নতুন নিয়ম অর্থনীতির আনুমানিক আকার ২ থেকে ৩ শতাংশ বাড়িয়ে দিতে পারে, যা যুক্তরাজ্যের মতো দেশগুলোর প্রতিরক্ষা ও আন্তর্জাতিক সাহায্য খাতে ব্যয় বাড়াতে পারে।
জাতিসংঘের অনুমোদিত নতুন নিয়ম অনুযায়ী, প্রথমবারের মতো দেশগুলোর অর্থনৈতিক হিসাব-নিকাশে বায়ু ও তরঙ্গ শক্তি অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে। এর আগে কেবল তেলক্ষেত্রের মতো সম্পদগুলো এই হিসাবের অংশ ছিল। খবর বিবিসির। ২০০৮ সালের পর এই প্রথম নিয়ম পরিবর্তন করা হলো, যেখানে প্রাকৃতিক সম্পদের ব্যবহারজনিত ব্যয় এবং তথ্যের মূল্য অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। নতুন নিয়ম ২০৩০ সালে কার্যকর হবে। এর ফলে যুক্তরাজ্যের মতো দেশের অর্থনীতির আনুমানিক আকার বৃদ্ধি পেতে পারে, যা সরকারের জন্য নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারে।
বায়ু ও তরঙ্গ শক্তির অর্থনৈতিক মূল্য নির্ধারণ করা হবে সংশ্লিষ্ট দেশের টারবাইন থেকে উৎপাদিত মোট বিদ্যুতের বাজারমূল্যের ভিত্তিতে। এছাড়া, তথ্যকে স্বাধীন সম্পদ হিসেবে গণ্য করা হবে, যা এখন পর্যন্ত শুধু সার্ভার বা কেবল সংযোগের মতো অবকাঠামোর মাধ্যমে পরোক্ষভাবে মূল্যায়িত হতো।
নতুন নিয়ম অর্থনীতির আনুমানিক আকার ২ থেকে ৩ শতাংশ বাড়িয়ে দিতে পারে, যা যুক্তরাজ্যের মতো দেশগুলোর প্রতিরক্ষা ও আন্তর্জাতিক সাহায্য খাতে ব্যয় বাড়াতে পারে।
যেমন, লেবার পার্টি অর্থনীতির নির্দিষ্ট অনুপাতে প্রতিরক্ষা ও সাহায্য খাতে ব্যয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। নতুন নিয়মে অর্থনীতির পরিমাণ বাড়লে প্রতিরক্ষা বাজেটে বাড়তি ২ বিলিয়ন পাউন্ড যুক্ত হতে পারে।
বিশেষজ্ঞরা এই পরিবর্তনকে শুধুমাত্র ‘হিসাব পরিবর্তন’ হিসেবে দেখছেন, বাস্তবে কোনো নতুন সম্পদ সৃষ্টি হচ্ছে না। ক্যামব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ডায়ান কয়েল এটিকে ‘সামান্য পরিবর্তন, পূর্ণাঙ্গ পুনর্লিখন নয়’ বলে উল্লেখ করেছেন।
যুক্তরাজ্যের ইনস্টিটিউট ফর ফিসকাল স্টাডিজের বিশ্লেষক বেন জারাঙ্কো জানান, এটি প্রকৃত কোনো পরিবর্তন নয়, বরং অর্থনৈতিক পরিমাপের একটি নতুন পদ্ধতি। কর রাজস্ব বাড়বে না, বরং অর্থনীতির আনুমানিক আকার বড় দেখানো হবে।
তবে এই পরিবর্তন এখনই যুক্তরাজ্যের অর্থনীতিতে কোনো প্রভাব ফেলবে না। কারণ, সরকারি ব্যয়ের ওপর নজরদারি করা সংস্থা অফিস ফর বাজেট রেসপনসিবিলিটি আগামী মার্চে সরকারের আর্থিক পরিস্থিতি বিশ্লেষণে নতুন নিয়মের প্রভাব অন্তর্ভুক্ত করবে না। অর্থাৎ, আপাতত নয়, বরং ভবিষ্যতে এটি যুক্তরাজ্যের অর্থনৈতিক পরিকল্পনার জন্য চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠতে পারে।
ক্যাটাগরিঃ অর্থনীতি
ট্যাগঃ
মন্তব্য করুন