমতা ও ডিজিটাল দক্ষতা শক্তিশালীকরণের ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে। তাদের লক্ষ্য হলো কার্যকারিতা বৃদ্ধি, গ্রাহক অভিজ্ঞতা উন্নতি করা ও দ্রুত পরিবর্তনশীল ডিজিটাল বিশ্বে প্রতিযোগিতামূলক থাকা।
গত ছয় মাসে এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলে আইসিটি খাতে সব ধরনের ব্যবসায় ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। বড় প্রতিষ্ঠানগুলো উদ্ভাবন ও কার্যকারিতা বাড়াতে মনোযোগ দিচ্ছে। অন্যদিকে পরিচালনা প্রসার ও দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণে মাঝারি ব্যবসাগুলো ডাটা অ্যানালিটিকস, এআই ও মেশিন লার্নিংয়ে বিনিয়োগ করছে।
ছোট বিনিয়োগে পরিচালিত ব্যবসাগুলোও আইসিটি খাতে ব্যয় বাড়াচ্ছে। মূলত তারা সাশ্রয়ী ও সম্প্রসারণযোগ্য সরঞ্জামগুলোর ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে। আইসিটিতে বিনিয়োগ বাড়ানোর এ প্রবণতা সব ধরনের ব্যবসার মধ্যে চালু থাকবে বলে আশা করছে খাতসংশ্লিষ্টরা।
আইডিসির ওয়ার্ল্ডওয়াইড আইসিটি স্পেন্ডিং গাইড ৫৩টি দেশে ১০০টির বেশি প্রযুক্তি বিভাগের আইটি ব্যয় পর্যবেক্ষণ করে। এটি বিভিন্ন আকারের ব্যবসা ও শিল্প খাতে প্রযুক্তিতে বিনিয়োগের বিস্তারিত বিশ্লেষণ প্রদান করে। ডাটাবেজটি পিভট টেবিল ফরম্যাট বা আইডিসির কুয়েরি টুলের মাধ্যমে ব্যবহার করা যাবে, যার সাহায্যে ব্যবহারকারীদের ৩০ লাখ ডাটা পয়েন্টের মধ্য থেকে খাতসংশ্লিষ্ট প্রবণতা, সম্পর্ক ও তুলনা বিশ্লেষণ করতে সাহায্য করবে।
ক্যাটাগরিঃ অর্থনীতি
ট্যাগঃ
মন্তব্য করুন