যুক্তরাষ্ট্র ও ইউক্রেন এখন খনিজ চুক্তি স্বাক্ষরের পরিকল্পনা করছে: সূত্র – The Finance BD
 ঢাকা     শনিবার, ০৫ এপ্রিল ২০২৫, ০৪:১৫ পূর্বাহ্ন

যুক্তরাষ্ট্র ও ইউক্রেন এখন খনিজ চুক্তি স্বাক্ষরের পরিকল্পনা করছে: সূত্র

  • ০৫/০৩/২০২৫

শুক্রবার ওভাল অফিসে ট্রাম্প এবং জেলেনস্কির মধ্যে উত্তপ্ত বৈঠকের পর এই চুক্তি স্থগিত করা হয়। এই চুক্তি স্বাক্ষর করতে জেলেনস্কি ওয়াশিংটনে গিয়েছিলেন।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন এবং ইউক্রেন একটি খনিজসম্পদ চুক্তি স্বাক্ষরের পরিকল্পনা করছে। গত শুক্রবার হোয়াইট হাউজের ওভাল অফিসে দুই নেতার মধ্যকার এক উত্তপ্ত বৈঠকের পর এ চুক্তি ভেস্তে গিয়েছিল। পরিস্থিতি সম্পর্কে অবগত চারজন ব্যক্তি গতকাল মঙ্গলবার (৪ মার্চ) এ তথ্য জানিয়েছেন।
ট্রাম্প তার উপদেষ্টাদের জানিয়েছিলেন, মঙ্গলবার সন্ধ্যায় কংগ্রেসে দেওয়া ভাষণে তিনি এই চুক্তির ঘোষণা দিতে চান। তবে এখনো চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়নি এবং পরিস্থিতি পরিবর্তিত হতে পারে বলে তিনটি সূত্র সতর্ক করেছে।
তবে মঙ্গলবার খনিজসম্পদ চুক্তি সম্পর্কে জানতে চাইলে মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট ফক্স নিউজকে বলেন, ‘চুক্তি স্বাক্ষরের কোনো পরিকল্পনা নেই।’ ফক্স নিউজের এক প্রতিবেদকের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ দেওয়া পোস্টে এ তথ্য জানানো হয়।
এই বিষয়ে মন্তব্যের জন্য হোয়াইট হাউজের কাছে অনুরোধ জানানো হলেও তারা কোনো সাড়া দেয়নি। কিয়েভে ইউক্রেন প্রেসিডেন্টের প্রশাসন এবং ওয়াশিংটনে অবস্থিত ইউক্রেনীয় দূতাবাসও এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেনি।
শুক্রবার ওভাল অফিসে ট্রাম্প এবং জেলেনস্কির মধ্যে উত্তপ্ত বৈঠকের পর এই চুক্তি স্থগিত করা হয়। এই চুক্তি স্বাক্ষর করতে জেলেনস্কি ওয়াশিংটনে গিয়েছিলেন। ওই বৈঠকে ট্রাম্প এবং মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স জেলেনস্কিকে তিরস্কার করেন। তারা বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে অতিরিক্ত সহায়তা চাওয়ার আগে জেলেনস্কির উচিত দেশটির সমর্থনের জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা। ট্রাম্প বলেন, ‘আপনি তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের ঝুঁকি নিচ্ছেন।’
সাম্প্রতিক দিনগুলোতে মার্কিন কর্মকর্তারা কিয়েভে ইউক্রেনীয় কর্মকর্তাদের সঙ্গে এই খনিজসম্পদ চুক্তি স্বাক্ষরের বিষয়ে আলোচনা করেছেন, যদিও শুক্রবারের উত্তপ্ত পরিস্থিতির পর চুক্তি স্থগিত ছিল। পরিস্থিতি সম্পর্কে জানা এক ব্যক্তির মতে, তারা জেলেনস্কির উপদেষ্টাদের অনুরোধ করেছেন যাতে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট প্রকাশ্যে ট্রাম্পের কাছে দুঃখপ্রকাশ করেন।
মঙ্গলবার এক্স-এ দেওয়া এক পোস্টে জেলেনস্কি জানান, ইউক্রেন চুক্তি স্বাক্ষরের জন্য প্রস্তুত এবং ওভাল অফিস বৈঠককে তিনি ‘দুঃখজনক’ বলে উল্লেখ করেন। জেলেনস্কি তার পোস্টে বলেন, ‘শুক্রবার ওয়াশিংটনে হোয়াইট হাউজে আমাদের বৈঠক প্রত্যাশিতভাবে এগোয়নি। স্থায়ী শান্তি আনতে ইউক্রেন যত দ্রুত সম্ভব আলোচনার টেবিলে আসতে প্রস্তুত।’
চুক্তিটি পরিবর্তিত হয়েছে কি না, তা স্পষ্ট নয়। গত সপ্তাহে স্বাক্ষরের অপেক্ষায় থাকা চুক্তিতে ইউক্রেনের জন্য কোনো স্পষ্ট নিরাপত্তা নিশ্চয়তা ছিল না। তবে এটি যুক্তরাষ্ট্রকে ইউক্রেনের প্রাকৃতিক সম্পদ থেকে প্রাপ্ত আয়ের অংশে প্রবেশাধিকার দিত। চুক্তিতে ইউক্রেন সরকারের পক্ষ থেকে রাষ্ট্রায়ত্ত প্রাকৃতিক সম্পদের ভবিষ্যৎ আয় থেকে ৫০ শতাংশ একটি যুক্তরাষ্ট্র-ইউক্রেন পরিচালিত পুনর্গঠন বিনিয়োগ তহবিলে দেওয়ার পরিকল্পনা ছিল। সোমবার ট্রাম্প ইঙ্গিত দেন, তাঁর প্রশাসন এখনো চুক্তি স্বাক্ষরে আগ্রহী। সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, ইউক্রেনের আরও কৃতজ্ঞ হওয়া উচিত।
ট্রাম্প বলেন, ‘এই দেশ (যুক্তরাষ্ট্র) তাদের পাশে ছিল সকল সংকট ও সফলতায়। আমরা ইউরোপের চেয়ে অনেক বেশি দিয়েছি এবং ইউরোপের আমাদের চেয়ে বেশি দেওয়া উচিত ছিল।’
ফ্রান্স, ব্রিটেন এবং সম্ভবত আরও কয়েকটি ইউরোপীয় দেশ যুদ্ধবিরতির শর্তে ইউক্রেনে শান্তিরক্ষী সেনা পাঠানোর প্রস্তাব দিয়েছে। তবে তারা যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থন বা একটি ‘ব্যাকস্টপ’ চাইবে। মস্কো এই প্রস্তাবে আপত্তি জানিয়েছে।
হোয়াইট হাউজের সাবেক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং পোল্যান্ডে নিযুক্ত সাবেক রাষ্ট্রদূত ড্যানিয়েল ফ্রিড বলেছেন, খনিজসম্পদ চুক্তি সম্পন্ন করার পথটি অগোছালো হয়েছে। তবে এটি ট্রাম্পের জন্য দুটি বড় বিজয় আনতে পারে– জেলেনস্কির দুঃখপ্রকাশ এবং ইউক্রেনের নিরাপত্তার জন্য ব্রিটেন ও ফ্রান্সের সেনা মোতায়েনের সম্মতি।
ফ্রিড বলেন, ‘ট্রাম্প এই বিজয় গ্রহণ করতে পারেন এবং করা উচিত। তিনি বলতে পারবেন যে তিনি ইউরোপীয়দের এমন একটি নিরাপত্তা ইস্যুতে সক্রিয় করেছেন, যা তারা আগে কখনো করেনি।’

ক্যাটাগরিঃ অর্থনীতি

ট্যাগঃ

মন্তব্য করুন

Leave a Reply




Contact Us