সুদজায় রাশিয়ার একটি প্রধান গ্যাস সঞ্চালন ও পরিমাপক স্টেশন রয়েছে। এই পাইপলাইন দিয়েই আগে রাশিয়া থেকে গ্যাস ইউক্রেন হয়ে ইউরোপে রপ্তানি করা হতো।
স্পেশাল ফোর্সখ্যাত বিশেষ বাহিনীগুলো সবচেয়ে দুঃসাহসীদের নিয়েই গঠন করা হয়। দুঃসাহসী হিসেবে বিশেষ খ্যাতিও আছে রাশিয়ার বিভিন্ন স্পেশাল ফোর্সের। এবার তেমনই আরেক গোপন আক্রমণে অংশ নিয়েছে তারা। গ্যাস সরবরাহের একটি মূল পাইপলাইনের ভেতর দিয়ে তারা সুদজা শহরের কাছে ইউক্রেনীয় সেনাদের ওপর অতর্কিত হামলা করেছে।
রাশিয়ার সামরিক ব্লগারদের বরাত দিয়ে বার্তাসংস্থা রয়টার্স যা জানিয়েছে। ব্লগাররা জানান, পশ্চিম রাশিয়ার কুর্স্ক অঞ্চল থেকে ইউক্রেনীয় সেনাদের বিতাড়িত করতে একটি বড় আক্রমণ অভিযান চালানো হচ্ছে, তারই অংশ ছিল এটি।
ইউক্রেনীয় বংশদ্ভুত তবে রাশিয়াপন্থী সামরিক ব্লগার ইউরি পোডলিকা জানান, গ্যাস সরবরাহের একটি মূল পাইপলাইনের ভেতর দিয়ে অনেক মাইল হেঁটে হেঁটে যান রুশ স্পেশাল ফোর্সের কমান্ডোরা। তাঁদের অনেকে পাইপলাইনের মধ্যে কয়েকদিন পর্যন্ত কাটিয়েছে। এভাবে অগ্রসর হয়ে তাঁরা সুদজার কাছাকাছি পৌঁছায়, এবং পেছন দিক দিয়ে এসে ইউক্রেনীয় সেনাদের ওপর আকস্মিক হামলা চালায়।
সুদজা্য রাশিয়ার একটি প্রধান গ্যাস সঞ্চালন ও পরিমাপক স্টেশন রয়েছে। এই পাইপলাইন দিয়েই আগে রাশিয়া থেকে গ্যাস ইউক্রেন হয়ে ইউরোপে রপ্তানি করা হতো। গত বছরের আগস্টে হাজার হাজার ইউক্রেনীয় সেনা রাশিয়ার কুর্স্ক অঞ্চলের ১,৩০০ কিলোমিটার এলাকা এক ঝটিকা আক্রমণ চালিয়ে দখল করে। ইউক্রেনের উদ্দেশ্য ছিল, ভবিষ্যতে শান্তি আলোচনার সময় দর কষাকষিতে এই ভূখণ্ডের দখলকে কাজে লাগানোর। একইসঙ্গে, রুশ বাহিনীকে ইউক্রেনের পূর্ব রণাঙ্গনে ব্যতিব্যস্ত রাখা।
কিন্তু, গত এক বছরে কুর্স্কের বেশিরভাগ এলাকার দখলমুক্ত করেছে রুশ বাহিনী। এমনকী সাম্প্রতিক সময়ে ইউক্রেনীয়দের কোণঠাসা করে ফেলেছে তারা কুর্স্কে। গতকাল শুক্রবার রয়টার্সের আরেক প্রতিবেদন জানায়, সেখানে ইউক্রেনীয় সেনাদের প্রায় ঘেরাও করে ফেলেছে রুশরা। খুবই দ্রুত তারা আরও সামনে এগোচ্ছে।
এদিকে ডোনাল্ড ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়ার পর ইউক্রেনকে দেওয়া সামরিক সহায়তা সম্প্রতি বন্ধ করেছেন। গোয়েন্দা তথ্য প্রদানও বন্ধ রাখা হয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ এসব সহায়তার ওপর অনেকাংশে নির্ভর করতো ইউক্রেনের যুদ্ধ প্রচেষ্টা। এতে সেনাদের মনোবলের ওপরও প্রভাব পড়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
ট্রাম্পের এই সিদ্ধান্তের ফলে, ইউক্রেন যুদ্ধে শোচনীয়ভাবে পরাজিত হবে এমন আশঙ্কা দানা বাঁধছে ইউরোপের নেতাদের মাঝে। ট্রাম্পের নেতৃত্বে যুক্তরাষ্ট্র ন্যাটোর থেকে বেরিয়ে যাবে এমন উৎকণ্ঠাও রয়েছে।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি একটি খনিজ চুক্তির জন্য হোয়াইট হাউসে যান ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদমির জেলেনস্কি। কিন্তু সেখানে বিশ্ব গণমাধ্যমের সামনেই তাঁর সাথে তুমুল বিতর্কে লিপ্ত হন ডোনাল্ড ট্রাম্প ও তার ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। ওই ঘটনার পরে ইউক্রেনকে গোয়েন্দা তথ্য প্রদানও বন্ধ করা হয়।
ক্যাটাগরিঃ অর্থনীতি
ট্যাগঃ
মন্তব্য করুন