পরিকল্পনাটি গাজার জন্য একটি সাময়িক প্রশাসনিক কমিটি গঠনের কথা বলেছে, যা ফিলিস্তিনি সরকারের অধীনে পরিচালিত হবে। তবে এতে হামাসের ভবিষ্যৎ ভূমিকা স্পষ্ট নয়। কায়রোতে এক জরুরি সম্মেলনে আরব নেতারা গাজার পুনর্গঠনের জন্য ৫৩ বিলিয়ন ডলার মূল্যের একটি পরিকল্পনা অনুমোদন করেছেন। এটি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের গাজা দখল ও ফিলিস্তিনিদের উচ্ছেদের প্রস্তাবের বিকল্প হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (৪ মার্চ) এ সম্মেলনে আরব লীগের সেক্রেটারি জেনারেল আহমেদ আবুল গেইত ঘোষণা করেছেন, মিসরের পরিকল্পনাই এখন আরব পরিকল্পনা এবং তিনি জোর দিয়ে বলেছেন যে, আরব বিশ্ব কোনো ধরনের স্থানচ্যুতি মেনে নেবে না।
মিসরের প্রস্তাবটি শুধু অবকাঠামোগত উন্নয়নের জন্য নয়, বরং ফিলিস্তিনিদের রাজনৈতিক অধিকার নিশ্চিত করার ওপরও গুরুত্ব দেয়। মিসরের প্রেসিডেন্ট আবদেল ফাত্তাহ আল-সিসি দুই-রাষ্ট্র ভিত্তিক সমাধানের ওপর জোর দেন, যেখানে ইসরায়েলের পাশাপাশি একটি স্বাধীন ফিলিস্তিনি রাষ্ট্র গঠিত হবে। তবে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এই সমাধানকে সম্পূর্ণভাবে প্রত্যাখ্যান করেছেন।
পরিকল্পনাটি গাজার জন্য একটি সাময়িক প্রশাসনিক কমিটি গঠনের কথা বলেছে, যা ফিলিস্তিনি সরকারের অধীনে পরিচালিত হবে। তবে এতে হামাসের ভবিষ্যৎ ভূমিকা স্পষ্ট নয়। কিছু আরব দেশ হামাস সম্পূর্ণভাবে বিলুপ্ত করার পক্ষে, আবার কেউ মনে করেন এ সিদ্ধান্ত ফিলিস্তিনিদের নেয়া উচিত। হামাস গাজা শাসনে না থাকার ইঙ্গিত দিলেও নিরস্ত্র হওয়ার শর্ত প্রত্যাখ্যান করেছে।
নেতানিয়াহু আগেই জানিয়ে দিয়েছেন, তিনি হামাস বা ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের কোনো ভূমিকা চান না।
মিসরের প্রেসিডেন্ট বলেন, গাজায় প্রশাসন পরিচালনা করবে— স্বতন্ত্র, পেশাদার টেকনোক্র্যাটদের সমন্বয়ে এমন একটি কমিটি গঠনে ফিলিস্তিনিদের সঙ্গে কাজ করে আসছেন তিনি। ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের (পিএ) হাতে দায়িত্ব হস্তান্তরের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে সাময়িক সময়ের জন্য মানবিক সহায়তা তদারক এবং উপত্যকাটির বিভিন্ন বিষয় দেখভাল করবে এই কমিটি। মিসরের পরিকল্পনাকে স্বাগত জানিয়েছেন ফিলিস্তিনের প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাস। বাসিন্দাদের বাস্তুচ্যুত না করার এ ধরনের পরিকল্পনায় সমর্থন দিতে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের প্রতিও আহ্বান জানান তিনি। খবরঃ বিবিসি।
ক্যাটাগরিঃ অর্থনীতি
ট্যাগঃ
মন্তব্য করুন