ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের মুখপাত্র ব্রায়ান হিউজ মঙ্গলবার রাতে এক বিবৃতিতে বলেন, “প্রস্তাবটি বাস্তবসম্মত নয়।”
ট্রাম্প প্রশাসন আরব নেতাদের অনুমোদিত গাজার পুনর্গঠনের দীর্ঘ-প্রতীক্ষিত পরিকল্পনা প্রত্যাখ্যান করেছে। হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, প্রেসিডেন্ট তার নিজস্ব দৃষ্টিভঙ্গিতেই অটল রয়েছেন। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গাজার ফিলিস্তিনি বাসিন্দাদের সরিয়ে সেখানে যুক্তরাষ্ট্রের মালিকানাধীন ‘রিভেরা’ গড়ে তোলার প্রস্তাবেই অটল আছেন।
ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের মুখপাত্র ব্রায়ান হিউজ মঙ্গলবার রাতে এক বিবৃতিতে বলেন, “প্রস্তাবটি বাস্তবসম্মত নয়। গাজা বর্তমানে বসবাসের অনুপযোগী এবং এখানকার মানুষ ধ্বংসস্তূপ ও অবিস্ফোরিত অস্ত্রের মধ্যে মানবেতর জীবনযাপন করছে।”
তিনি আরও বলেন, “প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প হামাসমুক্ত গাজা পুনর্গঠনের বিষয়ে তাঁর অবস্থান বজায় রেখেছেন। আমরা এই অঞ্চলে শান্তি ও সমৃদ্ধি আনতে আরও আলোচনার অপেক্ষায় আছি।”
মিশরের প্রস্তাবিত যুদ্ধোত্তর পরিকল্পনা অনুযায়ী, একটি সংস্কারকৃত ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ নিয়ন্ত্রণ গ্রহণ না করা পর্যন্ত হামাসকে অন্তর্বর্তী প্রশাসনের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করতে হবে। এতে প্রায় ২০ লাখ ফিলিস্তিনি গাজায় থেকেই পুনর্বাসিত হওয়ার সুযোগ পেতেন, যা ট্রাম্পের প্রস্তাবের সঙ্গে সাংঘর্ষিক।
ইসরায়েল গাজায় ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের যেকোনো ধরনের ভূমিকা স্পষ্টভাবে প্রত্যাখ্যান করেছে। আরব দেশগুলোর ৫৩ বিলিয়ন ডলারের প্রস্তাবে ২০৩০ সালের মধ্যে গাজা পুনর্নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয়েছে। প্রথম ধাপে অবিস্ফোরিত অস্ত্র অপসারণ এবং ইসরায়েলের বোমাবর্ষণ ও সামরিক অভিযানে সৃষ্ট ৫০ মিলিয়ন টনেরও বেশি ধ্বংসস্তূপ পরিষ্কারের আহ্বান জানানো হয়েছে।
বর্তমান যুদ্ধবিরতি জানুয়ারি থেকে কার্যকর থাকলেও এর মেয়াদ শনিবার শেষ হওয়ার কথা। ইসরায়েল ৭ অক্টোবর ২০২৩-এ হামাসের হামলার পর যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়ানো এবং যুদ্ধের সূত্রপাতকারী জিম্মিদের মুক্তির জন্য বিকল্প একটি মার্কিন প্রস্তাব গ্রহণ করেছে।
হামাসকে চুক্তি মানতে বাধ্য করতে ইসরায়েল গাজায় খাদ্য, জ্বালানি, ওষুধসহ অন্যান্য প্রয়োজনীয় সরবরাহ বন্ধ করে দিয়েছে। এতে যুদ্ধ ফের শুরু হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে এবং ইসরায়েল সম্ভাব্য আরও কঠোর পদক্ষেপের হুঁশিয়ারি দিয়েছে।
মানবাধিকার গোষ্ঠীগুলো এই সহায়তা স্থগিতের তীব্র সমালোচনা করেছে, কারণ তারা মনে করে এটি আন্তর্জাতিক আইনের অধীনে দখলকারী শক্তি হিসেবে ইসরায়েলের দায়িত্বের লঙ্ঘন। জার ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে এক শীর্ষ সম্মেলনে মিশরের প্রেসিডেন্ট আবদেল ফাত্তাহ আল-সিসি বলেন, “ফিলিস্তিনি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা ছাড়া সত্যিকারের শান্তি সম্ভব নয়।”
ইসরায়েল গাজা ও পশ্চিম তীর উভয়ের ওপর নিরাপত্তা নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। ১৯৬৭ সালের মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধের পর অঞ্চল দুটি দখল করে ইসরায়েল। ইসরায়েলের সরকার ও বেশিরভাগ রাজনৈতিক দল ফিলিস্তিনি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার ঘোর বিরোধী।
ক্যাটাগরিঃ অর্থনীতি
ট্যাগঃ
মন্তব্য করুন