কয়েকদিনের মধ্যেই চুক্তি নিয়ে অগ্রগতির সম্ভাবনা রয়েছে। ইউক্রেন ও যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তারা সৌদি আরবে বৈঠক করতে পারেন।
ইউরোপীয় কর্মকর্তাদের জানানো হয়েছে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রস্তাবিত যুক্তরাষ্ট্র-ইউক্রেন খনিজ চুক্তিকে রাশিয়ার সঙ্গে কিয়েভের দ্রুত যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হওয়ার শর্তের সঙ্গে যুক্ত করতে চান। বিষয়টি সম্পর্কে অবগত ব্যক্তিদের বরাতে এই তথ্য জানা গেছে।
ওয়াশিংটন ইঙ্গিত দিয়েছে, ট্রাম্প প্রাকৃতিক সম্পদ সংক্রান্ত এই চুক্তি চূড়ান্ত করতে প্রস্তুত, যা গত সপ্তাহে ওভাল অফিসে ভলোদিমির জেলেনস্কির সঙ্গে তার মতবিরোধের পর থেকে স্থগিত রয়েছে।
তবে ইউক্রেনীয় নেতা যদি মস্কোর সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে একটি স্পষ্ট যুদ্ধবিরতির পথ তৈরি করতে রাজি হন, তাহলেই এই চুক্তি সম্পন্ন হবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।
অতিরিক্ত সেই শর্তগুলোই অর্থনৈতিক সহযোগিতা চুক্তি স্বাক্ষরের পথে প্রধান অন্তরায় হয়ে দাঁড়িয়েছে, যদিও উভয় পক্ষ (ট্রাম্প এবং জেলেনস্কি) প্রকাশ্যে চুক্তি সম্পাদনের আগ্রহ প্রকাশ করেছে। বিষয়টি নিয়ে গোপন আলোচনার ব্যাপারে জানেন এমন কয়েকজন নাম প্রকাশ না করার শর্তে এ কথা জানিয়েছেন।
কয়েকদিনের মধ্যেই চুক্তি নিয়ে অগ্রগতির সম্ভাবনা রয়েছে। ইউক্রেন ও যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তারা সৌদি আরবে বৈঠক করতে পারেন। সেখানে আগামী সপ্তাহে জেলেনস্কির সফরে যাওয়ার কথা রয়েছে। তবে অন্য কিছু সূত্র সতর্ক করে জানিয়েছে, ট্রাম্প প্রায়ই তার মত পরিবর্তন করেন, ফলে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থানও পরিবর্তিত হতে পারে। হোয়াইট হাউজ এ বিষয়ে কোনো মন্তব্যের অনুরোধে সাড়া দেয়নি।
ট্রাম্প প্রশাসনের কয়েকজন কর্মকর্তা সম্প্রতি বলেছেন, গুরুত্বপূর্ণ খনিজসম্পদ চুক্তি ইউক্রেনে শান্তির জন্য মার্কিন প্রেসিডেন্টের পরিকল্পনার একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান এবং একটি পদক্ষেপ। বৃহস্পতিবার ব্রাসেলসে ইউরোপীয় ইউনিয়নের নেতাদের সঙ্গে বৈঠকে জেলেনস্কি বলেছেন, ‘ইউক্রেন ও আমেরিকা আবারও একসঙ্গে কাজ শুরু করেছে। আমরা আশা করছি, আগামী সপ্তাহে আমাদের একটি অর্থবহ বৈঠক হবে।’
রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন আক্রমণ বন্ধে সম্মত হতে প্রস্তুত কিনা, তার কোনো ইঙ্গিত নেই। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রও মস্কোকে কোনো সমঝোতার জন্য চাপ দিচ্ছে না, জেলেনস্কিকে জানানো দাবির পুরোপুরি বিপরীত। যেকোনো যুদ্ধবিরতি রাশিয়া এবং ইউক্রেন, উভয়ের সম্মতি প্রয়োজন। তবেই যুদ্ধ থামানো সম্ভব হবে।
সম্প্রতি, ইউক্রেনের প্রধানমন্ত্রী জেলেনস্কির ওপর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র প্রচণ্ড চাপ তৈরি করেছে। তারা ইতোমধ্যেই ইউক্রেনে সামরিক সহায়তা স্থগিত করেছে এবং গোয়েন্দা তথ্য আদান-প্রদান বন্ধ করেছে।
ইউরোপীয় কর্মকর্তারা বলেছেন, এই পদক্ষেপটি ইউক্রেনের নেতাকে ট্রাম্পের লক্ষ্য অনুসরণ করতে রাজি করানোর জন্য নেওয়া হয়েছে। মার্কিন জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা মাইক ওয়াল্টজ ফক্স নিউজকে বলেছেন, যদি পক্ষগুলো ‘এই আলোচনার দিকে এগিয়ে যেতে পারে এবং বাস্তবে কিছু আস্থা তৈরি করার ব্যবস্থা টেবিলে রাখে, তাহলে প্রেসিডেন্ট এই বিরতি তুলে নেওয়ার বিষয়টি গভীরভাবে পর্যালোচনা করবেন।’
ট্রাম্পের ইউক্রেন বিষয়ক বিশেষ দূত কিথ কেলোগ বলেন, জেলেনস্কিকে সতর্ক করা হয়েছিল, ইউক্রেন যদি আরও আলোচনায় সাড়া না দেয় তাহলে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সহায়তা এবং গোয়েন্দা তথ্য বন্ধ করবে। গোয়েন্দা তথ্য বন্ধ করার সিদ্ধান্ত একটি ব্যতিক্রমী পদক্ষেপ, যা আমেরিকা ও ইউরোপের বর্তমান ও সাবেক কর্মকর্তাদের মতে ট্রান্সআটলান্টিক সম্পর্কের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে।
ইউক্রেন মিত্রদের গোয়েন্দা তথ্যের ওপর নির্ভর করে, যা রুশ আক্রমণ থেকে সতর্কতা এবং সামরিক লক্ষ্য চিহ্নিত করতে সহায়ক। সিআইএ’র সাবেক পরিচালক জন ব্রেনান এই পদক্ষেপটিকে ‘চাপ তৈরি এবং জোর-জবরদস্তি’ হিসেবে বর্ণনা করে বলেছেন, ‘আমার সময়ে কখনোই রাজনৈতিক কারণে গোয়েন্দা তথ্য বন্ধ করা হয়নি।’
ইউক্রেনের প্রতি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের দাবির পাশাপাশি, রাশিয়ার সঙ্গেও আলোচনা চলছে। তবে মস্কোর ওপর কোনো চাপ দেওয়া হচ্ছে কিনা, তা স্পষ্ট নয়। ট্রাম্প প্রশাসন বলেছে, যেকোনো যুদ্ধবিরতি চুক্তিতে ইউক্রেনকে আঞ্চলিক ছাড় দিতে হবে এবং ন্যাটো সদস্যপদের আশা বাদ দিতে হবে। ইউক্রেনকে নিরাপত্তা নিশ্চয়তা দেওয়া হবে কিনা, তাও অনিশ্চিত। কিছু ইউরোপীয় কর্মকর্তা বলেছেন, পুতিনের মূল লক্ষ্য এখনও ইউক্রেন দখল করা এবং তিনি বিশ্বাসযোগ্য নন।
যুক্তরাজ্য পর্দার আড়ালে থেকে মার্কিন সামরিক সাহায্য এবং গোয়েন্দা তথ্য পুনরুদ্ধারের চেষ্টা করছে। তবে এটি তাদের প্রতিরক্ষা এবং স্টর্ম শ্যাডো ক্ষেপণাস্ত্রের ক্ষমতা সীমিত করতে পারে।
ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী কিয়র স্টারমার বলেছেন, ‘যুদ্ধ চলছে এবং এখন শুধু চুক্তির জন্য অপেক্ষা করতে হবে, এটি মনে করা ভুল।’
ক্যাটাগরিঃ অর্থনীতি
ট্যাগঃ
মন্তব্য করুন