বিশ্বব্যাপী কফি বাণিজ্যে ধস, মূল্যবৃদ্ধির ধাক্কায় সংকটে শিল্প – The Finance BD
 ঢাকা     শনিবার, ০৫ এপ্রিল ২০২৫, ০৬:৩০ পূর্বাহ্ন

বিশ্বব্যাপী কফি বাণিজ্যে ধস, মূল্যবৃদ্ধির ধাক্কায় সংকটে শিল্প

  • ০৮/০৩/২০২৫

মূলত ব্রাজিলসহ প্রধান উৎপাদক দেশগুলোর উৎপাদন কমে যাওয়ায় কফির সরবরাহ সংকুচিত হয়েছে। এক কফি ব্রোকার জানান, ব্যবসায়ীরা এখন ভবিষ্যতের জন্য কফি কিনতে চাইছে না, বরং শুধুমাত্র প্রয়োজন অনুযায়ী অল্প পরিমাণে কিনছে। চরম মূল্যবৃদ্ধির কারণে বিশ্বব্যাপী কফি ব্যবসায়ীরা কফি কেনা কমিয়ে দিয়েছে। এর ফলে প্রায় স্থবির হয়ে গেছে কফির বাজার। যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল কফি অ্যাসোসিয়েশনের বার্ষিক সম্মেলনে অংশগ্রহণকারীরা জানান, নভেম্বরের পর থেকে অ্যারাবিকা কফির দাম ৭০ শতাংশ বেড়েছে, যা ব্যবসায়ীদের জন্য সৃষ্টি করেছে বিশাল চ্যালেঞ্জ।
ইকুয়েডরের এলকাফে সি.এ.-এর মহাপরিচালক রেনান চুয়েরি বলেন, এ বছর প্রথমবারের মতো আমাদের প্রতিষ্ঠান মার্চ মাসের মধ্যেই পুরো বছরের জন্য নির্ধারিত কফি বিক্রি করতে পারেনি। সাধারণত এই সময়ের মধ্যেই আমরা পুরো উৎপাদন বিক্রি করে ফেলি, কিন্তু এখন পর্যন্ত মাত্র ৩০ শতাংশ বিক্রি হয়েছে।
তিনি আরো জানান, কফির দাম এতটা বেড়ে যাওয়ায় অনেক ক্রেতাই কফি কিনছেন না। ব্যবসায়ীরা একসঙ্গে প্রচুর পরিমাণ কফি কিনতে পারছেন না, কারণ তাদের কাছে পর্যাপ্ত অর্থ নেই। মূলত ব্রাজিলসহ প্রধান উৎপাদক দেশগুলোর উৎপাদন কমে যাওয়ায় কফির সরবরাহ সংকুচিত হয়েছে। এক কফি ব্রোকার জানান, ব্যবসায়ীরা এখন ভবিষ্যতের জন্য কফি কিনতে চাইছে না, বরং শুধুমাত্র প্রয়োজন অনুযায়ী অল্প পরিমাণে কিনছে।
তিনি আরো বলেন, ব্রাজিলে সাম্প্রতিক কফি সংক্রান্ত চুক্তিগুলো অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে সম্পন্ন হচ্ছে। তিনি বলেন, আপনি যদি চুক্তি করেন তাহলে সাত দিনের মধ্যে আপনাকে খামার বা গুদামে গিয়ে কফির গুণমান যাচাই করতে হবে। যদি কফির মান ঠিকঠাক হয় তখনই আপনি সরাসরি অর্থ দেবেন এবং আপনার কফি নিয়ে চলে যাবেন।
বিশ্লেষকরা বলছেন, উচ্চ মূল্যের কারণে চাহিদা কমতে পারে এবং ২০২৫ সালে ব্রাজিলে ভালো উৎপাদন হলে দাম ৩০ শতাংশ কমে যেতে পারে। তবে ততদিন কফি শিল্পকে কঠিন সময় পার করতে হবে। এক মার্কিন কফি রোস্টিং কোম্পানির সিইও জানান, কফির উচ্চমূল্যে টিকে থাকা নিয়ে শঙ্কায় রয়েছে অনেক ব্যবসায়ী। সুপারমার্কেট ও খুচরা বিক্রেতারা বেশি দামে কফি কিনতে চাইছে না। ফলে দোকানে কফির সরবরাহ কমে যাচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান বন্দরগুলোর কফি গুদামেও অর্ধেকের মতো মজুত কমে গেছে। ফলে কিছু গুদাম ভাড়ার চুক্তি বাতিল করতে বাধ্য হচ্ছে। বিশ্বের শীর্ষ কফি উৎপাদক দেশগুলোর মধ্যে ভারত, উগান্ডা, ইথিওপিয়া ও ব্রাজিল কফি উৎপাদন বাড়ানোর চেষ্টা করছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, ব্রাজিলে বড় পরিসরে কফির উৎপাদন হলে এর দাম উল্লেখযোগ্যভাবে কমতে পারে।
খবর রয়টার্স।

ক্যাটাগরিঃ অর্থনীতি

ট্যাগঃ

মন্তব্য করুন

Leave a Reply




Contact Us