বিদেশি সাহায্যের পতন: সংকট নাকি সুযোগ? – The Finance BD
 ঢাকা     শনিবার, ০৫ এপ্রিল ২০২৫, ০৬:১৮ পূর্বাহ্ন

বিদেশি সাহায্যের পতন: সংকট নাকি সুযোগ?

  • ০৯/০৩/২০২৫

যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান উন্নয়ন সহায়তা সংস্থা ইউএসএআইডি বন্ধের পরিকল্পনা করেছে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন। এর আগে সংস্থাটিকে ‘অপরাধী সংগঠন’ এবং ‘উগ্রপন্থিদের পরিচালিত’ বলে অভিহিত করেছিলেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এবং তার সহযোগী ইলন মাস্ক। শুধু যুক্তরাষ্ট্র নয়, অন্য পশ্চিমা দাতারাও ধাপে ধাপে উন্নয়ন সহায়তা কমাচ্ছে। যুক্তরাজ্য তার সহায়তা বাজেট ৪০ শতাংশ কমিয়েছে। ফ্রান্সও সহায়তা বাজেটে বড় ধরনের কাটছাঁটের পরিকল্পনা করেছে।
গত ছয় দশকে ধনী দেশগুলো উন্নয়ন সহায়তার মাধ্যমে গরিব দেশগুলোর জীবনমান উন্নত করতে চেয়েছে। ২০২৩ সালে বৈশ্বিক সহায়তার পরিমাণ ২৫০ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়েছে। তবে এর সুফল মিশ্র। স্বাস্থ্য খাতের উন্নয়ন, শিশু মৃত্যুহার হ্রাস, এইডস চিকিৎসায় সাফল্য অর্জিত হলেও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির ক্ষেত্রে তেমন উন্নতি দেখা যায়নি। আফ্রিকার বাস্তবতা বলছে, গত ৩০ বছরে প্রকৃত আয় খুব সামান্য বৃদ্ধি পেয়েছে, উৎপাদনশীলতাও তেমন বাড়েনি।
মূলত উন্নয়ন সহায়তার বড় একটি অংশ শিল্প ও অবকাঠামো উন্নয়নে ব্যয় করা হয়, যা প্রত্যাশিত প্রবৃদ্ধি আনতে পারেনি। তদুপরি, অনেক ক্ষেত্রে এই সহায়তা স্থানীয় ক্ষমতাসীনদের অপচয়মূলক ব্যয় বৃদ্ধি করেছে। কিছু দেশ নিজেদের উন্নয়নের জন্য দাতাদের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে, যেমন- মালাওয়ির মতো দেশগুলোতে সরকারি ব্যয়ের চেয়ে সাহায্য সংস্থার ব্যয় বেশি।
নতুন বাস্তবতার সামনে বিশ্ব
পশ্চিমা দেশগুলো তাদের অভ্যন্তরীণ চাহিদা, নিরাপত্তা ব্যয় এবং অর্থনৈতিক সীমাবদ্ধতার কারণে বিদেশি সাহায্য কমাচ্ছে। ইউক্রেনকে সহায়তা ও প্রতিরক্ষা খাতে ব্যয় বৃদ্ধির চাপ থাকায় ইউরোপীয় দেশগুলোও ব্যয় সংকোচনের দিকে যাচ্ছে। ফলে দরিদ্র দেশগুলোকে নিজেদের অর্থনীতির দায়িত্ব নিতে হবে এবং উন্নয়নের পথ নিজেরাই খুঁজে নিতে হবে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যে প্রকল্পগুলো বাস্তবিক উন্নতি আনতে ব্যর্থ, সেগুলো বাতিল করে স্বাস্থ্য ও মানবিক সহায়তায় বেশি গুরুত্ব দেওয়া দরকার। যেমন- মহামারি প্রতিরোধ, জলবায়ু পরিবর্তনের বিরুদ্ধে প্রস্তুতি এবং জরুরি পরিস্থিতিতে সহায়তা প্রদান।
ট্রাম্প প্রশাসনের নীতিগুলো পরিকল্পিত নয়, বরং তা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে মনে করা হচ্ছে। চীন ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের মতো দেশগুলো পশ্চিমা সহায়তার এই শূন্যস্থান পূরণ করবে কি না, তা অনিশ্চিত। তবে স্পষ্টতই দরিদ্র দেশগুলোর জন্য বিদেশি সাহায্যের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরশীল থাকার দিন শেষ। এখন তাদের উচিত প্রশাসনিক দক্ষতা বাড়ানো, দুর্নীতি রোধ করা এবং আত্মনির্ভরশীল অর্থনৈতিক নীতি গ্রহণ করা।
সূত্র : দ্য ইকোনমিস্ট

ক্যাটাগরিঃ অর্থনীতি

ট্যাগঃ

মন্তব্য করুন

Leave a Reply




Contact Us