বিশ্বে জীবাশ্ম জ্বালানি খাতের ৪০ শতাংশ কার্বন নিঃসরণ করে ২০ প্রতিষ্ঠান – The Finance BD
 ঢাকা     শনিবার, ০৫ এপ্রিল ২০২৫, ০৬:৩৫ পূর্বাহ্ন

বিশ্বে জীবাশ্ম জ্বালানি খাতের ৪০ শতাংশ কার্বন নিঃসরণ করে ২০ প্রতিষ্ঠান

  • ০৬/০৩/২০২৫

এর মধ্যে ১৬টি প্রতিষ্ঠানই রাষ্ট্রায়ত্ত, এবং বিশেষভাবে চীনের সরকারি কোম্পানিগুলো সবচেয়ে বেশি নির্গমন ঘটিয়েছে। ২০২৩ সালে বৈশ্বিক জীবাশ্ম জ্বালানি খাত থেকে নির্গত মোট কার্বন ডাই অক্সাইডের ৪০ দশমিক ৮ শতাংশের জন্য মাত্র ২০টি তেল, গ্যাস, কয়লা ও সিমেন্ট উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান দায়ী ছিল। এসব প্রতিষ্ঠান থেকে নির্গমন হয়েছে ১৭ দশমিক ৫ গিগাটন কার্বন ডাই অক্সাইড। এর মধ্যে ১৬টি প্রতিষ্ঠানই রাষ্ট্রায়ত্ত, এবং বিশেষভাবে চীনের সরকারি কোম্পানিগুলো সবচেয়ে বেশি নির্গমন ঘটিয়েছে, যা এককভাবে বৈশ্বিক মোট নির্গমনের ২৩ শতাংশ। ব্রিটিশ গবেষণা সংস্থা ইনফ্লুয়েন্সম্যাপের প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে। সংস্থাটির ‘কার্বন মেজর্স’ ডাটাবেসের ভিত্তিতে তৈরি প্রতিবেদনে বিশ্বের শীর্ষ জীবাশ্ম জ্বালানি ও সিমেন্ট উৎপাদক প্রতিষ্ঠানগুলোর জলবায়ুর ওপর প্রভাব বিশ্লেষণ করা হয়েছে।
২০২৩ সালের তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বব্যাপী ১৬৯টি সক্রিয় প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম পর্যালোচনার পর দেখা গেছে, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব বাড়তে থাকলেও ২০২২ সালের তুলনায় ২০২৩ সালে এসব প্রতিষ্ঠানের সামগ্রিক নির্গমন শূন্য দশমিক ৭ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।
বিশ্বে সবচেয়ে বেশি কার্বন নির্গমন ঘটিয়েছে সৌদি আরবের রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান ‘সৌদি আরামকো’। এরপর রয়েছে ভারতের ‘কোল ইন্ডিয়া’, চীনের ‘সিএইচএন এনার্জি’, ইরানের ‘ন্যাশনাল ইরানিয়ান অয়েল কোম্পানি’, চীনের ‘জিননেং গ্রুপ’ এবং রাশিয়ার ‘গ্যাজপ্রম’। এসব প্রতিষ্ঠান একসঙ্গে জীবাশ্ম খাতের মোট নির্গমনের প্রায় ২০ শতাংশের জন্য দায়ী।
বেসরকারি মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানগুলোর অবস্থান তুলনামূলক নিচের দিকে। তালিকায় প্রথম শীর্ষ ১৩টি প্রতিষ্ঠানই রাষ্ট্রায়ত্ত, এবং ১৪তম স্থানে রয়েছে মার্কিন প্রতিষ্ঠান এক্সনমোবিল। এরপর রয়েছে শেভরন, শেল, টোটালএনার্জিস ও বিপি।
এই পাঁচটি প্রতিষ্ঠান একসঙ্গে ২০২৩ সালের মোট বৈশ্বিক কার্বন ডাই অক্সাইড নির্গমনের ৪ দশমিক ৯ শতাংশ ঘটিয়েছে। স্পেনের ‘রেপসল’ প্রতিষ্ঠানটি তালিকার ৮৯তম স্থানে রয়েছে, যার নির্গমন হার শূন্য দশমিক ২ শতাংশ।
ইনফ্লুয়েন্সম্যাপের বিশ্লেষক এবং প্রতিবেদনটির সহ-লেখক এমেট কনায়ের জানান, ‘বৈশ্বিক জলবায়ু প্রতিশ্রুতির পরও বিশ্বের শীর্ষ কয়েকটি জীবাশ্ম জ্বালানি উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান উৎপাদন ও নির্গমন বাড়িয়ে চলেছে। এটি জলবায়ু সংকটে তাদের বৈষম্যপূর্ণ প্রভাব স্পষ্টভাবে তুলে ধরে।’
প্রতিবেদন অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রে ইতোমধ্যে কিছু প্রতিষ্ঠান জলবায়ু দায়বদ্ধতার আইনের আওতায় আইনি জটিলতার সম্মুখীন হচ্ছে। ‘কার্বন মেজর্স’ ডাটাবেসটি জলবায়ু পরিবর্তনবিরোধী প্রচারণা ও আইনি পদক্ষেপে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। নিউইয়র্ক ও ভারমন্টসহ কয়েকটি অঙ্গরাজ্যের জলবায়ু দায়বদ্ধতা আইন অনুযায়ী কর্পোরেট দায়বদ্ধতা মূল্যায়নে এটি ব্যবহার করা হচ্ছে।
প্রতিষ্ঠানগুলোর নির্গমনের হিসাব নির্ধারণে দুটি প্রধান উৎস বিবেচনায় নেওয়া হয়। প্রথমত, প্রতিষ্ঠানগুলোর বাজারজাত পণ্যের জ্বালানি হিসেবে ব্যবহারের ফলে নির্গত কার্বন ডাই অক্সাইড। দ্বিতীয়ত, তাদের নিজস্ব উৎপাদন কার্যক্রম থেকে সরাসরি নির্গত গ্যাস।
২০২৩ সালে কয়লা ছিল সবচেয়ে বেশি নির্গমনের উৎস, যা মোট নির্গমনের ৪১ দশমিক ১ শতাংশের জন্য দায়ী। তবে গবেষকরা সিমেন্ট শিল্পের নির্গমন বৃদ্ধির বিষয়টি নিয়ে বিশেষ উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন, কারণ ২০২৩ সালে এই খাতের নির্গমন আগের বছরের তুলনায় ৬ দশমিক ৫ শতাংশ বেড়েছে।
ইতিহাসগত দায়বদ্ধতার বিষয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়, শিল্প বিপ্লবের পর থেকে নির্গত মোট কার্বন ডাই আইক্সাইডের এক-তৃতীয়াংশেরও বেশি মাত্র ২৬টি প্রতিষ্ঠানের জন্য দায়ী। সবচেয়ে বেশি নির্গমনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে রয়েছে সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়ন ও চীনের রাষ্ট্রায়ত্ত কয়লা উৎপাদকরা, সৌদি আরামকো, শেভরন এবং এক্সনমোবিল। ১৮৫৪ সাল থেকে এখন পর্যন্ত এই পাঁচটি প্রতিষ্ঠান বৈশ্বিক নির্গমনের ২০ দশমিক ৯ শতাংশের জন্য দায়ী।

ক্যাটাগরিঃ অর্থনীতি

ট্যাগঃ

মন্তব্য করুন

Leave a Reply




Contact Us